ঢাকা ১১:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ৩৬ বছরের ক্যারিয়ার নিয়ে মুখ খুললেন অক্ষয় কুমার Logo এমজিআই শীর্ষে: ডেল্টার দুর্দান্ত উত্থান, সিটি গ্রুপ পিছিয়ে চতুর্থে Logo চীনের নেতৃত্বে ২৯ দেশের এআই জোট, যুক্তরাষ্ট্রের দুশ্চিন্তা কেন? Logo বিটিএস কনসার্ট: অবিশ্বাস্য রেকর্ড, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টও ছিলেন দর্শক Logo এফবিসিসিআই বিধিমালা পরিবর্তন: পর্ষদ ৪৮, চাঁদা কমছে, ভোটে বড় পরিবর্তন Logo বাংলাদেশ ব্যাংক-ভুটান বৈঠক: আর্থিক সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনার শক্তিশালী বার্তা Logo ঢাকায় আজ কেমন থাকবে আবহাওয়া Logo চতুর্থ সন্তানের বাবা হলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স Logo শরিক দলের শীর্ষ নেতাদের যমুনায় আমন্ত্রণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী Logo গাভির এক মন্তব্যেই চড়াও হন আর্জেন্টিনার পারেদেস

দারুণ পরিকল্পনা: এলডিসি উত্তরণে ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার

রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের নতুন উদ্যোগ। ছবি: সংগৃহীত

এলডিসি উত্তরণ সামনে রেখে বাংলাদেশ সরকার নতুন করে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের প্রতিযোগিতা ধরে রাখা, রপ্তানি খাতকে আরও শক্তিশালী করা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা। সরকার মনে করছে, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর নতুন বাস্তবতায় অর্থনীতিকে আরও সক্ষম করতে এখন থেকেই কার্যকর প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্ট (সিপিডি) ভ্যালিডেশন কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে জানানো হয়, নতুন কর্মপরিকল্পনায় মোট ১২টি অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আগামী দিনের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই কর্মপরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য সহজীকরণ, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও গবেষণাকে আরও শক্তিশালী করা এবং বিভিন্ন খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে এলডিসি উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।

তবে কর্মপরিকল্পনার বিস্তারিত বাস্তবায়ন কৌশল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। কোন কার্যক্রম কখন শুরু হবে, কত অর্থ ব্যয় হবে, কোন উন্নয়ন সহযোগী কী পরিমাণ অর্থায়ন করবে কিংবা কোন প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে—এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এছাড়া ইআইএফ-এর আগের দুই ধাপের সুপারিশ কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

আগামী ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের নির্ধারিত সময়। বর্তমান সরকার এই সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়ানোর আবেদন করলেও জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) সীমিত সময় বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি আর্থিক খাত, রাজস্ব ব্যবস্থা এবং নীতিগত সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খান বলেন, শুধু পরিকল্পনা বা গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করলেই হবে না, বাস্তবে তার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখাই হবে আগামী দিনের বড় লক্ষ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও সময়মতো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতি নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

৩৬ বছরের ক্যারিয়ার নিয়ে মুখ খুললেন অক্ষয় কুমার

দারুণ পরিকল্পনা: এলডিসি উত্তরণে ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার

Update Time : ০৮:৩৭:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

এলডিসি উত্তরণ সামনে রেখে বাংলাদেশ সরকার নতুন করে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের প্রতিযোগিতা ধরে রাখা, রপ্তানি খাতকে আরও শক্তিশালী করা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা। সরকার মনে করছে, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর নতুন বাস্তবতায় অর্থনীতিকে আরও সক্ষম করতে এখন থেকেই কার্যকর প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্ট (সিপিডি) ভ্যালিডেশন কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে জানানো হয়, নতুন কর্মপরিকল্পনায় মোট ১২টি অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আগামী দিনের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন  পর্তুগালকে সমতায় ফেরালেন রোনালদো

এই কর্মপরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য সহজীকরণ, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও গবেষণাকে আরও শক্তিশালী করা এবং বিভিন্ন খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে এলডিসি উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।

তবে কর্মপরিকল্পনার বিস্তারিত বাস্তবায়ন কৌশল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। কোন কার্যক্রম কখন শুরু হবে, কত অর্থ ব্যয় হবে, কোন উন্নয়ন সহযোগী কী পরিমাণ অর্থায়ন করবে কিংবা কোন প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে—এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এছাড়া ইআইএফ-এর আগের দুই ধাপের সুপারিশ কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

আরও পড়ুন  ছয় মাসে তুরস্কের আকাশপথ ব্যবহার করেছে ১১ লাখের বেশি ফ্লাইট

আগামী ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের নির্ধারিত সময়। বর্তমান সরকার এই সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়ানোর আবেদন করলেও জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) সীমিত সময় বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি আর্থিক খাত, রাজস্ব ব্যবস্থা এবং নীতিগত সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খান বলেন, শুধু পরিকল্পনা বা গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করলেই হবে না, বাস্তবে তার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখাই হবে আগামী দিনের বড় লক্ষ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও সময়মতো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতি নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।

আরও পড়ুন  অক্টোবর–ডিসেম্বরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে ৩ শতাংশে, বৈশ্বিক সংকটে বাড়ছে দুশ্চিন্তা