ঢাকা ১০:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তত্ত্বাবধায়ক-গণভোট ফেরানোর রায় বহাল, বাকি সুরাহা সংসদে

আপিল বিভাগে পঞ্চদশ সংশোধনী সংক্রান্ত শুনানি। ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল চেয়ে ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনূস আলী আকন্দসহ কয়েকজন রিট আবেদন করেন। রিটে দাবি করা হয়, সংবিধানের কিছু মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ভারসাম্য নষ্ট করা হয়েছে। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট ওই সংশোধনীর কয়েকটি ধারা সংবিধানবিরোধী ঘোষণা করে রায় দেন।

হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষমতা সংসদের থাকলেও সেই পরিবর্তন এমন হতে পারে না, যা গণতন্ত্র, আইনের শাসন, জনগণের সার্বভৌমত্ব বা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান বাতিলের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

তবে আপিল বিভাগের সর্বশেষ রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বা গণভোট অবিলম্বে কার্যকর হচ্ছে না। আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালত হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ বহাল রাখলেও সংবিধানে এসব বিধান পুনঃস্থাপনের জন্য জাতীয় সংসদকে প্রয়োজনীয় আইন বা সাংবিধানিক সংশোধনী আনতে হবে। অর্থাৎ বিষয়টির চূড়ান্ত বাস্তবায়ন আইন প্রণেতাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখায় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার, গণভোট এবং সংবিধানের ৭ক ও ৭খ অনুচ্ছেদ নিয়ে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণও বহাল রয়েছে। তবে এগুলো বাস্তবায়নের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

অন্যদিকে, সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, আপিল বিভাগের এই রায় বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক। কারণ, এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামো (Basic Structure Doctrine) বিষয়ে আদালতের অবস্থানকে আরও সুস্পষ্ট করেছে। তবে রাজনৈতিকভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল হবে কি না, সেটি শেষ পর্যন্ত সংসদের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে।

২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাই নয়, সংবিধানের প্রস্তাবনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, কয়েকটি মৌলিক বিধান এবং একাধিক অনুচ্ছেদেও পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এসব পরিবর্তনের মধ্যে কিছু বহাল থাকলেও আদালত যেসব অংশকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে করেছেন, সেগুলো নিয়েই মূল আইনি বিতর্ক তৈরি হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, আপিল বিভাগের এ রায়ের ফলে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সংসদের ক্ষমতা ও সংবিধানের মৌলিক কাঠামো রক্ষার প্রশ্নে ভবিষ্যতের মামলাগুলোর জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি হলো।

জনপ্রিয় সংবাদ

তত্ত্বাবধায়ক-গণভোট ফেরানোর রায় বহাল, বাকি সুরাহা সংসদে

Update Time : ১০:৫৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল চেয়ে ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনূস আলী আকন্দসহ কয়েকজন রিট আবেদন করেন। রিটে দাবি করা হয়, সংবিধানের কিছু মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ভারসাম্য নষ্ট করা হয়েছে। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট ওই সংশোধনীর কয়েকটি ধারা সংবিধানবিরোধী ঘোষণা করে রায় দেন।

হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষমতা সংসদের থাকলেও সেই পরিবর্তন এমন হতে পারে না, যা গণতন্ত্র, আইনের শাসন, জনগণের সার্বভৌমত্ব বা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান বাতিলের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন  সংসদে হট্টগোল: প্রথম দিনেই উত্তপ্ত অধিবেশন

তবে আপিল বিভাগের সর্বশেষ রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বা গণভোট অবিলম্বে কার্যকর হচ্ছে না। আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালত হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ বহাল রাখলেও সংবিধানে এসব বিধান পুনঃস্থাপনের জন্য জাতীয় সংসদকে প্রয়োজনীয় আইন বা সাংবিধানিক সংশোধনী আনতে হবে। অর্থাৎ বিষয়টির চূড়ান্ত বাস্তবায়ন আইন প্রণেতাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখায় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার, গণভোট এবং সংবিধানের ৭ক ও ৭খ অনুচ্ছেদ নিয়ে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণও বহাল রয়েছে। তবে এগুলো বাস্তবায়নের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

আরও পড়ুন  একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কোনো চেষ্টা নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অন্যদিকে, সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, আপিল বিভাগের এই রায় বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক। কারণ, এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামো (Basic Structure Doctrine) বিষয়ে আদালতের অবস্থানকে আরও সুস্পষ্ট করেছে। তবে রাজনৈতিকভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল হবে কি না, সেটি শেষ পর্যন্ত সংসদের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে।

২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাই নয়, সংবিধানের প্রস্তাবনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, কয়েকটি মৌলিক বিধান এবং একাধিক অনুচ্ছেদেও পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এসব পরিবর্তনের মধ্যে কিছু বহাল থাকলেও আদালত যেসব অংশকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে করেছেন, সেগুলো নিয়েই মূল আইনি বিতর্ক তৈরি হয়।

আরও পড়ুন  যারা ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলছে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্লেষকদের মতে, আপিল বিভাগের এ রায়ের ফলে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সংসদের ক্ষমতা ও সংবিধানের মৌলিক কাঠামো রক্ষার প্রশ্নে ভবিষ্যতের মামলাগুলোর জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি হলো।