ঢাকা ১২:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় চীনের ক্ষোভ, ‘প্রয়োজনীয় জবাব’ দেওয়ার ঘোষণা Logo ডাক অধিদপ্তরের সব কার্যালয় ও ডাকঘর এখন তামাকমুক্ত Logo জেন-জি ভাষা: ভারতের সংসদে ভাইরাল ট্রেন্ডের চমকপ্রদ ব্যবহার ২০২৬ Logo Claude চ্যাট প্রাইভেসি: কীভাবে ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ রাখবেন Logo ফিফার নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘিরে বিতর্ক, সদস্যদের ৪ কোটি ডলারের প্রস্তাব Logo প্রাচীন মানুষের পদচিহ্নে মিলল ১৪ লাখ বছরের পুরোনো নতুন তথ্য Logo জাপানের জনসংখ্যা ১২ কোটির নিচে: উদ্বেগ বাড়াচ্ছে জন্মহার সংকট Logo জরুরি আপডেট: গভীর নিম্নচাপ দুর্বল, বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল Logo সেদ্ধ ডিম নাকি ভাজি, ওজন কমাতে কোনটি বেশি কার্যকর? Logo চন্দনাইশে দুর্গাপূজা ২০২৬: মন্দিরের তালিকা উপজেলা প্রশাসনের কাছে প্রদান

কাঞ্চননগরের পেয়ারা: চন্দনাইশের বিখ্যাত স্বাদের গল্প

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৮:৫৬:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ৫১২

পেয়ারা চাষ বদলে দিয়েছে চন্দনাইশের অনেক কৃষকের জীবন। ছবি: সংগৃহীত

কাঞ্চননগরের পেয়ারা শুধু একটি ফল নয়, এটি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক ঐতিহ্যের নাম। স্বাদ, ঘ্রাণ ও আকারের কারণে দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের কাছে এই পেয়ারা আলাদা পরিচিতি পেয়েছে। পাহাড়ি মাটিতে জন্ম নেওয়া এই বিশেষ জাতের পেয়ারা এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের পছন্দের তালিকায় রয়েছে।চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চননগর ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই পেয়ারার চাষ হয়ে আসছে। স্থানীয়দের মতে, ব্রিটিশ আমলে ছোট পরিসরে শুরু হওয়া পেয়ারা চাষ সময়ের সঙ্গে বড় একটি কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে শত শত বাগানে এই পেয়ারা উৎপাদন হচ্ছে।

কাঞ্চননগরের পেয়ারা চাষ অনেক কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে। আগে যেসব পাহাড়ি জমি তেমন ব্যবহার করা হতো না, এখন সেসব জায়গায় গড়ে উঠেছে পেয়ারা বাগান। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই চাকরির পাশাপাশি বা বিকল্প পেশা হিসেবে পেয়ারা চাষে যুক্ত হচ্ছেন। চন্দনাইশের পাহাড়ি এলাকার মাটি এই পেয়ারার জন্য বিশেষ উপযোগী। পাহাড়ের পাদদেশে জমে থাকা নতুন পলি ও উর্বর মাটির কারণে এখানে পেয়ারা গাছ ভালো ফলন দেয়। কৃষকদের মতে, তুলনামূলক কম খরচে ভালো লাভ পাওয়া যায় এই চাষে।

প্রতিবছর বর্ষার শেষ সময় থেকে শুরু হয় কাঞ্চননগরের পেয়ারার মূল মৌসুম। সাধারণত আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বাজারে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় এই পেয়ারা। এ সময় ভোর থেকেই কৃষকরা পাহাড়ের বাগান থেকে পেয়ারা সংগ্রহ করে বাজারে নিয়ে আসেন।চাষিরা বিশেষভাবে তৈরি কাপড়ের পুটলিতে পেয়ারা বহন করেন। পাহাড়ি পথ পেরিয়ে কাঁধে করে তারা পেয়ারা নিয়ে আসেন স্থানীয় বাজারে। পরে পাইকার ও ব্যবসায়ীরা এসব পেয়ারা ট্রাক ও বিভিন্ন যানবাহনে করে দেশের নানা প্রান্তে পাঠিয়ে দেন।

চট্টগ্রামের সবচেয়ে পরিচিত পেয়ারা বাজারগুলোর মধ্যে রওশন হাট অন্যতম। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে হওয়ায় এই বাজারে প্রতিদিন অনেক ক্রেতার ভিড় দেখা যায়। ঢাকা, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভ্রমণের সময় এখান থেকে পেয়ারা কিনে নিয়ে যান।কাঞ্চননগরের পেয়ারা সাধারণত আকার ও মান অনুযায়ী বিভিন্ন দামে বিক্রি হয়। মৌসুমের শুরুতে ভালো মানের পেয়ারা তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হলেও উৎপাদন বাড়লে দাম কিছুটা কমে আসে। সাধারণত খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেয়ারা প্রায় ৫০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। তবে সময়, আকার ও বাজার অনুযায়ী দাম পরিবর্তন হয়।

