ঢাকা ০৭:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ঘাড় থেকে হাতে ব্যথা? হতে পারে থোরাসিক আউটলেট সিনড্রোম Logo ঘরবাড়ি ধুলাবালিমুক্ত রাখার ৯টি সহজ ও কার্যকর উপায় Logo Grok 4.5 উন্মোচন করল SpaceXAI, কম খরচে আরও শক্তিশালী AI মডেলের দাবি Logo অফিস থেকে আগে বের হওয়ার গ্রহণযোগ্য ৬ অজুহাত Logo ৪০টি হীরা, বিরল রুবি আর ১৩১ কারিগরের তৈরি গৌরী স্প্র্যাটের বিয়ের আংটি Logo নতুন গল্প,আবেগ আর চমক নিয়ে ফিরছেন জয়া আহসান। Logo বর্ষাকালে ক্যামেরা ও লেন্স সুরক্ষার ১২ কার্যকর টিপস Logo চুল পড়া কমাতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, খাবারে রাখুন এই ৫টি খাবার Logo দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে সোনার বাংলা সার্কাসের ‘মহাশ্মশান যাত্রা’ Logo ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের ঘোষণা, বিশ্ব পরিবেশ দিবসে প্রধানমন্ত্রীর নতুন উদ্যোগ

চুল পড়া কমাতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, খাবারে রাখুন এই ৫টি খাবার

সঠিক খাদ্যাভ্যাসেই মিলতে পারে সুস্থ ও মজবুত চুলের সমাধান।

চুল পড়া নিয়ে উদ্বেগে ভোগেন অনেকেই। বিশেষ করে বর্ষাকালে গোসলের সময় অতিরিক্ত চুল ঝরে পড়তে দেখলে দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যায়। অনেকেই এর জন্য আবহাওয়া বা মানসিক চাপকে দায়ী করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে চুল পড়ার মূল কারণ লুকিয়ে থাকে দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে। শরীরে প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি তৈরি হলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায় এবং স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চুল ঝরে পড়তে শুরু করে।

কসমেটোলজিস্ট ও শোভন মেকওভারের স্বত্বাধিকারী শোভন সাহার মতে, শুধু দামি শ্যাম্পু, সিরাম বা হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করলেই চুল ভালো থাকবে না। ভেতর থেকে পুষ্টি নিশ্চিত করাই স্বাস্থ্যকর চুলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তিনি জানান, আয়রন, ফলিক অ্যাসিড, প্রোটিন, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২, জিংক এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ঘাটতি চুল পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ।

কেন বাড়ছে চুল পড়ার সমস্যা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু দৈনন্দিন অভ্যাসও চুল পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। যেমন—

  • ক্র্যাশ ডায়েট বা অতিরিক্ত কম ক্যালরির খাবার খাওয়া
  • অনিয়মিত খাবার গ্রহণ
  • পর্যাপ্ত প্রোটিন না খাওয়া
  • অতিরিক্ত ক্যাফেইন পান
  • শরীরে পানিশূন্যতা
  • দীর্ঘদিন আয়রনের ঘাটতি
  • ভিটামিন ও খনিজের অভাব

এসব কারণে চুলের ফলিকল স্বাভাবিক বৃদ্ধির চক্র থেকে আগেই বেরিয়ে আসে, ফলে দ্রুত চুল ঝরে পড়তে শুরু করে।

চুল পড়া কমাতে যে ৫টি খাবার খাওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞের

১. আমলকী

আমলকীকে চুলের জন্য অন্যতম উপকারী ফল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি ও শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

উপকারিতা:

  • কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে।
  • আয়রন শোষণ বাড়ায়।
  • চুলের ফলিকলকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।
  • চুলের গোড়া শক্ত রাখতে সাহায্য করে।

২. পালংশাক

সবুজ শাকসবজির মধ্যে পালংশাক পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে আয়রন, ফোলেট ও ভিটামিন এ।

উপকারিতা:

