পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন হাটে নতুন পাটের কেনাবেচা শুরু হয়েছে। মৌসুমের শুরু থেকেই ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। বাজারে এখন প্রতি মণ পাট ৪ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও শুরুতে এর দাম ছিল আরও কিছুটা বেশি, তবুও বর্তমান বাজারদরকে সন্তোষজনক বলছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা, কোটচাঁদপুর, যশোরের চৌগাছা, কুষ্টিয়ার কুমারখালী, মেহেরপুরের গাংনী, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর এবং মাগুরার মহম্মদপুরসহ পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন মোকামে প্রতিদিন নতুন পাট আসছে। এসব বাজার থেকে পাইকাররা পাট কিনে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, যশোর ও বগুড়ার বিভিন্ন পাটকলে পাঠাচ্ছেন। ফলে মৌসুমের শুরুতেই বাজারে বেশ প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে।
তবে ভালো দামের পাশাপাশি কৃষকদের বড় চিন্তার কারণ উৎপাদন ব্যয়। পাট কাটা, জাগ দেওয়া, ধোয়া এবং শুকানোর জন্য আগের চেয়ে বেশি শ্রমিক খরচ করতে হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির অভাবে অনেক কৃষককে সেচ দিয়ে বীজ বপন করতে হয়েছে। এতে একদিকে যেমন খরচ বেড়েছে, অন্যদিকে লাভের হিসাবও কিছুটা কমে গেছে।
কৃষকদের ভাষ্য, তারপরও এ বছরের ফলন নিয়ে তারা আশাবাদী। ঝিনাইদহের সারুটিয়া গ্রামের কৃষক মন্টু মিয়া জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় প্রায় ১০ মণ ফলন হয়েছে এবং শৈলকুপা হাটে প্রতি মণ ৪ হাজার ৩০০ টাকা দরে পাট বিক্রি করেছেন। একই উপজেলার বিজুলিয়া গ্রামের কৃষক বাচ্চু মোল্লা বলেন, আট বিঘা জমিতে প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১১ মণ পাট উৎপাদন হয়েছে। তিনি বর্তমানে প্রতি মণ ৪ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার ৩০০ টাকা দাম পাচ্ছেন।
মেহেরপুরের তেঘরিয়া গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান জানান, তাদের এলাকায় এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। তবে এখনও পুরোপুরি কেনাবেচা শুরু হয়নি। অন্যদিকে ব্যবসায়ী নিরঞ্জন শিকদার বলেন, গড়াই নদীর তীরবর্তী এলাকার উৎপাদিত সোনালি রঙের উন্নতমানের পাটের চাহিদা সবসময় বেশি থাকে। এ ধরনের পাটের দামও তুলনামূলক ভালো পাওয়া যায়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়ায় ৪০ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা এই অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া মাগুরায় ৩৪ হাজার ৮১৮ হেক্টর, যশোরে ২৫ হাজার ১২৫ হেক্টর, ঝিনাইদহে ২০ হাজার ২২৭ হেক্টর, মেহেরপুরে ২০ হাজার ৫৭৫ হেক্টর এবং চুয়াডাঙ্গায় ৯ হাজার ১৩৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আবাদের পরিমাণ ও ফলন—দুই দিক থেকেই এ বছর পরিস্থিতি ভালো।
মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির ঘাটতি থাকলেও পরে নিয়মিত বৃষ্টি হওয়ায় পাটের বৃদ্ধি স্বাভাবিক হয়েছে। জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে পাট কাটা শুরু হয় এবং খাল-বিল ও জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি থাকায় জাগ দেওয়ার কাজও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর কৃষকদের ভোগান্তি কম হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঝিনাইদহের উপপরিচালক মো. কমরুজ্জামান বলেন, এ বছর পাটের আবাদ ও ফলন দুটিই ভালো হয়েছে। বাজারে নতুন পাট উঠছে এবং দামও কৃষকদের জন্য সন্তোষজনক। উৎপাদন ব্যয় কিছুটা বেড়েছে, তবে বর্তমান বাজারদর বজায় থাকলে অধিকাংশ কৃষক লাভের মুখ দেখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।




























