ঢাকায় অতি ভারী বৃষ্টি রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা সংস্থাটির নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী ‘অতি ভারী’ বর্ষণের মধ্যে পড়ে। টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং নগরজীবনে ভোগান্তি বেড়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাতকে অতি ভারী বর্ষণ হিসেবে ধরা হয়। সেই হিসাবে গত এক দিনে ঢাকায় হওয়া ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টি সাম্প্রতিক সময়ের উল্লেখযোগ্য বর্ষণের একটি।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টায় ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আকাশ আংশিক থেকে সম্পূর্ণ মেঘলা থাকতে পারে। একই সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। এ সময় দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। দিনের তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তন না হলেও রাতের দিকে কিছুটা ওঠানামা হতে পারে।
সোমবার সকাল ৬টার পর্যবেক্ষণে রাজধানীর তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। আগের দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বৃষ্টিপাতের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, ১ থেকে ১০ মিলিমিটার হালকা, ১১ থেকে ২২ মিলিমিটার মাঝারি, ২৩ থেকে ৪৩ মিলিমিটার মাঝারি ধরনের ভারী, ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার ভারী এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি অতি ভারী বৃষ্টিপাত হিসেবে গণ্য করা হয়। এ হিসেবে রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টিপাত সর্বোচ্চ শ্রেণিতে পড়েছে।
শুধু ঢাকা নয়, দেশের বিভিন্ন বিভাগেও বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণও হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া এবং জলাবদ্ধ এলাকায় চলাচলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।





























