ঢাকা ০৩:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যের ৭ জনপ্রিয় খাবার, একবার খেলেই মনে থাকবে Logo ডিজিটাল অগ্রগতি: বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে Logo দিল্লি বিক্ষোভ: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল যন্তর মন্তর Logo নতুন নৌপ্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম: শক্তিশালী নেতৃত্বে শুরু নতুন অধ্যায় Logo নতুন নৌপ্রধানকে র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরালেন প্রধানমন্ত্রী Logo বাংলাদেশ পররাষ্ট্রনীতি: ট্রাম্পের বিশেষ দূতের গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা সফর, কী বার্তা মিলতে পারে? Logo ইরান যুদ্ধ বাজেট অনুমোদন: প্রতিনিধি পরিষদে নতুন পরিকল্পনা পাস Logo তেলের দাম বৃদ্ধি: আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা Logo রেংমিটচা ভাষা: বিলুপ্তির পথে বাংলাদেশের বিরল ভাষা Logo বিশ্বকাপে না খেলা ফুটবলার

দিল্লি বিক্ষোভ: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল যন্তর মন্তর

বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ | ছবি: সংগৃহীত

দিল্লি বিক্ষোভ ঘিরে ভারতের রাজধানীতে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। বুধবার রাতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়।

আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জও করেছে। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, কিছু বিক্ষোভকারী তাদের লক্ষ্য করে পাথর ও বোতল নিক্ষেপ করেন।

দিল্লি বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ। আন্দোলনকারীদের দাবি, পরীক্ষাব্যবস্থার অনিয়মের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

যন্তর মন্তরে বুধবার সকাল থেকেই হাজারো মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন। স্লোগান, জাতীয় পতাকা এবং প্রতিবাদী ব্যানার নিয়ে তারা সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। সন্ধ্যার পর আন্দোলনকারীদের সংখ্যা আরও বেড়ে যায় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটি শুরুতে অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবির কারণে আলোচনায় এসেছে। সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

দিল্লি বিক্ষোভ এখন ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনেও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলগুলো শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। কংগ্রেসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সরকারের বিরুদ্ধে সংসদেও বিষয়টি তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী দলের কয়েকজন নেতা সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, এর আগেও পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি।

অন্যদিকে সরকার জানিয়েছে, পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং অনিয়ম বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানা গেছে।

এই আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে চাকরির সংকট, পরীক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কারণে বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

দিল্লি মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার কারণে নয়াদিল্লি ও আশপাশের কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা চলবে বলে জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণদের এই আন্দোলন শুধু একটি পরীক্ষার অনিয়মের বিষয় নয়, বরং শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষের প্রকাশ। তাই সরকার কীভাবে এই সংকট মোকাবিলা করে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

দিল্লি বিক্ষোভ ভারতের রাজনীতি ও শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, একটি স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য পরীক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক, যাতে দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ থাকে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যের ৭ জনপ্রিয় খাবার, একবার খেলেই মনে থাকবে

দিল্লি বিক্ষোভ: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল যন্তর মন্তর

Update Time : ১২:৫১:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

দিল্লি বিক্ষোভ ঘিরে ভারতের রাজধানীতে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। বুধবার রাতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়।

আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জও করেছে। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, কিছু বিক্ষোভকারী তাদের লক্ষ্য করে পাথর ও বোতল নিক্ষেপ করেন।

দিল্লি বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ। আন্দোলনকারীদের দাবি, পরীক্ষাব্যবস্থার অনিয়মের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন  বিশ্বে ‘মানুষখেকো’ ছত্রাক ছড়িয়ে পড়ছে, কারণ বৈশ্বিক উষ্ণতা

যন্তর মন্তরে বুধবার সকাল থেকেই হাজারো মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন। স্লোগান, জাতীয় পতাকা এবং প্রতিবাদী ব্যানার নিয়ে তারা সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। সন্ধ্যার পর আন্দোলনকারীদের সংখ্যা আরও বেড়ে যায় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটি শুরুতে অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবির কারণে আলোচনায় এসেছে। সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন  জুলাই গণঅভ্যুত্থান: হৃদয়ছোঁয়া সত্য, অদম্য সংগ্রাম ও অদৃশ্য ক্ষত

দিল্লি বিক্ষোভ এখন ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনেও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলগুলো শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। কংগ্রেসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সরকারের বিরুদ্ধে সংসদেও বিষয়টি তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী দলের কয়েকজন নেতা সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, এর আগেও পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি।

অন্যদিকে সরকার জানিয়েছে, পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং অনিয়ম বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানা গেছে।

এই আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে চাকরির সংকট, পরীক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কারণে বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

আরও পড়ুন  সাবিনা আক্তার তুহিন গ্রেপ্তার, মিরপুর হামলা মামলায় সাবেক নারী এমপি ফের আটক

দিল্লি মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার কারণে নয়াদিল্লি ও আশপাশের কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা চলবে বলে জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণদের এই আন্দোলন শুধু একটি পরীক্ষার অনিয়মের বিষয় নয়, বরং শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষের প্রকাশ। তাই সরকার কীভাবে এই সংকট মোকাবিলা করে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

দিল্লি বিক্ষোভ ভারতের রাজনীতি ও শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, একটি স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য পরীক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক, যাতে দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ থাকে।