  • মাথার ত্বকে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ায়।
  • আয়রনের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে।
  • চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখে।
  • চুলের গোড়া মজবুত করে।

৩. অঙ্কুরিত মুগ ডাল

উদ্ভিদভিত্তিক প্রোটিনের অন্যতম ভালো উৎস অঙ্কুরিত মুগ ডাল।

উপকারিতা:

  • বায়োটিন ও অ্যামিনো অ্যাসিড সরবরাহ করে।
  • চুলের গোড়া শক্তিশালী করে।
  • সহজে হজম হওয়ায় শরীর দ্রুত পুষ্টি শোষণ করতে পারে।
  • নতুন চুল গজাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

৪. চিয়া বীজ

ছোট হলেও পুষ্টিগুণে ভরপুর চিয়া বীজ।

উপকারিতা:

  • ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভালো উৎস।
  • মাথার ত্বকের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
  • শুষ্ক ও চুলকানিযুক্ত স্ক্যাল্পের সমস্যা কমায়।
  • চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর চর্বি সরবরাহ করে।

৫. পনির

নিরামিষভোজীদের জন্য পনির উচ্চমানের প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস।

উপকারিতা:

  • কেরাটিন তৈরিতে সহায়তা করে।
  • চুলের গঠন শক্তিশালী করে।
  • ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে।
  • চুল ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা কমায়।

শুধু ভালো খাবার খেলেই হবে না

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি কিছু খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করাও জরুরি। কারণ এগুলো চুলের ক্ষতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

যেসব অভ্যাস এড়িয়ে চলবেন—

  • দীর্ঘদিন কম প্রোটিনযুক্ত ডায়েট অনুসরণ করা
  • শুধু সালাদ বা স্মুদি নির্ভর খাদ্যাভ্যাস
  • রাত জাগা
  • অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম
  • নিয়ন্ত্রণহীন অতিরিক্ত ব্যায়াম
  • অলস জীবনযাপন
  • দীর্ঘদিনের অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা বা অন্ত্রের সমস্যাকে অবহেলা করা

বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে শরীর আয়রন, জিংক ও বি-ভিটামিন ঠিকভাবে শোষণ করতে পারে না। ফলে পর্যাপ্ত খাবার খেলেও চুল প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

চুল পড়া কমাতে শুধু বাহ্যিক পরিচর্যার ওপর নির্ভর না করে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি সমৃদ্ধ খাবার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ধরে রাখা সহজ হয়।

চুল পড়া দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিকভাবে চলতে থাকলে বা মাথার নির্দিষ্ট অংশে টাকের মতো সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘাড় থেকে হাতে ব্যথা? হতে পারে থোরাসিক আউটলেট সিনড্রোম

চুল পড়া কমাতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, খাবারে রাখুন এই ৫টি খাবার

Update Time : ০৫:০৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

চুল পড়া নিয়ে উদ্বেগে ভোগেন অনেকেই। বিশেষ করে বর্ষাকালে গোসলের সময় অতিরিক্ত চুল ঝরে পড়তে দেখলে দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যায়। অনেকেই এর জন্য আবহাওয়া বা মানসিক চাপকে দায়ী করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে চুল পড়ার মূল কারণ লুকিয়ে থাকে দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে। শরীরে প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি তৈরি হলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায় এবং স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চুল ঝরে পড়তে শুরু করে।

কসমেটোলজিস্ট ও শোভন মেকওভারের স্বত্বাধিকারী শোভন সাহার মতে, শুধু দামি শ্যাম্পু, সিরাম বা হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করলেই চুল ভালো থাকবে না। ভেতর থেকে পুষ্টি নিশ্চিত করাই স্বাস্থ্যকর চুলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তিনি জানান, আয়রন, ফলিক অ্যাসিড, প্রোটিন, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২, জিংক এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ঘাটতি চুল পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ।

কেন বাড়ছে চুল পড়ার সমস্যা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু দৈনন্দিন অভ্যাসও চুল পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। যেমন—

