হুতিদের নৌ অবরোধ ঘোষণার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট আরও জটিল রূপ নিয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে অবরোধ কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে। এই পদক্ষেপ শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
হুতিদের দাবি, ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে অন্যায্য অবরোধ ও চাপ সৃষ্টি করে আসছে। এর জবাবে ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতিতে তারা সৌদি আরবগামী নৌ চলাচলকে লক্ষ্যবস্তু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে টানা কয়েক দিনের হামলার ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ফলে দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতিও কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হুতিদের এই ঘোষণার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে বাব-এল-মান্দেব প্রণালিতে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি তেল ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন হয়। যদি এই রুটে চলাচল ব্যাহত হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও বাড়তে পারে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে।
তবে উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের দাবি, ওয়াশিংটন ও তেহরান এখনও আলোচনার পথ খোলা রাখার চেষ্টা করছে। এই কারণে হুতিদের ঘোষণার পর তেলের দাম সাময়িকভাবে বাড়লেও পরে কিছুটা স্থিতিশীল হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, সৌদি আরবের প্রতিক্রিয়া এবং হুতিদের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও নতুন করে সংঘাত বিস্তার ঠেকাতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে।



























