ঢাকা ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ধূমপান ও রান্নার ধোঁয়ায় নীরবে ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুস Logo ই-পেমেন্ট ক্রেডিটে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুবিধা Logo ভিসাবিহীন বাংলাদেশিদের দেশে ফেরার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন Logo সবুজবাগে কাতার প্রবাসী যুবক হত্যা, বান্ধবীর বাসায় কী ঘটেছিল Logo সন্তানকে সম্পত্তি দান করলেও থাকবে বাবা-মায়ের ভোগাধিকার Logo চন্দনাইশে বাংলাদেশ রংমিস্ত্রি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ২য় বর্ষপূতি উপলক্ষ্যে দোয়া মাহফিল এবং আলোচনা সভা Logo পুতিনের পর জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্পের দুই দূত Logo জসীম উদ্দীন আহমেদ এমপি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য Logo হজের নিবন্ধন করবেন যেভাবে Logo প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা ফেরত চেয়ে দেড় লাখ আমানতকারীর আবেদন

ভালো দামে জমে উঠেছে পশ্চিমাঞ্চলের পাটের বাজার, খুশি কৃষক

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৩:৫১:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • ৫৪৪

পশ্চিমাঞ্চলের এক পাটের হাটে বিক্রির জন্য আনা নতুন পাট। ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন হাটে নতুন পাটের কেনাবেচা শুরু হয়েছে। মৌসুমের শুরু থেকেই ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। বাজারে এখন প্রতি মণ পাট ৪ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও শুরুতে এর দাম ছিল আরও কিছুটা বেশি, তবুও বর্তমান বাজারদরকে সন্তোষজনক বলছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

ঝিনাইদহের শৈলকুপা, কোটচাঁদপুর, যশোরের চৌগাছা, কুষ্টিয়ার কুমারখালী, মেহেরপুরের গাংনী, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর এবং মাগুরার মহম্মদপুরসহ পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন মোকামে প্রতিদিন নতুন পাট আসছে। এসব বাজার থেকে পাইকাররা পাট কিনে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, যশোর ও বগুড়ার বিভিন্ন পাটকলে পাঠাচ্ছেন। ফলে মৌসুমের শুরুতেই বাজারে বেশ প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে।

তবে ভালো দামের পাশাপাশি কৃষকদের বড় চিন্তার কারণ উৎপাদন ব্যয়। পাট কাটা, জাগ দেওয়া, ধোয়া এবং শুকানোর জন্য আগের চেয়ে বেশি শ্রমিক খরচ করতে হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির অভাবে অনেক কৃষককে সেচ দিয়ে বীজ বপন করতে হয়েছে। এতে একদিকে যেমন খরচ বেড়েছে, অন্যদিকে লাভের হিসাবও কিছুটা কমে গেছে।

কৃষকদের ভাষ্য, তারপরও এ বছরের ফলন নিয়ে তারা আশাবাদী। ঝিনাইদহের সারুটিয়া গ্রামের কৃষক মন্টু মিয়া জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় প্রায় ১০ মণ ফলন হয়েছে এবং শৈলকুপা হাটে প্রতি মণ ৪ হাজার ৩০০ টাকা দরে পাট বিক্রি করেছেন। একই উপজেলার বিজুলিয়া গ্রামের কৃষক বাচ্চু মোল্লা বলেন, আট বিঘা জমিতে প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১১ মণ পাট উৎপাদন হয়েছে। তিনি বর্তমানে প্রতি মণ ৪ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার ৩০০ টাকা দাম পাচ্ছেন।

মেহেরপুরের তেঘরিয়া গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান জানান, তাদের এলাকায় এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। তবে এখনও পুরোপুরি কেনাবেচা শুরু হয়নি। অন্যদিকে ব্যবসায়ী নিরঞ্জন শিকদার বলেন, গড়াই নদীর তীরবর্তী এলাকার উৎপাদিত সোনালি রঙের উন্নতমানের পাটের চাহিদা সবসময় বেশি থাকে। এ ধরনের পাটের দামও তুলনামূলক ভালো পাওয়া যায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়ায় ৪০ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা এই অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া মাগুরায় ৩৪ হাজার ৮১৮ হেক্টর, যশোরে ২৫ হাজার ১২৫ হেক্টর, ঝিনাইদহে ২০ হাজার ২২৭ হেক্টর, মেহেরপুরে ২০ হাজার ৫৭৫ হেক্টর এবং চুয়াডাঙ্গায় ৯ হাজার ১৩৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আবাদের পরিমাণ ও ফলন—দুই দিক থেকেই এ বছর পরিস্থিতি ভালো।

মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির ঘাটতি থাকলেও পরে নিয়মিত বৃষ্টি হওয়ায় পাটের বৃদ্ধি স্বাভাবিক হয়েছে। জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে পাট কাটা শুরু হয় এবং খাল-বিল ও জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি থাকায় জাগ দেওয়ার কাজও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর কৃষকদের ভোগান্তি কম হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঝিনাইদহের উপপরিচালক মো. কমরুজ্জামান বলেন, এ বছর পাটের আবাদ ও ফলন দুটিই ভালো হয়েছে। বাজারে নতুন পাট উঠছে এবং দামও কৃষকদের জন্য সন্তোষজনক। উৎপাদন ব্যয় কিছুটা বেড়েছে, তবে বর্তমান বাজারদর বজায় থাকলে অধিকাংশ কৃষক লাভের মুখ দেখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ধূমপান ও রান্নার ধোঁয়ায় নীরবে ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুস

