ঢাকা ০৭:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ব্যালন ডি’অর দৌড়ে এমবাপ্পে: ট্রফি ছাড়াই জয়ের দুর্দান্ত ইতিহাস

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:৫০:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • ৫৪৮

ব্যালন ডি’অরের অন্যতম আলোচিত দাবিদার কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছবি: সংগৃহীত

ব্যালন ডি’অর দৌড়ে এমবাপ্পে আবারও ফুটবলবিশ্বের অন্যতম আলোচনার বিষয়। ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—এবার ব্যালন ডি’অর কার হাতে উঠবে? বিশ্বকাপে স্পেন চ্যাম্পিয়ন হলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিচারে কিলিয়ান এমবাপ্পে নিজেকে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। যদিও ক্লাব কিংবা জাতীয় দলের হয়ে তিনি কোনো বড় শিরোপা জিততে পারেননি, তবুও তাঁর অসাধারণ গোল করার ধারাবাহিকতা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

অনেকের ধারণা, দলীয় ট্রফি ছাড়া ব্যালন ডি’অর জেতা প্রায় অসম্ভব। তবে ফুটবলের ইতিহাস ভিন্ন গল্প বলে। নব্বইয়ের দশকের পর অন্তত তিনজন ফুটবলার এমন কীর্তি গড়েছেন, যারা মৌসুমে বড় কোনো দলীয় শিরোপা না জিতেও বিশ্বের সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি পেয়েছেন। সেই তালিকায় রয়েছেন জর্জ উইয়াহ, লুইস ফিগো এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তাঁদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ভোটারদের এতটাই মুগ্ধ করেছিল যে দলীয় সাফল্যের অভাব বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

১৯৯৫ সালে জর্জ উইয়াহ পিএসজির হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছিলেন। চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি ইউরোপের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। একইভাবে ২০০০ সালে লুইস ফিগো বার্সেলোনার হয়ে অসাধারণ খেললেও লিগ বা ইউরোপিয়ান শিরোপা জিততে পারেননি। তারপরও তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাঁকে ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে নিয়ে যায়। ২০১৩ সালে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও দলীয় ট্রফি ছাড়াই ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন, কারণ সেই বছরে তাঁর গোলসংখ্যা ছিল অবিশ্বাস্য।

এবার এমবাপ্পের মৌসুমও অনেকটা সেই পথেই এগিয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে লা লিগায় ২৫ গোল করে আবারও পিচিচি ট্রফি জিতেছেন তিনি। চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৫ গোল করে হয়েছেন সর্বোচ্চ গোলদাতা। অন্যদিকে বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচে ১০ গোল করে জিতেছেন গোল্ডেন বুট এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনও দখল করেছেন। তবে এসব অর্জনের পরও রিয়াল মাদ্রিদ কিংবা ফ্রান্স—কোনো দলই বড় শিরোপা জিততে পারেনি।

ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে অবশ্য এমবাপ্পের সামনে আরও কয়েকজন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন। বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় রদ্রি, বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল, বুন্দেসলিগা জয়ী হ্যারি কেইন কিংবা অভিজ্ঞ লিওনেল মেসির নামও আলোচনায় আছে। তবে ভোটাররা দলীয় সাফল্যকে বেশি গুরুত্ব দেবেন, নাকি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সকে প্রাধান্য দেবেন—সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

ইতিহাস বলছে, ব্যালন ডি’অর শুধু ট্রফির ওপর নির্ভর করে না। অসাধারণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, ধারাবাহিক গোল এবং পুরো মৌসুমজুড়ে প্রভাব বিস্তারও এই পুরস্কারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই দলীয় শিরোপা না থাকলেও কিলিয়ান এমবাপ্পের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এখন দেখার বিষয়, অতীতের উইয়াহ, ফিগো ও রোনালদোর পথ অনুসরণ করে ফরাসি এই তারকা ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারটি নিজের করে নিতে পারেন কি না।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে আ.লীগের নতুন পরিকল্পনা

