তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) চালু করা ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপকে নগর ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নাগরিকরা ঘরে বসেই বিভিন্ন সেবার পাশাপাশি নগরীর সমস্যা সরাসরি সিটি কর্পোরেশনকে জানাতে পারবেন।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস এবং ওয়েব—তিনটি প্ল্যাটফর্মেই ব্যবহার করা যাবে। নাগরিকরা মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করে ছবি, ভিডিও ও লোকেশন সংযুক্ত করে অভিযোগ পাঠাতে পারবেন। প্রতিটি অভিযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পৌঁছে যাবে এবং নির্ধারিত কর্মকর্তারা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।
অ্যাপটিতে নাগরিক অভিযোগের পাশাপাশি হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, জরুরি যোগাযোগ, গুরুত্বপূর্ণ সেবা, নাগরিক তথ্য এবং বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনভিত্তিক তথ্যও ধাপে ধাপে যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের অনেক আধুনিক শহরে নাগরিক অভিযোগ ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। চট্টগ্রামেও একই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু হওয়ায় নগর ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ, দ্রুত এবং জবাবদিহিমূলক হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের অংশগ্রহণও বৃদ্ধি পাবে।
অ্যাপটির মাধ্যমে প্রতিটি অভিযোগের জন্য আলাদা টিকিট নম্বর তৈরি হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অফিসার ড্যাশবোর্ড থেকে অভিযোগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এছাড়া ওয়ার্ডভিত্তিক হিট ম্যাপের মাধ্যমে কোন এলাকায় কোন ধরনের সমস্যা বেশি হচ্ছে তা সহজেই বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে। এতে পরিকল্পনা গ্রহণ ও সেবা প্রদানে সময় কম লাগবে।
চসিকের কর্মকর্তারা জানান, আগে একটি সমস্যার সমাধানের জন্য নাগরিকদের একাধিক দপ্তরে যোগাযোগ করতে হতো। নতুন অ্যাপ চালুর ফলে একই প্ল্যাটফর্মে অভিযোগ, সেবার আবেদন এবং অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এতে সময় ও ভোগান্তি কমবে।
‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপটি বাস্তবায়নে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) তহবিল থেকে অর্থায়ন করেছে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল)। প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে ভেনটো টেক। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নগর সেবা উন্নয়নের এটি একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে অ্যাপটিতে অনলাইন বিল পরিশোধ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্য, নাগরিক নোটিফিকেশন, দুর্যোগ সতর্কতা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আপডেট এবং অন্যান্য স্মার্ট সিটি সেবাও ধাপে ধাপে যুক্ত করা হবে।



























