শিক্ষার্থীকে মারধর নিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আবারও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হলের খাবারের মান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি গ্রুপে অভিযোগ করার জেরে এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ওঠার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সহপাঠীরা। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে সোমবার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। মিছিলটি চেতনা-৭১ স্মৃতিস্তম্ভ, নতুন সামাজিক বিজ্ঞান ভবনসহ ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার গোলচত্বরে এসে শেষ হয়। পুরো কর্মসূচিজুড়ে শিক্ষার্থীরা হামলার বিচার, নিরাপদ ক্যাম্পাস এবং সন্ত্রাসমুক্ত শিক্ষাঙ্গনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শাহপরান হলের ক্যানটিনের খাবারের নিম্নমান নিয়ে গত ১৬ জুলাই হলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে মন্তব্য করেছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী খাইরুল খন্দকার। সেই মন্তব্যের জেরে ১৮ জুলাই রাতে তাঁকে মারধর করা হয়। অভিযোগের তীর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই নেতার দিকে। ঘটনার পর থেকেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং শিক্ষার্থীরা দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন।
বিক্ষোভ শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তদন্ত ও বিচার সম্পন্ন করার জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। যদি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। শিক্ষার্থীদের একাংশ ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের মতো কর্মসূচিরও ইঙ্গিত দেন।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সৌরভ হোসেন বলেন, কোনো শিক্ষার্থী যেন মত প্রকাশের কারণে হামলার শিকার না হন, সেটিই তাঁদের প্রধান দাবি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান প্রশাসন দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার বিন ছলিম জানান, প্রশাসনের দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও বিচার না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে।
এদিকে ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এখন শিক্ষার্থীদের নজর তদন্তের ফলাফল এবং প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।



























