বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার রোমাঞ্চকর ম্যাচকে ঘিরে তৈরি হওয়া রেফারি বিতর্কে অবশেষে মুখ খুলেছেন লিওনেল মেসি। মিশরীয় শিবিরের পক্ষ থেকে রেফারির সিদ্ধান্তকে পক্ষপাতদুষ্ট বলা হলেও আর্জেন্টিনা অধিনায়ক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ম্যাচ পরিচালনায় কোনো সমস্যা দেখেননি তিনি। বরং তাঁর মতে, রেফারির বেশিরভাগ সিদ্ধান্তই ছিল সঠিক এবং প্রায় নিখুঁত।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুললে মেসি সরাসরি তার জবাব দেন। তিনি বলেন, রেফারির পারফরম্যান্স নিয়ে তাঁর কোনো অভিযোগ নেই। ম্যাচের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে কর্মকর্তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেই বিশ্বাস করেন আর্জেন্টাইন এই তারকা।
মেসি বলেন, “সত্যি বলতে, রেফারিং চমৎকার হয়েছে। প্রতিটি সিদ্ধান্তই ছিল প্রায় নিখুঁত। আপনারা আমাকে বলুন রেফারির কোন সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল? আমি রেফারিংয়ের সিদ্ধান্তগুলোতে অত্যন্ত সন্তুষ্ট।” তাঁর এই মন্তব্য ইতোমধ্যে ফুটবল বিশ্বে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নাটকীয়তায় ভরপুর ছিল লড়াইটি। এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে যাচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। দুই অর্ধে ইয়াসের ইব্রাহিম ও মোস্তফা জিকোর গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মিশর।
তবে ম্যাচের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মিশরের আরেকটি গোল ভিএআর পর্যালোচনার মাধ্যমে বাতিল করা হয়। সেই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই সবচেয়ে বেশি বিতর্কের জন্ম হয়। মিশরীয় ফুটবলার, কোচ এবং সমর্থকদের অনেকেই দাবি করেন, গোলটি বাতিল করা উচিত হয়নি।
এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন মেসি। তাঁর মতে, ভিএআর যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে তা পুরোপুরি সঠিক ছিল। গোল হওয়ার আগে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে ফাউল করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
মেসি বলেন, “সত্যি বলতে, এখানে বিতর্কের কী আছে আমি বুঝি না। এটা যদি আপনার কাছে ফাউল মনে না হয়, তাহলে হয়তো ফুটবল খেলাটা আপনার জন্য নয়। বল লাইনের ভেতরে ঢোকার আগেই ওদের খেলোয়াড় পরিষ্কারভাবে মার্তিনেসকে মাড়িয়ে দিয়েছিল। মাঠের এমন জটিল পরিস্থিতি সামাল দিতেই ভিএআর প্রয়োজন।”
তিনি আরও যোগ করেন, আধুনিক ফুটবলে প্রযুক্তির ব্যবহার ম্যাচের ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখছে। রেফারি ও ভিএআর কর্মকর্তারা পুরো ম্যাচজুড়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন বলেও মন্তব্য করেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফুটবলার।
অন্যদিকে মিশরীয় কোচ হোসাম হাসান এবং স্ট্রাইকার মোস্তফা জিকো ম্যাচের পর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা প্রকাশ্যে টুর্নামেন্টে ‘প্রতারণা’ এবং ‘ম্যাচ ফিক্সিং’-এর মতো গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার পক্ষেই গেছে।
তবে মাঠের খেলায় শেষ হাসি হেসেছে আর্জেন্টিনা। দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে আলবিসেলেস্তেরা। সেই কামব্যাকের মূল নায়ক ছিলেন মেসি নিজেই। তিনি একটি গোল করেন এবং আরেকটি গোলে অ্যাসিস্ট করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে বিতর্ক, ক্ষোভ ও হতাশা নিয়েই বিশ্বকাপ মিশন শেষ হলো মিশরের।
কোয়ার্টার ফাইনালে এখন আর্জেন্টিনার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। শেষ আটের লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। রেফারি বিতর্কের আলোচনা চলতে থাকলেও আর্জেন্টিনার লক্ষ্য এখন একটাই—আরও এক ধাপ এগিয়ে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা।


