বড় পাইকারি বাজারে পেয়ারা সাধারণত পুটলি হিসেবে বিক্রি করা হয়। ছোট পুটলিতে ৩০ থেকে ৫০টি, মাঝারি পুটলিতে ১০০টির মতো এবং বড় পুটলিতে কয়েকশ পেয়ারা রাখা হয়। ব্যবসায়ীরা চাহিদা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব পেয়ারা পাঠান।শুধু কৃষি নয়, কাঞ্চননগরের পেয়ারা এখন চট্টগ্রামের পর্যটন আকর্ষণের অংশ হয়ে উঠছে। বর্ষার শেষে পাহাড়ি এলাকায় পেয়ারা বাগানের সবুজ পরিবেশ দেখতে অনেকেই ঘুরতে আসেন। বাগান ঘুরে দেখা, তাজা পেয়ারা সংগ্রহ করা এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাওয়া যায়।

কীভাবে যাবেন কাঞ্চননগর?

ঢাকা থেকে:

  • ঢাকা → চট্টগ্রাম (বাস/ট্রেন)
  • চট্টগ্রাম শহর থেকে → চন্দনাইশ
  • চন্দনাইশ থেকে স্থানীয় যানবাহনে কাঞ্চননগর

চট্টগ্রাম শহর থেকে:

  • দূরত্ব: প্রায় ৩০-৪০ কিলোমিটার
  • সময়: যানজট অনুযায়ী ১ থেকে ২ ঘণ্টা

যাতায়াত:

  • বাস
  • সিএনজি
  • মাইক্রোবাস
  • ব্যক্তিগত গাড়ি

ভ্রমণের সেরা সময়

কাঞ্চননগরের পেয়ারা দেখতে ও কিনতে সবচেয়ে ভালো সময়:

আগস্ট থেকে নভেম্বর

এই সময়ে:

  • বাগানে পেয়ারা পাওয়া যায়
  • বাজারে সরবরাহ বেশি থাকে
  • তাজা পেয়ারা কেনার সুযোগ থাকে

 যা মনে রাখবেন

  • সকালে গেলে বাগানের পরিবেশ সবচেয়ে সুন্দর থাকে।
  • কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি পেয়ারা কিনলে ভালো দাম পাওয়া যায়।
  • পাহাড়ি এলাকায় চলাচলের সময় সতর্ক থাকতে হবে।
  • স্থানীয় কৃষকদের অনুমতি নিয়ে বাগানে প্রবেশ করা ভালো।

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও সংস্কৃতির মতোই কাঞ্চননগরের পেয়ারা এখন এই অঞ্চলের পরিচয়ের অংশ। একটি সাধারণ ফল কীভাবে হাজারো মানুষের জীবিকার উৎস হয়ে উঠতে পারে, তার সুন্দর উদাহরণ এই পেয়ারা। স্বাদ, ঐতিহ্য ও কৃষকের পরিশ্রম মিলিয়ে কাঞ্চননগরের পেয়ারা আজ চট্টগ্রামের গর্ব।

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় চীনের ক্ষোভ, ‘প্রয়োজনীয় জবাব’ দেওয়ার ঘোষণা

কাঞ্চননগরের পেয়ারা: চন্দনাইশের বিখ্যাত স্বাদের গল্প

Update Time : ০৮:৫৬:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

কাঞ্চননগরের পেয়ারা শুধু একটি ফল নয়, এটি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক ঐতিহ্যের নাম। স্বাদ, ঘ্রাণ ও আকারের কারণে দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের কাছে এই পেয়ারা আলাদা পরিচিতি পেয়েছে। পাহাড়ি মাটিতে জন্ম নেওয়া এই বিশেষ জাতের পেয়ারা এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের পছন্দের তালিকায় রয়েছে।চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চননগর ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই পেয়ারার চাষ হয়ে আসছে। স্থানীয়দের মতে, ব্রিটিশ আমলে ছোট পরিসরে শুরু হওয়া পেয়ারা চাষ সময়ের সঙ্গে বড় একটি কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে শত শত বাগানে এই পেয়ারা উৎপাদন হচ্ছে।

কাঞ্চননগরের পেয়ারা চাষ অনেক কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে। আগে যেসব পাহাড়ি জমি তেমন ব্যবহার করা হতো না, এখন সেসব জায়গায় গড়ে উঠেছে পেয়ারা বাগান। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই চাকরির পাশাপাশি বা বিকল্প পেশা হিসেবে পেয়ারা চাষে যুক্ত হচ্ছেন। চন্দনাইশের পাহাড়ি এলাকার মাটি এই পেয়ারার জন্য বিশেষ উপযোগী। পাহাড়ের পাদদেশে জমে থাকা নতুন পলি ও উর্বর মাটির কারণে এখানে পেয়ারা গাছ ভালো ফলন দেয়। কৃষকদের মতে, তুলনামূলক কম খরচে ভালো লাভ পাওয়া যায় এই চাষে।

আরও পড়ুন  চন্দনাইশে সাতবাড়িয়া ইউনিয়নে নগর পাড়া এলাকায় মোঃ আব্দুর রহমান (৬৩) নামে এক বৃদ্ধের গলিত লাশ উদ্ধার

