আরিয়ানা গ্র্যান্ডে আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে। তবে এবার নতুন গান ‘পেটাল’-এর জন্য যতটা না, তার চেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে নতুন মিউজিক ভিডিওতে তার শারীরিক গঠন নিয়ে। ভিডিওটি প্রকাশের পর অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী তার শারীরিক গঠন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, ভক্তদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, একজন শিল্পীর কাজের পরিবর্তে তার শরীর নিয়ে মন্তব্য করা অনুচিত।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) মুক্তি পায় আরিয়ানা গ্র্যান্ডের নতুন গান ‘পেটাল’-এর মিউজিক ভিডিও। পরিচালক ক্রিশ্চিয়ান ব্রেসলাউয়ার নির্মিত ভিডিওটিতে আরিয়ানাকে ‘পেপার’ নামের এক উদীয়মান শিল্পীর চরিত্রে দেখা যায়। গল্পে বারবার অডিশনে প্রত্যাখ্যাত হওয়া এবং ‘যোগ্য নন’ কিংবা ‘বাজারে বিক্রির উপযোগী নন’—এমন মন্তব্যের মুখোমুখি হওয়া এক শিল্পীর মানসিক যাত্রা তুলে ধরা হয়েছে। শেষ দৃশ্যে একটি ‘ফরচুন কুকি’ থেকে পাওয়া বার্তা তার আত্মবিশ্বাস ও নতুন আশার প্রতীক হিসেবে ফুটে ওঠে।
মিউজিক ভিডিওটির চিত্রায়ণ, প্রতীকী গল্প এবং আবেগঘন উপস্থাপনা অনেক দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে ভিডিও প্রকাশের পর ইনস্টাগ্রামে একটি অংশ শেয়ার করে আরিয়ানা লিখেছিলেন, “পেটাল, মিউজিক ভিডিও মুক্তি পেয়েছে।” এরপরই মন্তব্যের ঘরে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া জমা হতে থাকে। কেউ ভিডিওর নির্মাণশৈলী ও গানের প্রশংসা করেন, আবার অনেকে তার ওজন কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, অনেক ভক্ত এই ধরনের মন্তব্যের বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, একজন শিল্পীর শারীরিক গঠন নয়, বরং তার শিল্পকর্মই আলোচনার মূল বিষয় হওয়া উচিত। তারা মনে করেন, ব্যক্তিগত শারীরিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা শিল্পীর ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল। তাই তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন।
এটি প্রথমবার নয়, এর আগেও নিজের চেহারা নিয়ে জনসমক্ষে হওয়া মন্তব্যের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন আরিয়ানা গ্র্যান্ডে। ২০২৪ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, কারও চেহারা নিয়ে প্রশংসা কিংবা সমালোচনা—দুটিই অনেক সময় অস্বস্তিকর হতে পারে। তার মতে, অন্যের শরীর, মুখ বা শারীরিক গঠন নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করাকে সমাজ স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিচ্ছে, যা মোটেও ইতিবাচক সংস্কৃতি নয়।
নতুন গান ‘পেটাল’ ইতোমধ্যে শ্রোতাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এর গল্প ও নির্মাণশৈলীও প্রশংসিত হচ্ছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গানটির চেয়ে আরিয়ানা গ্র্যান্ডের শারীরিক গঠন নিয়েই বেশি আলোচনা হওয়ায় আবারও শিল্পীদের ব্যক্তিগত পরিসর, শরীর নিয়ে মন্তব্য এবং অনলাইন আচরণ নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।























