উপদাখালীর পানি টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় কলমাকান্দা পয়েন্টে নদীটির পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
যদিও নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে, তবে এখন পর্যন্ত উপজেলার কোথাও বড় ধরনের বন্যা বা বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
পাউবোর পর্যবেক্ষণে জেলার নদীগুলোর পানি
নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, উপদাখালী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে এবং জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানিও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও পানি আরও বাড়লে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করা হবে।
অন্যান্য নদীর পানির অবস্থাও বাড়ছে
পাউবোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জেলার অন্যান্য নদীর পানির অবস্থান ছিল—
- মগড়া নদী (আটপাড়া পয়েন্ট): বিপৎসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার নিচে
- কংশ নদী (জারিয়া, পূর্বধলা): বিপৎসীমার ২.১২ মিটার নিচে
- ধনু নদী (খালিয়াজুড়ি): বিপৎসীমার ১.৪০ মিটার নিচে
- সোমেশ্বরী নদী (দুর্গাপুর): বিপৎসীমার ২.৭৬ মিটার নিচে
যদিও এসব নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে, তবুও ধারাবাহিক বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পানির উচ্চতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এখনো বড় ধরনের বন্যা হয়নি
কলমাকান্দা উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, উপদাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে উঠলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের পাহাড়ি ঢল বা বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, নদীর পানি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং স্থানীয় প্রশাসন সার্বক্ষণিক সতর্ক রয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বৃষ্টিপাত বাড়লে দ্রুত পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে।
জরুরি প্রস্তুতি সম্পন্ন
ইউএনও আরও জানান, পরিস্থিতির অবনতি হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইমার্জেন্সি কল সেন্টার চালু করা হবে।
এ ছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ শাখার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ
প্রশাসন নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকা নিচু ও বন্যাপ্রবণ, সেখানকার মানুষকে নদীর পানির উচ্চতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
পাশাপাশি জেলে, নৌযান চালক এবং কৃষকদেরও আবহাওয়া ও নদীর পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বাড়তে পারে ঝুঁকি
আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, উজান থেকে আরও ঢল নেমে আসা এবং টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে উপদাখালীসহ জেলার অন্যান্য নদীর পানিও আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। সে কারণে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।




























