আমাজন জঙ্গলে ৪০ দিন—শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও ২০২৩ সালে এমনই এক বাস্তব ঘটনার সাক্ষী হয়েছিল বিশ্ব। কলম্বিয়ার আমাজন রেইনফরেস্টে একটি ছোট যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর চার শিশু টানা ৪০ দিন ঘন জঙ্গলের মধ্যে জীবনের সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত জীবিত উদ্ধার হয়।
দুর্ঘটনার সময় বিমানে থাকা চার শিশুর মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিল ১৩ বছর বয়সী লেসলি। তার সঙ্গে ছিল ৯ বছর বয়সী সোলেইনি, ৫ বছর বয়সী তিয়েন এবং মাত্র ১১ মাস বয়সী ছোট্ট ক্রিস্টিন। দুর্ঘটনার পর চারপাশে ছিল শুধু ঘন বন, বন্য প্রাণীর উপস্থিতি এবং খাবারের তীব্র সংকট। এমন পরিস্থিতিতে ছোট ভাইবোনদের নিরাপদে রাখার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয় লেসলি।
স্থানীয় আদিবাসী সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠায় বনজ পরিবেশ সম্পর্কে কিছু প্রাথমিক ধারণা ছিল লেসলির। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সে বনের ফল সংগ্রহ করে, আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে এবং ছোট ভাইবোনদের নিয়ে প্রতিনিয়ত স্থান পরিবর্তন করতে থাকে। কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও সে আশা হারায়নি।
অন্যদিকে শিশুদের উদ্ধারে শুরু হয় নজিরবিহীন অভিযান। কলম্বিয়ার সেনাবাহিনী, উদ্ধারকর্মী এবং বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায় একসঙ্গে বিশাল এলাকাজুড়ে অনুসন্ধান চালায়। কয়েক সপ্তাহ ধরে হেলিকপ্টার, প্রশিক্ষিত অনুসন্ধান দল এবং বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় জঙ্গলের প্রতিটি সম্ভাব্য স্থানে খোঁজ চলতে থাকে।
অবশেষে দুর্ঘটনার ৪০ দিন পর উদ্ধারকারীরা চার শিশুকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পান। খবরটি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে বিস্ময় ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, এত দীর্ঘ সময় জঙ্গলে টিকে থাকা ছিল অত্যন্ত বিরল ঘটনা। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, লেসলির সাহস, উপস্থিত বুদ্ধি এবং বনজ্ঞানই ভাইবোনদের জীবন বাঁচাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
এই হৃদয়স্পর্শী ঘটনাকে ঘিরে পরে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক নির্মাণ করে প্রামাণ্যচিত্র ‘Lost in the Jungle, যেখানে চার ভাইবোন নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে। তাদের এই সংগ্রামের গল্প আজও মানবিক সাহস, পারিবারিক দায়িত্ববোধ এবং বেঁচে থাকার অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিশ্বজুড়ে আলোচিত।




























