চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ‘মা কালি সুইটস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়েছে। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাদ্য উৎপাদনের জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলার বরমা ইউনিয়নের বরমা বাজার এলাকায় চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুর রহমান এ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানকালে কারখানার ভেতরে অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মিষ্টি তৈরি, অপরিষ্কার সরঞ্জাম ব্যবহার, যথাযথ সংরক্ষণব্যবস্থার অভাব এবং খাদ্য প্রস্তুতের সময় ক্ষতিকর রং ও বিষাক্ত অ্যামোনিয়া ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া উৎপাদনস্থলে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করা, শ্রমিকদের নিরাপত্তা সামগ্রীর অভাব এবং খাদ্যপণ্য ঢেকে না রাখার মতো বিভিন্ন অনিয়মও ধরা পড়ে।
এসব অপরাধের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের অনিয়ম করলে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি প্রস্তুত ও সংরক্ষণের অভিযোগ আসছিল। অভিযোগের ভিত্তিতেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুর রহমান বলেন, “জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে। যারা খাদ্য উৎপাদনে অনিয়ম করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।“
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স, উৎপাদন প্রক্রিয়া, কাঁচামালের মান এবং সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়মিত তদারকি করা হবে। একই সঙ্গে ভোক্তাদেরও স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত খাদ্যপণ্য কেনার ক্ষেত্রে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

স্থানীয়রা এ অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত হলে খাদ্যপণ্যের মান উন্নত হবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা সতর্ক হবে।























