আর্জেন্টিনা রেফারি বিতর্ক আবারও আলোচনায়। ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়কে ঘিরে রেফারিং নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ম্যাচ শেষ হওয়ার চার দিন পেরিয়ে গেলেও আলোচনা থামেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে ফুটবল বিশ্লেষকদের আলোচনায় এখনো ঘুরে ফিরে আসছে রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্ত।
এই পরিস্থিতিতে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে সুইজারল্যান্ডের প্রধান কোচ মুরাত ইয়াকিনকে প্রশ্ন করা হয়—আর্জেন্টিনা কি বড় ম্যাচগুলোতে রেফারির কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা পায়?
‘সবকিছু ন্যায্যভাবেই হয়েছে’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইয়াকিন স্পষ্টভাবে জানান, তিনি এমনটি মনে করেন না।
তার ভাষায়, ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পালন ছিল স্বাভাবিক এবং নিয়ম অনুযায়ী। তিনি বলেন, “আমি মনে করি সবকিছু ন্যায্যভাবেই পরিচালিত হয়েছে। রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই।”
ইয়াকিনের এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, কোয়ার্টার ফাইনালের আগে তিনি রেফারিং বিতর্কে না জড়িয়ে নিজেদের পারফরম্যান্সের দিকেই বেশি মনোযোগ দিতে চান।
কেন বিতর্ক?
মিসর-আর্জেন্টিনা ম্যাচে কয়েকটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। বিশেষ করে কিছু ফাউল, সম্ভাব্য পেনাল্টির দাবি এবং অতিরিক্ত সময়ের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে মিসরের সমর্থকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
অনেকের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে রেফারি আর্জেন্টিনার পক্ষেই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে অসংখ্য পোস্ট ও বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে।
তবে ম্যাচ পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের পক্ষে অনেক সাবেক রেফারি ও ফুটবল বিশ্লেষকও মত দিয়েছেন।
পুরোনো অভিযোগ আবার সামনে
বিশ্ব ফুটবলে দীর্ঘদিন ধরেই একটি অভিযোগ শোনা যায়—বড় দলগুলো, বিশেষ করে আর্জেন্টিনা, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কখনো কখনো রেফারির কাছ থেকে সুবিধা পেয়ে থাকে।
যদিও এ ধরনের অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ কখনোই উপস্থাপিত হয়নি। ফিফাও সবসময় দাবি করে, ভিএআর (VAR) এবং আধুনিক প্রযুক্তির কারণে এখন ম্যাচ পরিচালনা আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বচ্ছ।
কোয়ার্টার ফাইনালের আগে বাড়তি চাপ নয়
সুইজারল্যান্ডের কোচ ইয়াকিন জানিয়েছেন, তিনি রেফারিং নিয়ে কোনো ধরনের বিতর্কে জড়াতে চান না। তার মতে, একটি ম্যাচের ফল নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স।
তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হলেও সুইজারল্যান্ড নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলবে এবং মাঠের খেলাতেই জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে।
আর্জেন্টিনার জন্য কঠিন পরীক্ষা
মিসরের বিপক্ষে জয় পেলেও আর্জেন্টিনাকে এখন আরও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। সুইজারল্যান্ড শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সংগঠিত ফুটবলের জন্য পরিচিত। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়তে হতে পারে।
অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডও ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবে। তাই দুই দলের এই লড়াইকে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হিসেবে দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।



