ব্যালন ডি’অর দৌড়ে এমবাপ্পে: ট্রফি ছাড়াই জয়ের দুর্দান্ত ইতিহাস

Update Time : ১২:৫০:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

ব্যালন ডি’অর দৌড়ে এমবাপ্পে আবারও ফুটবলবিশ্বের অন্যতম আলোচনার বিষয়। ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—এবার ব্যালন ডি’অর কার হাতে উঠবে? বিশ্বকাপে স্পেন চ্যাম্পিয়ন হলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিচারে কিলিয়ান এমবাপ্পে নিজেকে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। যদিও ক্লাব কিংবা জাতীয় দলের হয়ে তিনি কোনো বড় শিরোপা জিততে পারেননি, তবুও তাঁর অসাধারণ গোল করার ধারাবাহিকতা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

অনেকের ধারণা, দলীয় ট্রফি ছাড়া ব্যালন ডি’অর জেতা প্রায় অসম্ভব। তবে ফুটবলের ইতিহাস ভিন্ন গল্প বলে। নব্বইয়ের দশকের পর অন্তত তিনজন ফুটবলার এমন কীর্তি গড়েছেন, যারা মৌসুমে বড় কোনো দলীয় শিরোপা না জিতেও বিশ্বের সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি পেয়েছেন। সেই তালিকায় রয়েছেন জর্জ উইয়াহ, লুইস ফিগো এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তাঁদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ভোটারদের এতটাই মুগ্ধ করেছিল যে দলীয় সাফল্যের অভাব বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

আরও পড়ুন  ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড

১৯৯৫ সালে জর্জ উইয়াহ পিএসজির হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছিলেন। চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি ইউরোপের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। একইভাবে ২০০০ সালে লুইস ফিগো বার্সেলোনার হয়ে অসাধারণ খেললেও লিগ বা ইউরোপিয়ান শিরোপা জিততে পারেননি। তারপরও তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাঁকে ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে নিয়ে যায়। ২০১৩ সালে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও দলীয় ট্রফি ছাড়াই ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন, কারণ সেই বছরে তাঁর গোলসংখ্যা ছিল অবিশ্বাস্য।

আরও পড়ুন  অবিস্মরণীয় ফেরান তোরেস বিশ্বকাপ ফাইনাল গোল, স্পেনের ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান

এবার এমবাপ্পের মৌসুমও অনেকটা সেই পথেই এগিয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে লা লিগায় ২৫ গোল করে আবারও পিচিচি ট্রফি জিতেছেন তিনি। চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৫ গোল করে হয়েছেন সর্বোচ্চ গোলদাতা। অন্যদিকে বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচে ১০ গোল করে জিতেছেন গোল্ডেন বুট এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনও দখল করেছেন। তবে এসব অর্জনের পরও রিয়াল মাদ্রিদ কিংবা ফ্রান্স—কোনো দলই বড় শিরোপা জিততে পারেনি।

ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে অবশ্য এমবাপ্পের সামনে আরও কয়েকজন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন। বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় রদ্রি, বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল, বুন্দেসলিগা জয়ী হ্যারি কেইন কিংবা অভিজ্ঞ লিওনেল মেসির নামও আলোচনায় আছে। তবে ভোটাররা দলীয় সাফল্যকে বেশি গুরুত্ব দেবেন, নাকি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সকে প্রাধান্য দেবেন—সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপে বিয়ার বিক্রি রেকর্ড: ৫৫ লাখের বেশি ক্যান বিক্রি, জানুন চমকপ্রদ তথ্য

ইতিহাস বলছে, ব্যালন ডি’অর শুধু ট্রফির ওপর নির্ভর করে না। অসাধারণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, ধারাবাহিক গোল এবং পুরো মৌসুমজুড়ে প্রভাব বিস্তারও এই পুরস্কারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই দলীয় শিরোপা না থাকলেও কিলিয়ান এমবাপ্পের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এখন দেখার বিষয়, অতীতের উইয়াহ, ফিগো ও রোনালদোর পথ অনুসরণ করে ফরাসি এই তারকা ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারটি নিজের করে নিতে পারেন কি না।