ঢাকা ১২:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo রংপুর শিশু হাসপাতাল চালু: ১০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রীর সুখবর Logo গ্যাসের দাম বাড়বে না: সুখবর জানাল পেট্রোবাংলা | Logo মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা: ১২ দফা সংস্কার পরিকল্পনায় ইতিবাচক বার্তা Logo সঞ্জয় দেবের সংগ্রাম: অবিশ্বাস্য পথচলায় লস অ্যাঞ্জেলেসের কঠিন দিন Logo জুলাই অভ্যুত্থান: শক্তিশালী সংস্কার ও বিচার নিয়ে নতুন বার্তা Logo জিমি বাংলাদেশের মেসি: চমকপ্রদ মন্তব্য করলেন গেরহার্ড Logo বান্দরবান বন্যা ত্রাণে গো আপ ফাউন্ডেশনের মানবিক উদ্যোগে ৭৫৬ পরিবার পেল সহায়তা Logo ফুটবলে আগ্রহ কমছে: ৩৬% ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের খবরই রাখেন না | জরিপে চমক Logo কক্সবাজার রেলস্টেশন নিয়ে বড় সুখবর, আসছে নতুন ব্যবস্থাপনা Logo দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যাটিং ধস, বড় হারে শুরু বাংলাদেশের

সঞ্জয় দেবের সংগ্রাম: অবিশ্বাস্য পথচলায় লস অ্যাঞ্জেলেসের কঠিন দিন

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্যের পর নিজের সংগ্রামের গল্প শেয়ার করেছেন সঞ্জয় দেব। ছবি: সংগৃহীত

সঞ্জয় দেব—বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত একটি নাম। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশকে শৈল্পিকভাবে তুলে ধরার পর বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন এই তরুণ সংগীতশিল্পী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করলেও তার সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ এবং অসংখ্য কঠিন মুহূর্তের গল্প।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় দেব জানান, সংগীতজীবনের শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। তখন মিউজিক প্রোডাকশন সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা খুবই সীমিত ছিল। নিজের তৈরি গান শুনে বন্ধুরা যেমন বিরক্ত হতেন, তেমনি পরিবারের সদস্যরাও নানা প্রশ্ন করতেন। তবে সমালোচনার মাঝেও তিনি থেমে যাননি। সংগীতের প্রতি ভালোবাসাই তাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দিয়েছে।

শুধু তাই নয়, জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। সিলিকন ভ্যালি ছেড়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে যাওয়ার পর এমন দিনও গেছে, যখন বাসাভাড়া দেওয়ার মতো অর্থ ছিল না। পরিবারের কাছেও সেই বাস্তবতা তিনি গোপন রেখেছিলেন। কয়েকশ ডলার বাঁচানোর জন্য দীর্ঘ সময় ফ্লোরে ঘুমিয়েছেন। নিজের তৈরি মিউজিক বিটস ১০০ থেকে ১৫০ ডলারে বিক্রি করে জীবিকা চালিয়েছেন এবং সেই অর্থই আবার সংগীত তৈরিতে বিনিয়োগ করেছেন।

তার ভাষায়, সংগীতই ছিল জীবনের একমাত্র ভালোবাসা। অন্য কোনো বিষয় তাকে তেমন আকর্ষণ করত না। ফুটবল দেখতে ভালো লাগলেও শেষ পর্যন্ত তিনি বুঝেছেন, সংগীতই তার জীবনের আসল পরিচয়। তিনি বিশ্বাস করেন, গান এমন একটি ভাষা, যা মানুষকে এক সুতোয় বাঁধতে পারে। তাই যত বাধাই এসেছে, কখনো নিজের স্বপ্ন থেকে সরে যাননি।

বিশ্বকাপ উপলক্ষে নোরা ফাতেহির সঙ্গে প্রকাশিত ‘সির সির’ গানটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পরে ‘চ্যাম্পিয়ন’ গানেও নিজের গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালকের দক্ষতার প্রমাণ দেন সঞ্জয় দেব। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের সঙ্গে নতুন নতুন প্রজেক্টে কাজ করছেন তিনি।

