ঢাকা ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo এক সরকারি স্কুলেই ৪০ শিক্ষার্থীর বৃত্তি! সৈয়দপুরে গড়ল নতুন রেকর্ড Logo লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুতে শোকে বিহ্বল ইসরায়েল, যা বললেন নেতানিয়াহু Logo হরমুজ প্রণালি বন্ধের দাবি, ট্রাম্প বললেন ‘জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক’ Logo রানওয়ে বাড়াতে সরছে ১৩৬ বছরের ঐতিহাসিক মসজিদ Logo ট্রাম্পের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী, কী আলোচনা? Logo বাড়ির পাশে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo ফাহমিদা নবীর নতুন গান: দুর্দান্ত চমক, ভাইরালের স্রোতে গা ভাসান না Logo লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুতে বিপাকে ইউক্রেন Logo নদীর পানি বাড়ছে, ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় বন্যার ঝুঁকিতে যেসব এলাকা Logo বৈশ্বিক প্রযুক্তিতে ভারতকে টেক্কা দেবে বাংলাদেশ

বাড়ির পাশে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

বাড়ির পাশের জমে থাকা পানিতে ঘটে দুর্ঘটনা। ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে এলাকার বিভিন্ন বাড়ির আশপাশ, নিচু জমি ও ফাঁকা স্থানে পানি জমে রয়েছে। এসব স্থানে ছোট শিশুদের জন্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

রাফির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। প্রতিবেশীরা শিশুটির পরিবারের বাড়িতে ভিড় করেন এবং শোকাহত স্বজনদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। অনেকেই এমন দুর্ঘটনা এড়াতে শিশুদের প্রতি আরও বেশি নজরদারির আহ্বান জানান।

বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টির কারণে বাড়ির উঠান, খেলার মাঠ, ডোবা ও নিচু জায়গায় পানি জমে থাকে। এসব স্থানে অল্প বয়সী শিশুরা খেলতে গিয়ে সহজেই দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। বিশেষ করে মাত্র কয়েক ইঞ্চি পানিতেও ছোট শিশু ডুবে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা পানিতে ডুবে যাওয়ার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। বাড়ির উঠান, ডোবা, পুকুর কিংবা বৃষ্টির জমে থাকা পানিও তাদের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই শিশুদের সব সময় প্রাপ্তবয়স্কদের নজরদারিতে রাখা জরুরি।

শিশুরা কোথায় খেলছে এবং কার সঙ্গে রয়েছে, সে বিষয়ে সব সময় খোঁজ রাখা জরুরি। বাড়ির বাইরে খেলতে গেলে একজন প্রাপ্তবয়স্কের তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা উচিত। পাশাপাশি জমে থাকা পানির স্থানগুলো শিশুদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, কোনো শিশুকে পানিতে ডুবে যাওয়ার পর উদ্ধার করা হলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে অভিভাবকদের ধারণা থাকলে অনেক ক্ষেত্রে জীবন বাঁচানোর সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টির সময় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার সমস্যা দেখা দেয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করা গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলো বর্ষা মৌসুমে শিশু নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার চালাতে পারে। মাইকিং, লিফলেট বিতরণ কিংবা স্কুলভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম অভিভাবকদের আরও সতর্ক হতে সহায়তা করবে।

এ ধরনের দুর্ঘটনার পর পরিবারের সদস্য, বিশেষ করে শিশুটির ভাইবোন বা সমবয়সী বন্ধুদের মানসিকভাবে সহায়তা করা গুরুত্বপূর্ণ। শোক কাটিয়ে উঠতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতা পরিবারের জন্য বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

বর্ষা মৌসুমে বাড়ির চারপাশে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ, ডোবা বা গর্তে বেড়া দেওয়া এবং শিশুদের একা বাইরে খেলতে না দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বিকেল ও সন্ধ্যার সময় শিশুদের প্রতি অতিরিক্ত নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মতে, জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

এক সরকারি স্কুলেই ৪০ শিক্ষার্থীর বৃত্তি! সৈয়দপুরে গড়ল নতুন রেকর্ড

বাড়ির পাশে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

Update Time : ১০:৫৪:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে এলাকার বিভিন্ন বাড়ির আশপাশ, নিচু জমি ও ফাঁকা স্থানে পানি জমে রয়েছে। এসব স্থানে ছোট শিশুদের জন্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

রাফির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। প্রতিবেশীরা শিশুটির পরিবারের বাড়িতে ভিড় করেন এবং শোকাহত স্বজনদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। অনেকেই এমন দুর্ঘটনা এড়াতে শিশুদের প্রতি আরও বেশি নজরদারির আহ্বান জানান।

বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টির কারণে বাড়ির উঠান, খেলার মাঠ, ডোবা ও নিচু জায়গায় পানি জমে থাকে। এসব স্থানে অল্প বয়সী শিশুরা খেলতে গিয়ে সহজেই দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। বিশেষ করে মাত্র কয়েক ইঞ্চি পানিতেও ছোট শিশু ডুবে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন  ঢাকাসহ ১২ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা পানিতে ডুবে যাওয়ার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। বাড়ির উঠান, ডোবা, পুকুর কিংবা বৃষ্টির জমে থাকা পানিও তাদের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই শিশুদের সব সময় প্রাপ্তবয়স্কদের নজরদারিতে রাখা জরুরি।

শিশুরা কোথায় খেলছে এবং কার সঙ্গে রয়েছে, সে বিষয়ে সব সময় খোঁজ রাখা জরুরি। বাড়ির বাইরে খেলতে গেলে একজন প্রাপ্তবয়স্কের তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা উচিত। পাশাপাশি জমে থাকা পানির স্থানগুলো শিশুদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে।

আরও পড়ুন  রাতে ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা, সতর্কতায় ৬ জেলা

চিকিৎসকদের ভাষ্য, কোনো শিশুকে পানিতে ডুবে যাওয়ার পর উদ্ধার করা হলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে অভিভাবকদের ধারণা থাকলে অনেক ক্ষেত্রে জীবন বাঁচানোর সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টির সময় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার সমস্যা দেখা দেয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করা গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলো বর্ষা মৌসুমে শিশু নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার চালাতে পারে। মাইকিং, লিফলেট বিতরণ কিংবা স্কুলভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম অভিভাবকদের আরও সতর্ক হতে সহায়তা করবে।

আরও পড়ুন  ১৫ জেলায় দুপুরের মধ্যে ঝড়ের আভাস

এ ধরনের দুর্ঘটনার পর পরিবারের সদস্য, বিশেষ করে শিশুটির ভাইবোন বা সমবয়সী বন্ধুদের মানসিকভাবে সহায়তা করা গুরুত্বপূর্ণ। শোক কাটিয়ে উঠতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতা পরিবারের জন্য বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

বর্ষা মৌসুমে বাড়ির চারপাশে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ, ডোবা বা গর্তে বেড়া দেওয়া এবং শিশুদের একা বাইরে খেলতে না দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বিকেল ও সন্ধ্যার সময় শিশুদের প্রতি অতিরিক্ত নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মতে, জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।