স্বর্ণের দাম টানা দুই দফা কমানোর পর দেশের বাজারে নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে মূল্যবান এই ধাতু। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন মূল্য নির্ধারণ করায় আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) থেকে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা।
এর আগে চলতি সপ্তাহে দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমানো হয়। গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম কমানো হয় ২ হাজার ১৫৮ টাকা। এর আগের দিন সোমবার (১৩ জুলাই) কমানো হয়েছিল আরও ২ হাজার ২১৬ টাকা। ফলে দুই দফায় মোট ৪ হাজার টাকার বেশি কমেছে স্বর্ণের দাম।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম কমে যাওয়ার কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই নতুন মূল্য কার্যকর থাকবে।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকায়। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকা।
তবে স্বর্ণের অলংকার কিনতে হলে নির্ধারিত দামের সঙ্গে নকশা ও তৈরির মজুরি আলাদাভাবে যোগ হবে। বাজুস জানিয়েছে, নির্ধারিত মূল্যের মধ্যে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভ্যাট নেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে অলংকার পরিবর্তন বা পুনরায় বিক্রির ক্ষেত্রেও বাজুসের নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।
চলতি বছরে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম এরই মধ্যে বহুবার পরিবর্তন হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ৯১ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, ৪৬ বার কমানো হয়েছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয়ের কারণে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
২০২৫ সালেও স্বর্ণের বাজারে ব্যাপক ওঠানামা দেখা গেছে। ওই বছর মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হলেও ২৯ বার কমানো হয়েছিল।
এদিকে স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা।
চলতি বছরে রুপার দামও বেশ কয়েকবার পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত রুপার দাম ৫৬ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ বার দাম বেড়েছে এবং ২৮ বার কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর দেশের স্বর্ণের দাম অনেকাংশে নির্ভর করে। তাই সামনে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আবারও স্বর্ণের দামে পরিবর্তন আসতে পারে।





























