ঢাকা ০৯:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের রিজার্ভ বাড়ল, বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ৩৬.৬৬ বিলিয়ন ডলার

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৫:১৮:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৪

রিজার্ভে স্বস্তি, বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে বৈদেশিক মুদ্রা বেড়ে ৩৬.৬৬ বিলিয়ন ডলার। ছবি: সংগৃহীত

দেশের রিজার্ভ আবারও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলারে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ এখন ৩১ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের এই তথ্য পাওয়া গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬৬৬ কোটি ৪৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার। একই সময়ে আইএমএফের হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ১৯৬ কোটি ৬২ লাখ ১০ হাজার ডলার

এর আগে ১৩ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৬৫৪ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার ডলার। আর আইএমএফের বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ১৯০ কোটি ৭০ লাখ ৩০ হাজার ডলার। অর্থাৎ কয়েক দিনের ব্যবধানেই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত কিছুটা বেড়েছে।

গত ১২ জুলাইও দেশের রিজার্ভের পরিমাণ ছিল তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি। ওইদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৬৫৮ কোটি ১৯ লাখ ৯০ হাজার ডলার। আর আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী তা ছিল ৩ হাজার ১৯৪ কোটি ২৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার

এর আগে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) দেনা পরিশোধের পর দেশের রিজার্ভে সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছিল। ৭ জুলাই আকুর ১৪৮ কোটি ৫০ লাখ ৪০ হাজার ডলার পরিশোধের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ নেমে এসেছিল ৩ হাজার ৬৫১ কোটি ৯৭ লাখ ৮০ হাজার ডলারে। তবে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন উৎস থেকে বৈদেশিক মুদ্রা যোগ হওয়ায় রিজার্ভ আবার বাড়তে শুরু করেছে।

আকু হলো এশিয়ার কয়েকটি দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি লেনদেন নিষ্পত্তির একটি আঞ্চলিক ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলো নির্দিষ্ট সময় পরপর নিজেদের মধ্যে হওয়া বাণিজ্যের অর্থ পরিশোধ করে থাকে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, ইরান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ভুটান ও মালদ্বীপ এই ব্যবস্থার সদস্য।

এর আগে ৬ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে দেশের রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৭৮৪ কোটি ৭৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার। আর আইএমএফের বিপিএম-৬ হিসাবে ছিল ৩ হাজার ৩১৯ কোটি ৯৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার। ২ জুলাই নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৭৬৫ কোটি ৮৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার

বিশ্লেষকদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক। আমদানি ব্যয় পরিশোধ, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের সক্ষমতা ধরে রাখতে পর্যাপ্ত রিজার্ভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ, রপ্তানি আয় এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে রিজার্ভে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে রিজার্ভের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার আয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

দেশের রিজার্ভ বৃদ্ধির এই প্রবণতা অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি তৈরি করলেও সামনের দিনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় সতর্ক অবস্থান বজায় রেখে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টা করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের রিজার্ভ বাড়ল, বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ৩৬.৬৬ বিলিয়ন ডলার

Update Time : ০৫:১৮:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

দেশের রিজার্ভ আবারও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলারে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ এখন ৩১ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের এই তথ্য পাওয়া গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬৬৬ কোটি ৪৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার। একই সময়ে আইএমএফের হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ১৯৬ কোটি ৬২ লাখ ১০ হাজার ডলার

এর আগে ১৩ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৬৫৪ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার ডলার। আর আইএমএফের বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ১৯০ কোটি ৭০ লাখ ৩০ হাজার ডলার। অর্থাৎ কয়েক দিনের ব্যবধানেই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত কিছুটা বেড়েছে।

আরও পড়ুন  কমলো সোনার দাম, প্রতি ভরি এখন কত টাকা জানুন

গত ১২ জুলাইও দেশের রিজার্ভের পরিমাণ ছিল তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি। ওইদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৬৫৮ কোটি ১৯ লাখ ৯০ হাজার ডলার। আর আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী তা ছিল ৩ হাজার ১৯৪ কোটি ২৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার

এর আগে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) দেনা পরিশোধের পর দেশের রিজার্ভে সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছিল। ৭ জুলাই আকুর ১৪৮ কোটি ৫০ লাখ ৪০ হাজার ডলার পরিশোধের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ নেমে এসেছিল ৩ হাজার ৬৫১ কোটি ৯৭ লাখ ৮০ হাজার ডলারে। তবে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন উৎস থেকে বৈদেশিক মুদ্রা যোগ হওয়ায় রিজার্ভ আবার বাড়তে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন  স্বর্ণের দাম কমার পর আজকের সর্বশেষ মূল্য

আকু হলো এশিয়ার কয়েকটি দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি লেনদেন নিষ্পত্তির একটি আঞ্চলিক ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলো নির্দিষ্ট সময় পরপর নিজেদের মধ্যে হওয়া বাণিজ্যের অর্থ পরিশোধ করে থাকে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, ইরান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ভুটান ও মালদ্বীপ এই ব্যবস্থার সদস্য।

এর আগে ৬ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে দেশের রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৭৮৪ কোটি ৭৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার। আর আইএমএফের বিপিএম-৬ হিসাবে ছিল ৩ হাজার ৩১৯ কোটি ৯৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার। ২ জুলাই নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৭৬৫ কোটি ৮৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার

আরও পড়ুন  মুরগি, আলু, চালসহ বাজারে নিত্যপণ্যের দামে আগুন

বিশ্লেষকদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক। আমদানি ব্যয় পরিশোধ, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের সক্ষমতা ধরে রাখতে পর্যাপ্ত রিজার্ভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ, রপ্তানি আয় এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে রিজার্ভে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে রিজার্ভের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার আয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

দেশের রিজার্ভ বৃদ্ধির এই প্রবণতা অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি তৈরি করলেও সামনের দিনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় সতর্ক অবস্থান বজায় রেখে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টা করছে।