সংগ্রামের দিনগুলোকে আজও ভুলে যাননি সঞ্জয় দেব। বরং সেই অভিজ্ঞতাই তাকে আরও দৃঢ় করেছে। তার বিশ্বাস, সফলতা একদিনে আসে না; কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য এবং নিজের স্বপ্নের প্রতি অটল বিশ্বাসই মানুষকে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। তাই তরুণদের জন্য তার বার্তা—প্রতিকূলতা যতই আসুক, নিজের ভালোবাসার কাজ কখনো ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুর শিশু হাসপাতাল চালু: ১০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রীর সুখবর

সঞ্জয় দেবের সংগ্রাম: অবিশ্বাস্য পথচলায় লস অ্যাঞ্জেলেসের কঠিন দিন

Update Time : ১১:১৩:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

সঞ্জয় দেব—বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত একটি নাম। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশকে শৈল্পিকভাবে তুলে ধরার পর বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন এই তরুণ সংগীতশিল্পী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করলেও তার সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ এবং অসংখ্য কঠিন মুহূর্তের গল্প।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় দেব জানান, সংগীতজীবনের শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। তখন মিউজিক প্রোডাকশন সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা খুবই সীমিত ছিল। নিজের তৈরি গান শুনে বন্ধুরা যেমন বিরক্ত হতেন, তেমনি পরিবারের সদস্যরাও নানা প্রশ্ন করতেন। তবে সমালোচনার মাঝেও তিনি থেমে যাননি। সংগীতের প্রতি ভালোবাসাই তাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দিয়েছে।

আরও পড়ুন  আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয়ের মতোই খেলেছি: ভোজিনিয়া

শুধু তাই নয়, জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। সিলিকন ভ্যালি ছেড়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে যাওয়ার পর এমন দিনও গেছে, যখন বাসাভাড়া দেওয়ার মতো অর্থ ছিল না। পরিবারের কাছেও সেই বাস্তবতা তিনি গোপন রেখেছিলেন। কয়েকশ ডলার বাঁচানোর জন্য দীর্ঘ সময় ফ্লোরে ঘুমিয়েছেন। নিজের তৈরি মিউজিক বিটস ১০০ থেকে ১৫০ ডলারে বিক্রি করে জীবিকা চালিয়েছেন এবং সেই অর্থই আবার সংগীত তৈরিতে বিনিয়োগ করেছেন।

আরও পড়ুন  মালিক সিনেমা: সব উপাদান থেকেও কেন জমল না?

তার ভাষায়, সংগীতই ছিল জীবনের একমাত্র ভালোবাসা। অন্য কোনো বিষয় তাকে তেমন আকর্ষণ করত না। ফুটবল দেখতে ভালো লাগলেও শেষ পর্যন্ত তিনি বুঝেছেন, সংগীতই তার জীবনের আসল পরিচয়। তিনি বিশ্বাস করেন, গান এমন একটি ভাষা, যা মানুষকে এক সুতোয় বাঁধতে পারে। তাই যত বাধাই এসেছে, কখনো নিজের স্বপ্ন থেকে সরে যাননি।

বিশ্বকাপ উপলক্ষে নোরা ফাতেহির সঙ্গে প্রকাশিত ‘সির সির’ গানটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পরে ‘চ্যাম্পিয়ন’ গানেও নিজের গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালকের দক্ষতার প্রমাণ দেন সঞ্জয় দেব। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের সঙ্গে নতুন নতুন প্রজেক্টে কাজ করছেন তিনি।

আরও পড়ুন  ঢাকায় কনসার্টে সঞ্জয়-প্রীতম, ফাইনালের আগে বড় চমক

সংগ্রামের দিনগুলোকে আজও ভুলে যাননি সঞ্জয় দেব। বরং সেই অভিজ্ঞতাই তাকে আরও দৃঢ় করেছে। তার বিশ্বাস, সফলতা একদিনে আসে না; কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য এবং নিজের স্বপ্নের প্রতি অটল বিশ্বাসই মানুষকে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। তাই তরুণদের জন্য তার বার্তা—প্রতিকূলতা যতই আসুক, নিজের ভালোবাসার কাজ কখনো ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।