ঢাকা ০১:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ ১৫ আমল Logo এবার ফিফার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান কনক্যাকাফের ৪১ দেশের Logo উত্তর কাঞ্চননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদকে বরণ, আন্তঃবিদ্যালয় বার্ষিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ Logo জুমার দিনের আমল: বড় সওয়াবের এই সুযোগ হাতছাড়া করবেন না Logo অস্ট্রিয়ায় উচ্চশিক্ষা: ভর্তি, খরচ, স্কলারশিপ ও কাজের সুযোগ জানুন Logo গুঁড়া দুধ: স্বাস্থ্যকর নাকি ক্ষতিকর? জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ Logo সাকিব আল হাসান: জাফনা কিংসের জয়ে অলরাউন্ড পারফরম্যান্স Logo শিশুকে নামাজ শেখানো: রাসুল (সা.) কী নির্দেশ দিয়েছেন? Logo শিশুর চিনি খাওয়া কমালে মস্তিষ্ক ভালো থাকতে পারে, বলছে গবেষণা Logo ফিফা বিশ্বকাপ বয়কটের ঘোষণা UEFA-এর, বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘিরে নতুন বিতর্ক

শিশুকে নামাজ শেখানো: রাসুল (সা.) কী নির্দেশ দিয়েছেন?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৯

পরিবার থেকেই শুরু হোক শিশুর দ্বীনি শিক্ষার ভিত্তি। ছবি: সংগৃহীত

শিশুকে নামাজ শেখানো ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক দায়িত্ব। ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে নামাজের প্রতি উৎসাহিত করলে তার মধ্যে আল্লাহভীতি, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠে। তাই ইসলাম শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি নামাজের অভ্যাস তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা নামাজকে এমন একটি ইবাদত হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা মানুষকে অশ্লীলতা ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে। মহান আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। আর আল্লাহর স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ।” (সুরা আল-আনকাবুত: ৪৫)। এই আয়াত থেকেই বোঝা যায়, নামাজ শুধু ইবাদত নয়, বরং একজন মানুষের চরিত্র গঠনেরও অন্যতম ভিত্তি।

শিশুকে নামাজ শেখানো সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সন্তান সাত বছর বয়সে পৌঁছালে তাকে নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিতে হবে। আর দশ বছর বয়সেও যদি সে অবহেলা করে, তাহলে শাসনের মাধ্যমে তাকে নামাজে অভ্যস্ত করতে হবে। পাশাপাশি সন্তানদের বিছানা আলাদা করার নির্দেশও দিয়েছেন। (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯৫)

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, যখন শিশু ডান ও বাম পার্থক্য করতে শেখে, তখন থেকেই তাকে নামাজের শিক্ষা দেওয়া উচিত। অর্থাৎ বয়সের পাশাপাশি শিশুর বোধশক্তির বিকাশের দিকেও গুরুত্ব দিয়েছে ইসলাম।

সাহাবায়ে কেরামও সন্তানদের ভালো কাজে অভ্যস্ত করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন, সন্তানদের নামাজের প্রতি যত্নবান করতে হবে এবং ভালো কাজের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কারণ ভালো কাজ নিয়মিত চর্চার মাধ্যমেই মানুষের স্বভাবে পরিণত হয়।

পবিত্র কোরআনে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর একটি বিশেষ গুণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি নিজের পরিবারকে নিয়মিত নামাজ ও জাকাতের নির্দেশ দিতেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, পরিবারে দ্বীনি পরিবেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব অভিভাবকদের ওপরই বর্তায়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) শুধু নির্দেশ দিয়েই থেমে থাকেননি, তিনি শিশুদের নামাজের খোঁজও নিতেন। হাদিসে উল্লেখ আছে, তিনি একবার জানতে চেয়েছিলেন, “এই শিশু কি নামাজ পড়েছে?” এতে বোঝা যায়, শিশুদের নামাজ আদায়ের বিষয়ে খোঁজ নেওয়াও সুন্নতের অংশ।

আলেমদের মতে, শিশুকে নামাজ শেখানো কখনো ভয়ভীতি দিয়ে শুরু করা উচিত নয়। বরং ভালোবাসা, উৎসাহ এবং নিজের আমলের মাধ্যমে সন্তানকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। মা-বাবা যদি নিজেরাই সময়মতো নামাজ আদায় করেন, তাহলে শিশুরাও সহজেই সেই অভ্যাস গ্রহণ করে।

সন্তানকে মসজিদে নিয়ে যাওয়া, পরিবারের সবাই মিলে জামাতে নামাজ পড়া, নামাজের পর ছোট ছোট দোয়া শেখানো এবং ইসলামের সুন্দর আদর্শ তুলে ধরা শিশুদের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে তারা নামাজকে দায়িত্ব নয়, বরং আনন্দের একটি অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে শেখে।

বিশেষজ্ঞ আলেমরা বলেন, শিশুকে কখনো কঠোর ভাষায় নয়, বরং ধৈর্য ও মমতার সঙ্গে নামাজ শেখানো উচিত। ছোট ছোট অর্জনের জন্য প্রশংসা করলে তাদের আগ্রহ আরও বাড়ে। পাশাপাশি নামাজের উপকারিতা ও আল্লাহর ভালোবাসার কথা সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলা প্রয়োজন।

সবশেষে বলা যায়, শিশুকে নামাজ শেখানো শুধু একটি ধর্মীয় দায়িত্ব নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নৈতিক, সৎ ও আল্লাহভীরু মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম। শৈশবেই যদি নামাজের অভ্যাস তৈরি হয়, তাহলে সেই আমল জীবনের প্রতিটি ধাপে একজন মুসলিমকে সঠিক পথে চলতে সহায়তা করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ ১৫ আমল

শিশুকে নামাজ শেখানো: রাসুল (সা.) কী নির্দেশ দিয়েছেন?

