ঢাকা ০১:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রেমিট্যান্স প্রবাহে সুখবর: ১২ দিনে দেশে এলো ১৬ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৮:৩৯:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ৫৪৩

Image Caption: জুলাইয়ের প্রথম ১২ দিনে দেশে এসেছে ১৬ হাজার ২৬৪ কোটি টাকার রেমিট্যান্স। ছবি: সংগৃহীত

রেমিট্যান্স প্রবাহে নতুন সুখবর পেয়েছে বাংলাদেশ। চলতি জুলাই মাসের প্রথম ১২ দিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৩২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার ২৬৪ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা ধরে)। বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়তে থাকায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, শুধু রোববার (১২ জুলাই) একদিনেই দেশে এসেছে প্রায় ২ হাজার ৯৯ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা রেমিট্যান্স। মাসের শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে প্রবাসী আয় বাড়তে থাকায় অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা মিলছে।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ের প্রথম ১২ দিনে দেশে এসেছিল ১০৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। এই প্রবৃদ্ধিকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রবাসীদের জন্য সহজতর আর্থিক সেবা এবং প্রণোদনা সুবিধার কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহে ধারাবাহিক উন্নতি হচ্ছে। একই সঙ্গে হুন্ডির পরিবর্তে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারের প্রবণতাও আগের তুলনায় বেড়েছে, যা বৈধভাবে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এই অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি আমদানি ব্যয় পরিশোধ, টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং অর্থনীতিতে তারল্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এছাড়া প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে দেশের লাখো পরিবার তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করে থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা আশা করছেন, মাসের বাকি সময়েও যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে জুলাই শেষে রেমিট্যান্স প্রবাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে। এতে দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রেমিট্যান্স প্রবাহে সুখবর: ১২ দিনে দেশে এলো ১৬ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা

Update Time : ০৮:৩৯:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

রেমিট্যান্স প্রবাহে নতুন সুখবর পেয়েছে বাংলাদেশ। চলতি জুলাই মাসের প্রথম ১২ দিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৩২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার ২৬৪ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা ধরে)। বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়তে থাকায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, শুধু রোববার (১২ জুলাই) একদিনেই দেশে এসেছে প্রায় ২ হাজার ৯৯ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা রেমিট্যান্স। মাসের শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে প্রবাসী আয় বাড়তে থাকায় অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা মিলছে।

আরও পড়ুন  অক্টোবর–ডিসেম্বরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে ৩ শতাংশে, বৈশ্বিক সংকটে বাড়ছে দুশ্চিন্তা

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ের প্রথম ১২ দিনে দেশে এসেছিল ১০৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। এই প্রবৃদ্ধিকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।

আরও পড়ুন  মাছের ব্যবসায় বড় বিনিয়োগ, চট্টগ্রামে নেটওয়ার্ক বাড়াচ্ছে শপআপ

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রবাসীদের জন্য সহজতর আর্থিক সেবা এবং প্রণোদনা সুবিধার কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহে ধারাবাহিক উন্নতি হচ্ছে। একই সঙ্গে হুন্ডির পরিবর্তে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারের প্রবণতাও আগের তুলনায় বেড়েছে, যা বৈধভাবে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এই অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি আমদানি ব্যয় পরিশোধ, টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং অর্থনীতিতে তারল্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এছাড়া প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে দেশের লাখো পরিবার তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করে থাকে।

আরও পড়ুন  দেশের ব্যাংক খাত শক্তিশালী করতে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা আশা করছেন, মাসের বাকি সময়েও যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে জুলাই শেষে রেমিট্যান্স প্রবাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে। এতে দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।