সিংহের মৃত্যু ঘিরে জাপানের টোকিওর তামা জুলজিক্যাল পার্কে শোক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে সেখানে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে তিনটি সিংহী। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠে যাওয়ায় সিংহগুলো তীব্র পানিশূন্যতা ও একাধিক অঙ্গ বিকলের মতো জটিলতায় আক্রান্ত হয়েছিল।
ঘটনার শুরু ১৯ জুলাই। তিন বছর বয়সী মুগি নামের একটি সিংহী হঠাৎ খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেয়। পরদিন সেটি দাঁড়ানোর ক্ষমতাও হারায়। চিকিৎসকরা ফ্যান, স্যালাইন ও ভিটামিন দিয়ে তাকে সুস্থ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২৮ জুলাই মুগির মৃত্যু হয়। এরপর ৩১ জুলাই ১১ বছর বয়সী ইচিগো এবং ২ আগস্ট ১৫ বছর বয়সী লুয়েনারও মৃত্যু হয়।
সিংহের মৃত্যুতে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত গরমকে সবচেয়ে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মৃত সিংহগুলোর নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অসুস্থ অবস্থায় থাকা অন্য সিংহগুলোর জন্য এয়ারকন্ডিশনার ও বড় ফ্যানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চিকিৎসার পর কয়েকটি সিংহের শারীরিক অবস্থারও উন্নতি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিংহ মানুষের মতো শরীরের ঘাম দিয়ে সহজে তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তারা মূলত দ্রুত শ্বাস নেওয়ার মাধ্যমে শরীরের অতিরিক্ত তাপ কমানোর চেষ্টা করে। কিন্তু বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে এবং হঠাৎ তাপমাত্রা বেড়ে গেলে এই প্রক্রিয়া যথেষ্ট কার্যকর নাও হতে পারে। ফলে দীর্ঘ সময় প্রচণ্ড গরমের মধ্যে থাকলে সিংহের শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে।
১৯৬৪ সাল থেকে তামা চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণ ছিল সাফারি বাস থেকে দর্শনার্থীদের সিংহ দেখার সুযোগ। কিন্তু সিংহগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ার পর আপাতত সাফারি বাস সার্ভিস ও উন্মুক্ত প্রদর্শন বন্ধ রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রাণীগুলোর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে জাপানজুড়ে চলমান তীব্র তাপদাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এবারের গ্রীষ্মে প্রচণ্ড গরমের কারণে দেশটিতে ৪৩ হাজারের বেশি মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের পাশাপাশি চিড়িয়াখানার প্রাণীদের ওপরও অতিরিক্ত তাপের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তিন সিংহীর সিংহের মৃত্যু তাই শুধু একটি চিড়িয়াখানার ঘটনা নয়, বরং ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার প্রভাব নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।



























