সঞ্জয় দেব—বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত একটি নাম। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশকে শৈল্পিকভাবে তুলে ধরার পর বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন এই তরুণ সংগীতশিল্পী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করলেও তার সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ এবং অসংখ্য কঠিন মুহূর্তের গল্প।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় দেব জানান, সংগীতজীবনের শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। তখন মিউজিক প্রোডাকশন সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা খুবই সীমিত ছিল। নিজের তৈরি গান শুনে বন্ধুরা যেমন বিরক্ত হতেন, তেমনি পরিবারের সদস্যরাও নানা প্রশ্ন করতেন। তবে সমালোচনার মাঝেও তিনি থেমে যাননি। সংগীতের প্রতি ভালোবাসাই তাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দিয়েছে।
শুধু তাই নয়, জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। সিলিকন ভ্যালি ছেড়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে যাওয়ার পর এমন দিনও গেছে, যখন বাসাভাড়া দেওয়ার মতো অর্থ ছিল না। পরিবারের কাছেও সেই বাস্তবতা তিনি গোপন রেখেছিলেন। কয়েকশ ডলার বাঁচানোর জন্য দীর্ঘ সময় ফ্লোরে ঘুমিয়েছেন। নিজের তৈরি মিউজিক বিটস ১০০ থেকে ১৫০ ডলারে বিক্রি করে জীবিকা চালিয়েছেন এবং সেই অর্থই আবার সংগীত তৈরিতে বিনিয়োগ করেছেন।
তার ভাষায়, সংগীতই ছিল জীবনের একমাত্র ভালোবাসা। অন্য কোনো বিষয় তাকে তেমন আকর্ষণ করত না। ফুটবল দেখতে ভালো লাগলেও শেষ পর্যন্ত তিনি বুঝেছেন, সংগীতই তার জীবনের আসল পরিচয়। তিনি বিশ্বাস করেন, গান এমন একটি ভাষা, যা মানুষকে এক সুতোয় বাঁধতে পারে। তাই যত বাধাই এসেছে, কখনো নিজের স্বপ্ন থেকে সরে যাননি।
বিশ্বকাপ উপলক্ষে নোরা ফাতেহির সঙ্গে প্রকাশিত ‘সির সির’ গানটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পরে ‘চ্যাম্পিয়ন’ গানেও নিজের গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালকের দক্ষতার প্রমাণ দেন সঞ্জয় দেব। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের সঙ্গে নতুন নতুন প্রজেক্টে কাজ করছেন তিনি।
সংগ্রামের দিনগুলোকে আজও ভুলে যাননি সঞ্জয় দেব। বরং সেই অভিজ্ঞতাই তাকে আরও দৃঢ় করেছে। তার বিশ্বাস, সফলতা একদিনে আসে না; কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য এবং নিজের স্বপ্নের প্রতি অটল বিশ্বাসই মানুষকে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। তাই তরুণদের জন্য তার বার্তা—প্রতিকূলতা যতই আসুক, নিজের ভালোবাসার কাজ কখনো ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।
























