আন্তর্জাতিক বিড়াল দিবস পালিত হচ্ছে আজ ৮ আগস্ট। বিড়ালপ্রেমীদের জন্য দিনটি যেমন আনন্দের, তেমনি পোষা বিড়ালের যত্ন ও কল্যাণ নিয়ে সচেতন হওয়ারও একটি সুযোগ। ২০০২ সালে International Fund for Animal Welfare বা IFAW-এর উদ্যোগে দিবসটি চালু করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বিড়ালের প্রয়োজন, সুরক্ষা ও কল্যাণ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো।
বাড়িতে বিড়াল থাকলে বিশেষ কোনো আয়োজন ছাড়াও তাকে খুশি রাখা যায়। তার পছন্দের খাবার, খেলাধুলার সুযোগ কিংবা একটু বেশি সময় সঙ্গে কাটানোই হতে পারে দিনের সেরা উপহার। তবে আনন্দের পাশাপাশি বিড়ালের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি।
পছন্দের খাবার দিতে পারেন
বিড়ালের জন্য বাড়িতে তৈরি নিরাপদ খাবার দিতে পারেন। তবে নতুন কোনো খাবার দেওয়ার আগে সেটি তার জন্য উপযোগী কি না, তা নিশ্চিত হওয়া দরকার। অ্যালার্জি বা খাদ্য অসহিষ্ণুতা থাকলে সংশ্লিষ্ট উপাদান এড়িয়ে চলুন। নতুন খাবার বেশি পরিমাণে না দিয়ে অল্প দিয়ে শুরু করাই ভালো।
নতুন খেলনা দিন
খেলতে ভালোবাসে এমন বিড়ালের জন্য নতুন খেলনা হতে পারে দারুণ উপহার। বল, তাড়া করার খেলনা কিংবা ধাঁধা ধরনের খেলনা দিয়ে তাকে ব্যস্ত রাখা যায়। তবে খেলনাটি যেন বিড়ালের জন্য নিরাপদ হয় এবং ছোট কোনো অংশ গিলে ফেলার ঝুঁকি না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
নিজের হাতে তৈরি সহজ খেলনাও ব্যবহার করা যায়। তবে সুতা, ফিতা বা ছোট অংশের খেলনা বিড়ালকে একা রেখে দেওয়া উচিত নয়।
ঘরটা বিড়ালের উপযোগী কি না দেখুন
এই দিনটি বিড়ালের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যাচাই করারও ভালো সময়। খাবার ও পানির বাটি, লিটার ট্রে, ঘুমানোর জায়গা এবং আঁচড়ানোর ব্যবস্থা ঠিক আছে কি না দেখে নিন।
একাধিক বিড়াল থাকলে তাদের জন্য পর্যাপ্ত আলাদা জায়গা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখা ভালো। এতে বিড়ালের মধ্যে চাপ ও প্রতিযোগিতা কমতে পারে।
জানালার পাশে বানিয়ে দিন ‘বার্ড ওয়াচিং’ স্পট
অনেক বিড়াল জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকতে পছন্দ করে। তাই জানালার পাশে নিরাপদ একটি চেয়ার, তাক বা ক্যাট ট্রি রাখা যেতে পারে। বাইরে পাখি দেখার সুযোগ পেলে ঘরের বিড়ালও দীর্ঘ সময় ব্যস্ত থাকতে পারে।
তবে জানালা বা বারান্দা যেন নিরাপদ থাকে, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। বিড়াল যাতে বাইরে পড়ে না যায় বা পালিয়ে যেতে না পারে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
একটু বেশি সময় খেলুন
বিড়ালের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য আলাদা কোনো আয়োজনের প্রয়োজন নেই। তার পছন্দের খেলনা নিয়ে কিছুক্ষণ খেলুন, আদর করুন কিংবা পাশে বসে সময় দিন।
সব বিড়ালের স্বভাব এক নয়। কেউ খেলতে পছন্দ করে, কেউ আবার শান্তভাবে পাশে বসে থাকতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তাই আপনার বিড়াল কী পছন্দ করে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ছবি তুলে রাখুন স্মৃতি
বিড়ালের ছবি তোলার জন্যও দিনটি হতে পারে চমৎকার উপলক্ষ। প্রাকৃতিক আলোতে ছবি তুললে সাধারণত ভালো ফল পাওয়া যায়। ফ্ল্যাশ ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ এতে বিড়াল ভয় পেতে পারে।
ছবি তোলার সময় বিড়ালের চোখের সমান উচ্চতায় ক্যামেরা রাখলে আরও সুন্দর ছবি পাওয়া যায়। তবে ছবি তোলার জন্য তাকে জোর করে কোনো পোশাক পরানো বা অস্বস্তিকর অবস্থায় রাখা উচিত নয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যত্ন ও নিরাপত্তা
একটি বিড়ালকে ভালোবাসার অর্থ শুধু তাকে খাবার দেওয়া নয়। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পরিবেশ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পশুচিকিৎসকের পরামর্শও তার যত্নের অংশ।
বিড়ালের আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন, খাওয়ার অভ্যাস বদলে যাওয়া কিংবা অসুস্থতার কোনো লক্ষণ দেখা দিলে নিজের মতো করে চিকিৎসা না করে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আন্তর্জাতিক বিড়াল দিবস তাই শুধু বিড়ালকে আদর করার একটি দিন নয়। এটি পোষা প্রাণীর প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার কথাও মনে করিয়ে দেয়। ২০০২ সালে চালু হওয়া এই দিবসের মূল লক্ষ্যও ছিল বিড়ালের কল্যাণ ও প্রয়োজন নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা। ২০২০ সালে International Cat Care দিবসটির দেখভালের দায়িত্ব নেয়।
আজকের দিনে আপনার বিড়ালকে তার পছন্দের খাবার, নতুন খেলনা কিংবা একটু বাড়তি সময় উপহার দিতে পারেন। আর যদি নিজের কোনো বিড়াল না থাকে, তাহলে আশপাশের অসহায় বা পথবিড়ালের জন্য খাবার ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করাও হতে পারে মানবিক একটি উদ্যোগ।


























