বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় নতুন ইতিহাস গড়েছেন ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ২২-এ পৌঁছে দেন তিনি। এর মাধ্যমে ২১ গোল করা আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলেন এই ফরাসি ফুটবলার। একই সঙ্গে চলতি আসরেও সর্বোচ্চ গোলদাতার অবস্থান আরও শক্ত করেন এমবাপ্পে।
ম্যাচের শুরু থেকেই ইংল্যান্ড ছিল আক্রমণাত্মক। খেলা শুরুর মাত্র ২ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে মাঝমাঠ থেকে বল কেড়ে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে দূরপাল্লার শটে গোল করেন ডেক্লান রাইস। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ১৮ মিনিটে রাইসের ক্রস থেকে হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজরি কনসা। দ্রুত দুই গোল হজম করে চাপে পড়ে যায় ফ্রান্স।
প্রথমার্ধের শেষভাগেও ইংল্যান্ড তাদের দাপট ধরে রাখে। ৩৭ মিনিটে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে তৃতীয় গোল করেন বুকায়ো সাকা। এরপর যোগ করা সময়ে (৪৫+১) কনসার পাস থেকে আবারও জালের দেখা পান সাকা। প্রথমার্ধ শেষে ৪-০ গোলে পিছিয়ে বিরতিতে যায় ফরাসিরা, যা ম্যাচটিকে একপেশে করে তুলেছিল।
তবে বিরতি থেকে ফিরেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। আক্রমণের গতি বাড়িয়ে ইংল্যান্ডের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে ফ্রান্স। ৪৮ মিনিটে মাইকেল ওলিসের পাস থেকে বাঁ পায়ের শটে প্রথম গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই গোল ফরাসি দলকে নতুন করে লড়াইয়ে ফেরার আত্মবিশ্বাস এনে দেয়।
এর ছয় মিনিট পর আবারও আক্রমণ সাজায় ফ্রান্স। এবার এমবাপ্পের বাড়ানো বল থেকে ব্যবধান কমান বারকোলা। মাত্র নয় মিনিটের মধ্যে দুই গোল শোধ করে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনে ফরাসিরা। যদিও শুরুতে চার গোল হজমের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য তখনও তাদের আরও পথ পাড়ি দিতে হতো।
৬৬ মিনিটে আবারও নিজের জাত চিনিয়ে দেন এমবাপ্পে। মাইকেল ওলিসের আরেকটি নিখুঁত পাস কাজে লাগিয়ে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি। এই গোলের মধ্য দিয়েই বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্যক্তিগত গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২২-এ। ফলে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শীর্ষে উঠে যান ফরাসি এই তারকা।
বিশ্বকাপের চলতি আসরেও দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন এমবাপ্পে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোলের পর টুর্নামেন্টে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০। গোল করার পাশাপাশি আক্রমণভাগে তার গতি, সুযোগ তৈরি এবং সতীর্থদের সঙ্গে সমন্বয়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্সের ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল তার।
যদিও ম্যাচের শুরুতে চার গোল হজম করায় শেষ পর্যন্ত ফল নিজেদের পক্ষে আনা কঠিন হয়ে পড়ে ফ্রান্সের জন্য, তবু এমবাপ্পের ব্যক্তিগত অর্জন ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখবে। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে মেসিকে ছাড়িয়ে নতুন গোলের রেকর্ড গড়ে তিনি নিজের নাম আরও একবার ইতিহাসের পাতায় লিখিয়ে রাখলেন।



