প্রতিবছর বর্ষার শেষ সময় থেকে শুরু হয় কাঞ্চননগরের পেয়ারার মূল মৌসুম। সাধারণত আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বাজারে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় এই পেয়ারা। এ সময় ভোর থেকেই কৃষকরা পাহাড়ের বাগান থেকে পেয়ারা সংগ্রহ করে বাজারে নিয়ে আসেন।চাষিরা বিশেষভাবে তৈরি কাপড়ের পুটলিতে পেয়ারা বহন করেন। পাহাড়ি পথ পেরিয়ে কাঁধে করে তারা পেয়ারা নিয়ে আসেন স্থানীয় বাজারে। পরে পাইকার ও ব্যবসায়ীরা এসব পেয়ারা ট্রাক ও বিভিন্ন যানবাহনে করে দেশের নানা প্রান্তে পাঠিয়ে দেন।

চট্টগ্রামের সবচেয়ে পরিচিত পেয়ারা বাজারগুলোর মধ্যে রওশন হাট অন্যতম। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে হওয়ায় এই বাজারে প্রতিদিন অনেক ক্রেতার ভিড় দেখা যায়। ঢাকা, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভ্রমণের সময় এখান থেকে পেয়ারা কিনে নিয়ে যান।কাঞ্চননগরের পেয়ারা সাধারণত আকার ও মান অনুযায়ী বিভিন্ন দামে বিক্রি হয়। মৌসুমের শুরুতে ভালো মানের পেয়ারা তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হলেও উৎপাদন বাড়লে দাম কিছুটা কমে আসে। সাধারণত খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেয়ারা প্রায় ৫০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। তবে সময়, আকার ও বাজার অনুযায়ী দাম পরিবর্তন হয়।

আরও পড়ুন  ট্রেনে ছোড়া পাথরে এক চোখ হারালেন আইনজীবী, আতঙ্কে যাত্রীরা

বড় পাইকারি বাজারে পেয়ারা সাধারণত পুটলি হিসেবে বিক্রি করা হয়। ছোট পুটলিতে ৩০ থেকে ৫০টি, মাঝারি পুটলিতে ১০০টির মতো এবং বড় পুটলিতে কয়েকশ পেয়ারা রাখা হয়। ব্যবসায়ীরা চাহিদা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব পেয়ারা পাঠান।শুধু কৃষি নয়, কাঞ্চননগরের পেয়ারা এখন চট্টগ্রামের পর্যটন আকর্ষণের অংশ হয়ে উঠছে। বর্ষার শেষে পাহাড়ি এলাকায় পেয়ারা বাগানের সবুজ পরিবেশ দেখতে অনেকেই ঘুরতে আসেন। বাগান ঘুরে দেখা, তাজা পেয়ারা সংগ্রহ করা এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাওয়া যায়।

কীভাবে যাবেন কাঞ্চননগর?

ঢাকা থেকে:

  • ঢাকা → চট্টগ্রাম (বাস/ট্রেন)
  • চট্টগ্রাম শহর থেকে → চন্দনাইশ
  • চন্দনাইশ থেকে স্থানীয় যানবাহনে কাঞ্চননগর
আরও পড়ুন  ধোপাছড়ি চিড়িংঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হলেন সমাজসেবক মীর কুতুব উদ্দিন

চট্টগ্রাম শহর থেকে:

  • দূরত্ব: প্রায় ৩০-৪০ কিলোমিটার
  • সময়: যানজট অনুযায়ী ১ থেকে ২ ঘণ্টা

যাতায়াত:

  • বাস
  • সিএনজি
  • মাইক্রোবাস
  • ব্যক্তিগত গাড়ি

ভ্রমণের সেরা সময়

কাঞ্চননগরের পেয়ারা দেখতে ও কিনতে সবচেয়ে ভালো সময়:

আগস্ট থেকে নভেম্বর

এই সময়ে:

  • বাগানে পেয়ারা পাওয়া যায়
  • বাজারে সরবরাহ বেশি থাকে
  • তাজা পেয়ারা কেনার সুযোগ থাকে

 যা মনে রাখবেন

  • সকালে গেলে বাগানের পরিবেশ সবচেয়ে সুন্দর থাকে।
  • কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি পেয়ারা কিনলে ভালো দাম পাওয়া যায়।
  • পাহাড়ি এলাকায় চলাচলের সময় সতর্ক থাকতে হবে।
  • স্থানীয় কৃষকদের অনুমতি নিয়ে বাগানে প্রবেশ করা ভালো।

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও সংস্কৃতির মতোই কাঞ্চননগরের পেয়ারা এখন এই অঞ্চলের পরিচয়ের অংশ। একটি সাধারণ ফল কীভাবে হাজারো মানুষের জীবিকার উৎস হয়ে উঠতে পারে, তার সুন্দর উদাহরণ এই পেয়ারা। স্বাদ, ঐতিহ্য ও কৃষকের পরিশ্রম মিলিয়ে কাঞ্চননগরের পেয়ারা আজ চট্টগ্রামের গর্ব।