যমুনা নদীর তীব্র স্রোত ও বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে নদীভাঙন দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। বিশেষ করে বাচামারা, জিয়নপুর, কল্যাণপুর ও আশপাশের চরগুলোতে কয়েক সপ্তাহ ধরে অব্যাহত ভাঙনে শত শত বসতঘর, কৃষিজমি, গাছপালা এবং গ্রামীণ সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, বাঁধের ওপর কিংবা খোলা জায়গায় অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে। বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবার অভাবে শিশু, নারী ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক শিশুর লেখাপড়াও বন্ধ হয়ে গেছে, কারণ তাদের স্কুলে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নদীগর্ভে ফসলি জমি বিলীন হওয়ায় কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি দিনমজুর, জেলে ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও কাজ হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেক পরিবার এখন ত্রাণ ও মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা বলেন, শুধু খাদ্য সহায়তা নয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, নিরাপদ আশ্রয় নির্মাণ এবং টেকসই নদীভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।
আনভীর বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন (এবিজি) দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন দুর্যোগকবলিত এলাকায় খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পুনর্বাসনসহ নানা ধরনের মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে। বন্যা, শীত, ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিয়মিত ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। সংশ্লিষ্টরা জানান, ভবিষ্যতেও অসহায় মানুষের জন্য এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ত্রাণ পাওয়া পরিবারগুলো এবিজি ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাৎক্ষণিক খাদ্য সহায়তা তাদের জন্য অনেক বড় স্বস্তি। তবে স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান এবং নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে তারা নতুন করে জীবন শুরু করার সুযোগ পাবেন। স্থানীয়দের আশা, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ সমন্বিতভাবে চললে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।
















