বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রগতি গত এক বছরে কিছুটা এগিয়েছে। আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেশের স্কোর আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে অগ্রগতি হলেও প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের তুলনায় এখনো বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে।আইটিইউর তথ্য অনুযায়ী, ভিয়েতনাম, ভুটান, কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা এমনকি মিয়ানমারও ডিজিটাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু মোবাইল নেটওয়ার্ক বাড়ানো যথেষ্ট নয়, মানুষকে সেই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ব্যাংকিং, শিক্ষা, সরকারি সেবা ও ব্যবসায় যুক্ত করতে হবে।
বাংলাদেশে প্রায় পুরো জনসংখ্যাই থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্কের আওতায় থাকলেও বাস্তবে মাত্র অর্ধেকের কিছু বেশি মানুষ নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। অনেকেই স্মার্টফোন ব্যবহার করলেও অনলাইন ব্যাংকিং, সরকারি ডিজিটাল সেবা বা অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর সুবিধা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা নেই।প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব, ডিজিটাল সেবার জটিলতা এবং সাধারণ মানুষের দক্ষতার ঘাটতি দেশের ডিজিটাল অগ্রগতি ধীর করে দিচ্ছে। ফলে অবকাঠামো উন্নত হলেও আন্তর্জাতিক সূচকে কাঙ্ক্ষিত অবস্থান তৈরি হচ্ছে না।
আইটিইউর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বের গড় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর তুলনায় বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে। বাড়িতে ইন্টারনেট সংযোগের ক্ষেত্রেও বৈশ্বিক গড়ের নিচে রয়েছে দেশ। ফলে ডিজিটাল অর্থনীতির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না।বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে প্রযুক্তির সহজ ব্যবহার নিশ্চিত করা, ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার, সরকারি সেবার সমন্বয় বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে আগামী বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আরও উন্নত হতে পারে।


