ভালো দামে জমে উঠেছে পশ্চিমাঞ্চলের পাটের বাজার, খুশি কৃষক

Update Time : ০৩:৫১:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন হাটে নতুন পাটের কেনাবেচা শুরু হয়েছে। মৌসুমের শুরু থেকেই ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। বাজারে এখন প্রতি মণ পাট ৪ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও শুরুতে এর দাম ছিল আরও কিছুটা বেশি, তবুও বর্তমান বাজারদরকে সন্তোষজনক বলছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

ঝিনাইদহের শৈলকুপা, কোটচাঁদপুর, যশোরের চৌগাছা, কুষ্টিয়ার কুমারখালী, মেহেরপুরের গাংনী, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর এবং মাগুরার মহম্মদপুরসহ পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন মোকামে প্রতিদিন নতুন পাট আসছে। এসব বাজার থেকে পাইকাররা পাট কিনে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, যশোর ও বগুড়ার বিভিন্ন পাটকলে পাঠাচ্ছেন। ফলে মৌসুমের শুরুতেই বাজারে বেশ প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে।

তবে ভালো দামের পাশাপাশি কৃষকদের বড় চিন্তার কারণ উৎপাদন ব্যয়। পাট কাটা, জাগ দেওয়া, ধোয়া এবং শুকানোর জন্য আগের চেয়ে বেশি শ্রমিক খরচ করতে হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির অভাবে অনেক কৃষককে সেচ দিয়ে বীজ বপন করতে হয়েছে। এতে একদিকে যেমন খরচ বেড়েছে, অন্যদিকে লাভের হিসাবও কিছুটা কমে গেছে।

আরও পড়ুন  হামের উপসর্গ: শিশু মৃত্যু ও আক্রান্তের নতুন তথ্য

কৃষকদের ভাষ্য, তারপরও এ বছরের ফলন নিয়ে তারা আশাবাদী। ঝিনাইদহের সারুটিয়া গ্রামের কৃষক মন্টু মিয়া জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় প্রায় ১০ মণ ফলন হয়েছে এবং শৈলকুপা হাটে প্রতি মণ ৪ হাজার ৩০০ টাকা দরে পাট বিক্রি করেছেন। একই উপজেলার বিজুলিয়া গ্রামের কৃষক বাচ্চু মোল্লা বলেন, আট বিঘা জমিতে প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১১ মণ পাট উৎপাদন হয়েছে। তিনি বর্তমানে প্রতি মণ ৪ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার ৩০০ টাকা দাম পাচ্ছেন।

আরও পড়ুন  জাইমা রহমানের উচ্ছ্বাসে ভাসল স্টেডিয়াম

মেহেরপুরের তেঘরিয়া গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান জানান, তাদের এলাকায় এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। তবে এখনও পুরোপুরি কেনাবেচা শুরু হয়নি। অন্যদিকে ব্যবসায়ী নিরঞ্জন শিকদার বলেন, গড়াই নদীর তীরবর্তী এলাকার উৎপাদিত সোনালি রঙের উন্নতমানের পাটের চাহিদা সবসময় বেশি থাকে। এ ধরনের পাটের দামও তুলনামূলক ভালো পাওয়া যায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়ায় ৪০ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা এই অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া মাগুরায় ৩৪ হাজার ৮১৮ হেক্টর, যশোরে ২৫ হাজার ১২৫ হেক্টর, ঝিনাইদহে ২০ হাজার ২২৭ হেক্টর, মেহেরপুরে ২০ হাজার ৫৭৫ হেক্টর এবং চুয়াডাঙ্গায় ৯ হাজার ১৩৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আবাদের পরিমাণ ও ফলন—দুই দিক থেকেই এ বছর পরিস্থিতি ভালো।

আরও পড়ুন  নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সিজিএস এর কর্মশালায় শীর্ষ নেতাদের

মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির ঘাটতি থাকলেও পরে নিয়মিত বৃষ্টি হওয়ায় পাটের বৃদ্ধি স্বাভাবিক হয়েছে। জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে পাট কাটা শুরু হয় এবং খাল-বিল ও জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি থাকায় জাগ দেওয়ার কাজও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর কৃষকদের ভোগান্তি কম হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঝিনাইদহের উপপরিচালক মো. কমরুজ্জামান বলেন, এ বছর পাটের আবাদ ও ফলন দুটিই ভালো হয়েছে। বাজারে নতুন পাট উঠছে এবং দামও কৃষকদের জন্য সন্তোষজনক। উৎপাদন ব্যয় কিছুটা বেড়েছে, তবে বর্তমান বাজারদর বজায় থাকলে অধিকাংশ কৃষক লাভের মুখ দেখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।