  • ক্র্যাশ ডায়েট বা অতিরিক্ত কম ক্যালরির খাবার খাওয়া
  • অনিয়মিত খাবার গ্রহণ
  • পর্যাপ্ত প্রোটিন না খাওয়া
  • অতিরিক্ত ক্যাফেইন পান
  • শরীরে পানিশূন্যতা
  • দীর্ঘদিন আয়রনের ঘাটতি
  • ভিটামিন ও খনিজের অভাব

এসব কারণে চুলের ফলিকল স্বাভাবিক বৃদ্ধির চক্র থেকে আগেই বেরিয়ে আসে, ফলে দ্রুত চুল ঝরে পড়তে শুরু করে।

চুল পড়া কমাতে যে ৫টি খাবার খাওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞের

১. আমলকী

আমলকীকে চুলের জন্য অন্যতম উপকারী ফল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি ও শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

উপকারিতা:

  • কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে।
  • আয়রন শোষণ বাড়ায়।
  • চুলের ফলিকলকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।
  • চুলের গোড়া শক্ত রাখতে সাহায্য করে।

২. পালংশাক

সবুজ শাকসবজির মধ্যে পালংশাক পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে আয়রন, ফোলেট ও ভিটামিন এ।

উপকারিতা:

  • মাথার ত্বকে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ায়।
  • আয়রনের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে।
  • চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখে।
  • চুলের গোড়া মজবুত করে।

৩. অঙ্কুরিত মুগ ডাল

উদ্ভিদভিত্তিক প্রোটিনের অন্যতম ভালো উৎস অঙ্কুরিত মুগ ডাল।

উপকারিতা:

  • বায়োটিন ও অ্যামিনো অ্যাসিড সরবরাহ করে।
  • চুলের গোড়া শক্তিশালী করে।
  • সহজে হজম হওয়ায় শরীর দ্রুত পুষ্টি শোষণ করতে পারে।
  • নতুন চুল গজাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

৪. চিয়া বীজ

ছোট হলেও পুষ্টিগুণে ভরপুর চিয়া বীজ।

উপকারিতা:

  • ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভালো উৎস।
  • মাথার ত্বকের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
  • শুষ্ক ও চুলকানিযুক্ত স্ক্যাল্পের সমস্যা কমায়।
  • চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর চর্বি সরবরাহ করে।

৫. পনির

নিরামিষভোজীদের জন্য পনির উচ্চমানের প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস।

উপকারিতা:

  • কেরাটিন তৈরিতে সহায়তা করে।
  • চুলের গঠন শক্তিশালী করে।
  • ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে।
  • চুল ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা কমায়।

শুধু ভালো খাবার খেলেই হবে না

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি কিছু খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করাও জরুরি। কারণ এগুলো চুলের ক্ষতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

যেসব অভ্যাস এড়িয়ে চলবেন—

  • দীর্ঘদিন কম প্রোটিনযুক্ত ডায়েট অনুসরণ করা
  • শুধু সালাদ বা স্মুদি নির্ভর খাদ্যাভ্যাস
  • রাত জাগা
  • অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম
  • নিয়ন্ত্রণহীন অতিরিক্ত ব্যায়াম
  • অলস জীবনযাপন
  • দীর্ঘদিনের অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা বা অন্ত্রের সমস্যাকে অবহেলা করা

বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে শরীর আয়রন, জিংক ও বি-ভিটামিন ঠিকভাবে শোষণ করতে পারে না। ফলে পর্যাপ্ত খাবার খেলেও চুল প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

চুল পড়া কমাতে শুধু বাহ্যিক পরিচর্যার ওপর নির্ভর না করে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি সমৃদ্ধ খাবার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ধরে রাখা সহজ হয়।

চুল পড়া দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিকভাবে চলতে থাকলে বা মাথার নির্দিষ্ট অংশে টাকের মতো সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।