ভিটামিন ডি শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান। এটি সূর্যের আলো থেকে স্বাভাবিকভাবে তৈরি হয় বলেই একে ‘সানশাইন ভিটামিন’ বলা হয়। হাড় ও দাঁত মজবুত রাখা থেকে শুরু করে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো, পেশির কার্যকারিতা বজায় রাখা এবং শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অথচ অনেক মানুষই অজান্তে এর ঘাটতিতে ভুগছেন।
নবজাতকের জন্য ভিটামিন ডি বিশেষভাবে প্রয়োজন। জন্মের পর শিশুর হাড় দ্রুত গঠিত হয় এবং এ সময় ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস ঠিকভাবে শোষণের জন্য ভিটামিন ডি অপরিহার্য। শুধু মায়ের দুধে সবসময় পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি থাকে না। তাই অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নবজাতককে ভিটামিন ডি ড্রপ দেওয়া হয়, যা রিকেটসসহ হাড়ের বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করে।
ভিটামিন ডি-এর প্রধান উৎস সূর্যের আলো। এছাড়া চর্বিযুক্ত সামুদ্রিক মাছ, ডিমের কুসুম, গরুর কলিজা, ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ দুধ ও কিছু ফোর্টিফায়েড খাবার থেকেও এটি পাওয়া যায়। তবে যারা দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরে থাকেন, খুব কম রোদে যান বা অপুষ্টিতে ভোগেন, তাদের শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
ভিটামিন ডি-এর অভাবে শিশুদের রিকেটস, প্রাপ্তবয়স্কদের অস্টিওম্যালেশিয়া (হাড় নরম হয়ে যাওয়া) এবং অস্টিওপোরোসিস (হাড় ক্ষয়) হতে পারে। এছাড়া পেশি দুর্বল হওয়া, হাড়ে ব্যথা, ঘন ঘন অসুস্থ হওয়া, ক্লান্তি এবং সহজে হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। দীর্ঘদিন ঘাটতি থাকলে দৈনন্দিন জীবনেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন কিছু সময় নিরাপদভাবে সূর্যের আলোতে থাকা, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ডি পরীক্ষা ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট খাওয়া ঠিক নয়। অতিরিক্ত গ্রহণে রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে কিডনিতে পাথর, বমি, কোষ্ঠকাঠিন্য ও কিডনির ক্ষতির মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।




























