ঢাকা ০১:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ ১৫ আমল Logo এবার ফিফার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান কনক্যাকাফের ৪১ দেশের Logo উত্তর কাঞ্চননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদকে বরণ, আন্তঃবিদ্যালয় বার্ষিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ Logo জুমার দিনের আমল: বড় সওয়াবের এই সুযোগ হাতছাড়া করবেন না Logo অস্ট্রিয়ায় উচ্চশিক্ষা: ভর্তি, খরচ, স্কলারশিপ ও কাজের সুযোগ জানুন Logo গুঁড়া দুধ: স্বাস্থ্যকর নাকি ক্ষতিকর? জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ Logo সাকিব আল হাসান: জাফনা কিংসের জয়ে অলরাউন্ড পারফরম্যান্স Logo শিশুকে নামাজ শেখানো: রাসুল (সা.) কী নির্দেশ দিয়েছেন? Logo শিশুর চিনি খাওয়া কমালে মস্তিষ্ক ভালো থাকতে পারে, বলছে গবেষণা Logo ফিফা বিশ্বকাপ বয়কটের ঘোষণা UEFA-এর, বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘিরে নতুন বিতর্ক

গাজর নাকি আলু: রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে কোনটি বেশি উপকারী?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:০০:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৯

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে গাজর ও আলুর প্রভাব এক নয়। | ছবি: সংগৃহীত

ক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে গাজর নাকি আলু—এই প্রশ্নটি ডায়াবেটিস বা প্রিডায়াবেটিসে ভোগা অনেকেরই মনে আসে। অনেকেই মনে করেন আলু পুরোপুরি বাদ দিতে হবে, আবার কেউ কেউ গাজরেও কার্বোহাইড্রেট থাকার কারণে দ্বিধায় থাকেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, শুধু একটি সবজিকে ভালো বা খারাপ বললে চলবে না। বরং খাবারের পরিমাণ, রান্নার ধরন এবং কীসের সঙ্গে খাওয়া হচ্ছে—এসব বিষয়ই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজরে কার্বোহাইড্রেট তুলনামূলক কম এবং ফাইবার বেশি থাকায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে বাড়াতে সাহায্য করে। এক কাপ কাঁচা গাজরে প্রায় ১২ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট ও ৪ গ্রাম ফাইবার থাকে। এই ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে, ফলে খাবারের পর হঠাৎ রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। পাশাপাশি গাজর অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে, যা দীর্ঘমেয়াদে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যদিকে, আলুতে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। একটি মাঝারি আকারের আলুতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থাকে। তবে তাই বলে আলুকে অস্বাস্থ্যকর বলা যাবে না। আলুতে রয়েছে পটাশিয়াম, ভিটামিন সি এবং কিছু পরিমাণ ফাইবার, বিশেষ করে খোসাসহ খেলে এর পুষ্টিগুণ আরও বাড়ে।

রান্নার ধরনও এখানে বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাজা আলুর তুলনায় সেদ্ধ, বেকড বা ম্যাশড আলু রক্তে শর্করার ওপর কম নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এছাড়া রান্না করা আলু ঠান্ডা করে খেলে এতে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ তৈরি হয়, যা ধীরে হজম হয় এবং রক্তে শর্করার ওঠানামা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

তাহলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে গাজর নাকি আলু—কোনটি এগিয়ে? পুষ্টিবিদদের মতে, সমপরিমাণ খেলে গাজর সাধারণত ভালো বিকল্প। কারণ এতে কার্বোহাইড্রেট কম এবং ফাইবার বেশি। তবে আলুও সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সঠিক পরিমাণে এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে রান্না করে খেলে এটি একটি সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, আলু বা গাজর যেটিই খান না কেন, তা যেন প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বির সঙ্গে খাওয়া হয়। উদাহরণ হিসেবে বেকড আলুর সঙ্গে গ্রিলড মাছ বা মুরগি, আর গাজরের সঙ্গে চিকেন, সালমন বা ডালজাতীয় খাবার খেলে রক্তে শর্করা তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকে।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে শুধু একটি সবজি নির্বাচন করাই যথেষ্ট নয়। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা, সঠিক পরিমাণে খাবার গ্রহণ এবং খাবারের পর ১০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি বাদাম, ডাল, মাছ, অ্যাভোকাডো এবং পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবারের সঙ্গে কার্বোহাইড্রেট খেলে রক্তে শর্করার দ্রুত বৃদ্ধি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

সবশেষে বলা যায়, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে গাজর নাকি আলু—এই প্রশ্নের সহজ উত্তর হলো, গাজর কিছুটা এগিয়ে থাকলেও দুটি সবজিই স্বাস্থ্যকর। মূল বিষয় হলো সঠিক পরিমাণে খাওয়া, স্বাস্থ্যকরভাবে রান্না করা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা। বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে একটি নির্দিষ্ট সবজির চেয়ে পুরো খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপনই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ ১৫ আমল

গাজর নাকি আলু: রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে কোনটি বেশি উপকারী?

