ঢাকা ১০:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রিজিকে বরকত পেতে কোরআন কী নির্দেশনা দিয়েছে?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৭:৩৬:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • ৫২৬

আয়রোজগারে বরকত লাভের বিষয়ে কোরআনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। । ছবি: সংগৃহীত

রিজিকে বরকত শুধু বেশি টাকা উপার্জনের নাম নয়; বরং অল্প আয়ে শান্তি, স্বস্তি ও প্রয়োজন পূরণ হওয়ার মধ্যেই প্রকৃত বরকত লুকিয়ে থাকে। অনেকেই অভিযোগ করেন, ভালো আয় করার পরও মাস শেষ হওয়ার আগেই টাকা ফুরিয়ে যায়। প্রয়োজনীয় খরচ মিটিয়েও মনে হয় যেন উপার্জনে কোনো স্থায়িত্ব নেই। ইসলাম এই সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে—সমস্যা সব সময় আয়ের পরিমাণে নয়, বরং বরকতের অভাবে।

অনেক মানুষ দিন-রাত পরিশ্রম করেন, দায়িত্বশীলভাবে কাজ করেন এবং নিয়মিত আয়ও করেন। কিন্তু মাস শেষে হিসাব মিলাতে গিয়ে দেখেন, উপার্জনের বড় একটি অংশ কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। অপ্রয়োজনীয় খরচ, পরিকল্পনার অভাব কিংবা মানসিক অস্থিরতা অনেক সময় অর্থনৈতিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে তোলে। কোরআনের শিক্ষা হলো, হালাল উপার্জনের পাশাপাশি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা, সংযম ও সঠিক ব্যবস্থাপনাও বরকত লাভের অন্যতম উপায়।

ইসলামে শুকরিয়া বা কৃতজ্ঞতার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। একজন মানুষ যখন আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ থাকে, তখন সে অপ্রয়োজনীয় ভোগবিলাসে জড়িয়ে পড়ে না। প্রয়োজন বুঝে ব্যয় করে এবং ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করে। গবেষণাতেও দেখা গেছে, যারা নিজেদের জীবন ও সম্পদ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকেন, তারা আর্থিকভাবে তুলনামূলক বেশি স্থিতিশীল থাকেন এবং মানসিক চাপও কম অনুভব করেন। অর্থাৎ মানসিক প্রশান্তি ও আর্থিক শৃঙ্খলার মধ্যেও বরকতের সম্পর্ক রয়েছে।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ সুরা হুদের ৬ নম্বর আয়াতে বলেন, ‘পৃথিবীতে এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই।’ এই আয়াত মুমিনদের জন্য গভীর আশ্বাসের বার্তা বহন করে। ক্ষুদ্র একটি পোকা থেকে শুরু করে সমুদ্রের বিশাল প্রাণী পর্যন্ত প্রতিটি সৃষ্টির রিজিকের ব্যবস্থা আল্লাহ করে থাকেন। মানুষও তাঁরই সৃষ্টি। তাই রিজিক নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করে বৈধ উপায়ে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখাই একজন মুমিনের দায়িত্ব।

তবে এর অর্থ এই নয় যে, চেষ্টা না করেই শুধু অপেক্ষা করতে হবে। ইসলাম মানুষকে কঠোর পরিশ্রম, হালাল উপার্জন, সততা ও দায়িত্বশীলতার শিক্ষা দেয়। পাশাপাশি অপচয়, অহংকার, সুদ, প্রতারণা ও হারাম উপার্জন থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেয়। কারণ এসব কাজ সম্পদ থেকে বরকত দূর করে দেয়। তাই আয় বাড়ানোর পাশাপাশি খরচের ক্ষেত্রেও সংযমী হওয়া এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেওয়া জরুরি।

সবশেষে বলা যায়, রিজিকে বরকত পাওয়ার সবচেয়ে সুন্দর পথ হলো—হালাল উপার্জনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা, আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের জন্য শুকরিয়া আদায় করা, অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়িয়ে চলা এবং মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল রাখা। মনে রাখতে হবে, প্রকৃত সফলতা শুধু বেশি অর্থ উপার্জনে নয়; বরং সেই উপার্জনে শান্তি, কল্যাণ ও বরকত থাকার মধ্যেই নিহিত। তাই দুশ্চিন্তা নয়, চেষ্টা করুন, দোয়া করুন এবং বিশ্বাস রাখুন—রিজিকের দায়িত্ব মহান আল্লাহরই।

জনপ্রিয় সংবাদ

রিজিকে বরকত পেতে কোরআন কী নির্দেশনা দিয়েছে?

Update Time : ০৭:৩৬:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

রিজিকে বরকত শুধু বেশি টাকা উপার্জনের নাম নয়; বরং অল্প আয়ে শান্তি, স্বস্তি ও প্রয়োজন পূরণ হওয়ার মধ্যেই প্রকৃত বরকত লুকিয়ে থাকে। অনেকেই অভিযোগ করেন, ভালো আয় করার পরও মাস শেষ হওয়ার আগেই টাকা ফুরিয়ে যায়। প্রয়োজনীয় খরচ মিটিয়েও মনে হয় যেন উপার্জনে কোনো স্থায়িত্ব নেই। ইসলাম এই সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে—সমস্যা সব সময় আয়ের পরিমাণে নয়, বরং বরকতের অভাবে।

অনেক মানুষ দিন-রাত পরিশ্রম করেন, দায়িত্বশীলভাবে কাজ করেন এবং নিয়মিত আয়ও করেন। কিন্তু মাস শেষে হিসাব মিলাতে গিয়ে দেখেন, উপার্জনের বড় একটি অংশ কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। অপ্রয়োজনীয় খরচ, পরিকল্পনার অভাব কিংবা মানসিক অস্থিরতা অনেক সময় অর্থনৈতিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে তোলে। কোরআনের শিক্ষা হলো, হালাল উপার্জনের পাশাপাশি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা, সংযম ও সঠিক ব্যবস্থাপনাও বরকত লাভের অন্যতম উপায়।

আরও পড়ুন  হজ শেষে দেশে ফিরলেন ৫৪৩২৩ হাজি, ৫০ জনের মৃত্যু

ইসলামে শুকরিয়া বা কৃতজ্ঞতার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। একজন মানুষ যখন আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ থাকে, তখন সে অপ্রয়োজনীয় ভোগবিলাসে জড়িয়ে পড়ে না। প্রয়োজন বুঝে ব্যয় করে এবং ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করে। গবেষণাতেও দেখা গেছে, যারা নিজেদের জীবন ও সম্পদ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকেন, তারা আর্থিকভাবে তুলনামূলক বেশি স্থিতিশীল থাকেন এবং মানসিক চাপও কম অনুভব করেন। অর্থাৎ মানসিক প্রশান্তি ও আর্থিক শৃঙ্খলার মধ্যেও বরকতের সম্পর্ক রয়েছে।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ সুরা হুদের ৬ নম্বর আয়াতে বলেন, ‘পৃথিবীতে এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই।’ এই আয়াত মুমিনদের জন্য গভীর আশ্বাসের বার্তা বহন করে। ক্ষুদ্র একটি পোকা থেকে শুরু করে সমুদ্রের বিশাল প্রাণী পর্যন্ত প্রতিটি সৃষ্টির রিজিকের ব্যবস্থা আল্লাহ করে থাকেন। মানুষও তাঁরই সৃষ্টি। তাই রিজিক নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করে বৈধ উপায়ে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখাই একজন মুমিনের দায়িত্ব।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করলেন সৌদি হজমন্ত্রী

তবে এর অর্থ এই নয় যে, চেষ্টা না করেই শুধু অপেক্ষা করতে হবে। ইসলাম মানুষকে কঠোর পরিশ্রম, হালাল উপার্জন, সততা ও দায়িত্বশীলতার শিক্ষা দেয়। পাশাপাশি অপচয়, অহংকার, সুদ, প্রতারণা ও হারাম উপার্জন থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেয়। কারণ এসব কাজ সম্পদ থেকে বরকত দূর করে দেয়। তাই আয় বাড়ানোর পাশাপাশি খরচের ক্ষেত্রেও সংযমী হওয়া এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন  কেন ওমরাহ করেছেন নবীজি হজের মাসে

সবশেষে বলা যায়, রিজিকে বরকত পাওয়ার সবচেয়ে সুন্দর পথ হলো—হালাল উপার্জনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা, আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের জন্য শুকরিয়া আদায় করা, অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়িয়ে চলা এবং মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল রাখা। মনে রাখতে হবে, প্রকৃত সফলতা শুধু বেশি অর্থ উপার্জনে নয়; বরং সেই উপার্জনে শান্তি, কল্যাণ ও বরকত থাকার মধ্যেই নিহিত। তাই দুশ্চিন্তা নয়, চেষ্টা করুন, দোয়া করুন এবং বিশ্বাস রাখুন—রিজিকের দায়িত্ব মহান আল্লাহরই।