সুনামগঞ্জে বন্যার আশঙ্কা আবারও বেড়েছে। টানা ভারী বৃষ্টি এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। ইতোমধ্যে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর দুটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং প্রশাসনও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সোমবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছাতকের কাছে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার এবং দিরাইয়ের মারকুলিতে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে সুনামগঞ্জ পৌর এলাকার ষোলঘর পয়েন্টেও গত ২৪ ঘণ্টায় পানির উচ্চতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এদিকে তাহিরপুরের যাদুকাটা ও পাটলাই নদীতেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
ভারতের চেরাপুঞ্জি ও মৌসিনরাম অঞ্চলে ভারী বর্ষণের প্রভাব সরাসরি পড়ছে সুনামগঞ্জে। পাহাড়ি ঢলের কারণে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের কয়েকটি নিচু অংশ আবারও পানির নিচে চলে গেছে। পাশাপাশি সদর, দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলার সীমান্তবর্তী বেশ কয়েকটি গ্রামীণ সড়ক প্লাবিত হওয়ায় স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াতে দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেক এলাকায় যানবাহন চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিবার পাহাড়ি ঢল নামলেই সীমান্ত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো ডুবে যায়, ফলে জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যাহত হয়। কৃষিকাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এর প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলের মানুষ নতুন করে বন্যার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় আরও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নদীর পানি আরও বাড়তে পারে এবং স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। উদ্ধারকাজের জন্য নৌযান, স্বেচ্ছাসেবক, মেডিক্যাল টিম এবং ত্রাণসামগ্রীও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সবাইকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে নদীর তীর ও প্লাবিত এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ এবং আবহাওয়া ও পানি পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য নিয়মিত অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সুনামগঞ্জের নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।




