Update Time : ১০:০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

শিশুকে নামাজ শেখানো ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক দায়িত্ব। ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে নামাজের প্রতি উৎসাহিত করলে তার মধ্যে আল্লাহভীতি, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠে। তাই ইসলাম শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি নামাজের অভ্যাস তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা নামাজকে এমন একটি ইবাদত হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা মানুষকে অশ্লীলতা ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে। মহান আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। আর আল্লাহর স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ।” (সুরা আল-আনকাবুত: ৪৫)। এই আয়াত থেকেই বোঝা যায়, নামাজ শুধু ইবাদত নয়, বরং একজন মানুষের চরিত্র গঠনেরও অন্যতম ভিত্তি।

শিশুকে নামাজ শেখানো সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সন্তান সাত বছর বয়সে পৌঁছালে তাকে নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিতে হবে। আর দশ বছর বয়সেও যদি সে অবহেলা করে, তাহলে শাসনের মাধ্যমে তাকে নামাজে অভ্যস্ত করতে হবে। পাশাপাশি সন্তানদের বিছানা আলাদা করার নির্দেশও দিয়েছেন। (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯৫)

আরও পড়ুন  হজ শেষে ফিরেছেন ৭৩০৭৬ বাংলাদেশি

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, যখন শিশু ডান ও বাম পার্থক্য করতে শেখে, তখন থেকেই তাকে নামাজের শিক্ষা দেওয়া উচিত। অর্থাৎ বয়সের পাশাপাশি শিশুর বোধশক্তির বিকাশের দিকেও গুরুত্ব দিয়েছে ইসলাম।

সাহাবায়ে কেরামও সন্তানদের ভালো কাজে অভ্যস্ত করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন, সন্তানদের নামাজের প্রতি যত্নবান করতে হবে এবং ভালো কাজের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কারণ ভালো কাজ নিয়মিত চর্চার মাধ্যমেই মানুষের স্বভাবে পরিণত হয়।

পবিত্র কোরআনে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর একটি বিশেষ গুণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি নিজের পরিবারকে নিয়মিত নামাজ ও জাকাতের নির্দেশ দিতেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, পরিবারে দ্বীনি পরিবেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব অভিভাবকদের ওপরই বর্তায়।

আরও পড়ুন  ৫টি অজানা তথ্যে আর্জেন্টিনার ইসলাম নিয়ে ঐতিহাসিক এক অনন্য বিবরণী

রাসুলুল্লাহ (সা.) শুধু নির্দেশ দিয়েই থেমে থাকেননি, তিনি শিশুদের নামাজের খোঁজও নিতেন। হাদিসে উল্লেখ আছে, তিনি একবার জানতে চেয়েছিলেন, “এই শিশু কি নামাজ পড়েছে?” এতে বোঝা যায়, শিশুদের নামাজ আদায়ের বিষয়ে খোঁজ নেওয়াও সুন্নতের অংশ।

আলেমদের মতে, শিশুকে নামাজ শেখানো কখনো ভয়ভীতি দিয়ে শুরু করা উচিত নয়। বরং ভালোবাসা, উৎসাহ এবং নিজের আমলের মাধ্যমে সন্তানকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। মা-বাবা যদি নিজেরাই সময়মতো নামাজ আদায় করেন, তাহলে শিশুরাও সহজেই সেই অভ্যাস গ্রহণ করে।

সন্তানকে মসজিদে নিয়ে যাওয়া, পরিবারের সবাই মিলে জামাতে নামাজ পড়া, নামাজের পর ছোট ছোট দোয়া শেখানো এবং ইসলামের সুন্দর আদর্শ তুলে ধরা শিশুদের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে তারা নামাজকে দায়িত্ব নয়, বরং আনন্দের একটি অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে শেখে।

আরও পড়ুন  হজ শেষে দেশে ফিরলেন ৫২ হাজার হাজি, মৃত্যু ৪৯ জনের

বিশেষজ্ঞ আলেমরা বলেন, শিশুকে কখনো কঠোর ভাষায় নয়, বরং ধৈর্য ও মমতার সঙ্গে নামাজ শেখানো উচিত। ছোট ছোট অর্জনের জন্য প্রশংসা করলে তাদের আগ্রহ আরও বাড়ে। পাশাপাশি নামাজের উপকারিতা ও আল্লাহর ভালোবাসার কথা সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলা প্রয়োজন।

সবশেষে বলা যায়, শিশুকে নামাজ শেখানো শুধু একটি ধর্মীয় দায়িত্ব নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নৈতিক, সৎ ও আল্লাহভীরু মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম। শৈশবেই যদি নামাজের অভ্যাস তৈরি হয়, তাহলে সেই আমল জীবনের প্রতিটি ধাপে একজন মুসলিমকে সঠিক পথে চলতে সহায়তা করবে।