ঢাকা ১২:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনায় নতুন ঝড়, ফুটবলার নিষিদ্ধের দাবিতে ফিফাকে চিঠি Logo আন্তোনেলা রোকুজ্জো: মেসির স্ত্রী থেকে বিশ্বজুড়ে ফিটনেস আইকন Logo বোয়িং ও এয়ারবাস কিনবে বিমান বাংলাদেশ Logo হালান্ডের বিলাসী ব্যাগ সংগ্রহ, দাম প্রায় ১১ কোটি টাকা Logo চিয়া সিডের উপকারিতা: শক্তিশালী গবেষণায় মিলল নতুন তথ্য Logo বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া, ইতিহাসে নতুন রেকর্ড Logo জাহ্নবী কাপুরের অল গোল্ড লুক: ২৪ ক্যারেট বাস্টিয়ারে নজর কাড়লেন Logo বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮, সাত জেলায় বন্যা Logo ভয়াবহ মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ৩ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু Logo ডিএনসিসির নতুন বাজেট, সড়ক-ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব

মিয়ানমারের উপকূলে দুই নৌকাডুবি, ৫ শতাধিক প্রাণহানির শঙ্কা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:৪৫:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ৫৪৮

সমুদ্রে শতাধিক প্রাণহানির আশঙ্কায় উদ্বেগ

মিয়ানমারের উপকূলে পাঁচ শতাধিক আরোহী বহনকারী দুটি নৌকা ডুবে যাওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। সংস্থা দুটি বলছে, ঘটনাগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হলেও প্রাথমিক তথ্য বড় ধরনের প্রাণহানির ইঙ্গিত দিচ্ছে। নৌকাগুলোর বেশিরভাগ যাত্রীই ছিলেন রোহিঙ্গা।

আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, নৌকা দুটি গত জুনের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করে। যাত্রীদের মধ্যে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির থেকে যাওয়া কিছু মানুষও ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে তাদের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সংস্থাটির দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, একটি নৌকায় প্রায় ২৫০ জন আরোহী ছিলেন। যাত্রা শুরুর পরপরই সেটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকে নৌকাটির অবস্থান কিংবা যাত্রীদের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে প্রায় ২৮০ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা করা আরেকটি নৌকা গত ৮ জুলাই মিয়ানমারের ইরাবতী উপকূলে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

বছরের এই সময়ে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়া সাধারণত বৈরী থাকে বলে জানিয়েছে আইওএম ও ইউএনএইচসিআর। তাদের ভাষ্য, উত্তাল সমুদ্রের পাশাপাশি সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতি সমুদ্রপথে যাত্রাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

দুই সংস্থার আশঙ্কা, নৌকাডুবির এই দুটি ঘটনা সত্য প্রমাণিত হলে চলতি বছরে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ বা প্রাণ হারানো মানুষের সংখ্যা প্রায় ৮০০-তে পৌঁছাবে। এদের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থীর পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে প্রতিবছর বহু রোহিঙ্গা সমুদ্রপথে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা করেন। সীমিত সুযোগ, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এবং দালালচক্রের প্রলোভনে অনেকেই এমন পথ বেছে নিতে বাধ্য হন। ফলে প্রায়ই নৌকাডুবি ও প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

সর্বশেষ এ ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। আইওএম ও ইউএনএইচসিআর দ্রুত অনুসন্ধান চালিয়ে নিখোঁজদের অবস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা কমাতে কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের ওপরও জোর দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনায় নতুন ঝড়, ফুটবলার নিষিদ্ধের দাবিতে ফিফাকে চিঠি

মিয়ানমারের উপকূলে দুই নৌকাডুবি, ৫ শতাধিক প্রাণহানির শঙ্কা

Update Time : ০৯:৪৫:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

মিয়ানমারের উপকূলে পাঁচ শতাধিক আরোহী বহনকারী দুটি নৌকা ডুবে যাওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। সংস্থা দুটি বলছে, ঘটনাগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হলেও প্রাথমিক তথ্য বড় ধরনের প্রাণহানির ইঙ্গিত দিচ্ছে। নৌকাগুলোর বেশিরভাগ যাত্রীই ছিলেন রোহিঙ্গা।

আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, নৌকা দুটি গত জুনের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করে। যাত্রীদের মধ্যে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির থেকে যাওয়া কিছু মানুষও ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে তাদের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন  খামেনির শেষবিদায় ঘিরে তেহরান মেট্রোতে রেকর্ড যাত্রীর যাতায়াত

সংস্থাটির দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, একটি নৌকায় প্রায় ২৫০ জন আরোহী ছিলেন। যাত্রা শুরুর পরপরই সেটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকে নৌকাটির অবস্থান কিংবা যাত্রীদের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে প্রায় ২৮০ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা করা আরেকটি নৌকা গত ৮ জুলাই মিয়ানমারের ইরাবতী উপকূলে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন  ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত: জরুরি ঝড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস সমুদ্রবন্দরে

বছরের এই সময়ে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়া সাধারণত বৈরী থাকে বলে জানিয়েছে আইওএম ও ইউএনএইচসিআর। তাদের ভাষ্য, উত্তাল সমুদ্রের পাশাপাশি সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতি সমুদ্রপথে যাত্রাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

দুই সংস্থার আশঙ্কা, নৌকাডুবির এই দুটি ঘটনা সত্য প্রমাণিত হলে চলতি বছরে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ বা প্রাণ হারানো মানুষের সংখ্যা প্রায় ৮০০-তে পৌঁছাবে। এদের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থীর পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

আরও পড়ুন  পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি হামলায় এক বছরের জন্য বন্ধ দাতব্য সংস্থা

নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে প্রতিবছর বহু রোহিঙ্গা সমুদ্রপথে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা করেন। সীমিত সুযোগ, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এবং দালালচক্রের প্রলোভনে অনেকেই এমন পথ বেছে নিতে বাধ্য হন। ফলে প্রায়ই নৌকাডুবি ও প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

সর্বশেষ এ ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। আইওএম ও ইউএনএইচসিআর দ্রুত অনুসন্ধান চালিয়ে নিখোঁজদের অবস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা কমাতে কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের ওপরও জোর দিয়েছে।