Update Time : ০৯:০০:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

ক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে গাজর নাকি আলু—এই প্রশ্নটি ডায়াবেটিস বা প্রিডায়াবেটিসে ভোগা অনেকেরই মনে আসে। অনেকেই মনে করেন আলু পুরোপুরি বাদ দিতে হবে, আবার কেউ কেউ গাজরেও কার্বোহাইড্রেট থাকার কারণে দ্বিধায় থাকেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, শুধু একটি সবজিকে ভালো বা খারাপ বললে চলবে না। বরং খাবারের পরিমাণ, রান্নার ধরন এবং কীসের সঙ্গে খাওয়া হচ্ছে—এসব বিষয়ই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজরে কার্বোহাইড্রেট তুলনামূলক কম এবং ফাইবার বেশি থাকায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে বাড়াতে সাহায্য করে। এক কাপ কাঁচা গাজরে প্রায় ১২ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট ও ৪ গ্রাম ফাইবার থাকে। এই ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে, ফলে খাবারের পর হঠাৎ রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। পাশাপাশি গাজর অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে, যা দীর্ঘমেয়াদে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও পড়ুন  জয়া আহসানের ফিটনেস রহস্য: চমকপ্রদ ডায়েট ও লাইফস্টাইল জানুন

অন্যদিকে, আলুতে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। একটি মাঝারি আকারের আলুতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থাকে। তবে তাই বলে আলুকে অস্বাস্থ্যকর বলা যাবে না। আলুতে রয়েছে পটাশিয়াম, ভিটামিন সি এবং কিছু পরিমাণ ফাইবার, বিশেষ করে খোসাসহ খেলে এর পুষ্টিগুণ আরও বাড়ে।

রান্নার ধরনও এখানে বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাজা আলুর তুলনায় সেদ্ধ, বেকড বা ম্যাশড আলু রক্তে শর্করার ওপর কম নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এছাড়া রান্না করা আলু ঠান্ডা করে খেলে এতে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ তৈরি হয়, যা ধীরে হজম হয় এবং রক্তে শর্করার ওঠানামা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

আরও পড়ুন  ডায়াবেটিসে কোন মাছ খাবেন? জেনে নিন সেরা ৫ মাছ

তাহলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে গাজর নাকি আলু—কোনটি এগিয়ে? পুষ্টিবিদদের মতে, সমপরিমাণ খেলে গাজর সাধারণত ভালো বিকল্প। কারণ এতে কার্বোহাইড্রেট কম এবং ফাইবার বেশি। তবে আলুও সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সঠিক পরিমাণে এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে রান্না করে খেলে এটি একটি সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, আলু বা গাজর যেটিই খান না কেন, তা যেন প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বির সঙ্গে খাওয়া হয়। উদাহরণ হিসেবে বেকড আলুর সঙ্গে গ্রিলড মাছ বা মুরগি, আর গাজরের সঙ্গে চিকেন, সালমন বা ডালজাতীয় খাবার খেলে রক্তে শর্করা তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকে।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে শুধু একটি সবজি নির্বাচন করাই যথেষ্ট নয়। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা, সঠিক পরিমাণে খাবার গ্রহণ এবং খাবারের পর ১০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি বাদাম, ডাল, মাছ, অ্যাভোকাডো এবং পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবারের সঙ্গে কার্বোহাইড্রেট খেলে রক্তে শর্করার দ্রুত বৃদ্ধি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

আরও পড়ুন  পেস্তা নাকি চিনাবাদাম: ওজন কমাতে কোনটি ভালো?

সবশেষে বলা যায়, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে গাজর নাকি আলু—এই প্রশ্নের সহজ উত্তর হলো, গাজর কিছুটা এগিয়ে থাকলেও দুটি সবজিই স্বাস্থ্যকর। মূল বিষয় হলো সঠিক পরিমাণে খাওয়া, স্বাস্থ্যকরভাবে রান্না করা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা। বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে একটি নির্দিষ্ট সবজির চেয়ে পুরো খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপনই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে।