রোনালদোর বিয়ের গুজবে মাদেইরার একটি ক্যাথেড্রালের সামনে জড়ো হয়েছিলেন শত শত মানুষ। পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজের বিয়ে হচ্ছে, এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই সেখানে ভিড় করেন কৌতূহলী মানুষ। হাতে ছিল ক্যামেরা ও মুঠোফোন, সবার অপেক্ষা ছিল প্রিয় তারকাকে একঝলক দেখার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রোনালদো-জর্জিনা নয়, অন্য এক দম্পতিকে বিয়ে করতে দেখেছেন অপেক্ষমাণ মানুষ।
স্থানীয় সময় শনিবার বিকেলে পর্তুগালের মাদেইরার ফুনশাল ক্যাথেড্রালের সামনে এই ভিড় দেখা যায়। ইউরোপের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে রোনালদো ও জর্জিনার বিয়ের তারিখ এবং স্থান নিয়ে খবর প্রকাশের পর থেকেই সেখানে মানুষের আনাগোনা বাড়তে থাকে। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, গোপনীয়তা বজায় রেখে বিয়ের আয়োজন করছেন রোনালদো। সেই আশায় কেউ ক্যামেরা নিয়ে, আবার কেউ মুঠোফোন হাতে ক্যাথেড্রালের সামনে অপেক্ষা করছিলেন।
অবশেষে ক্যাথেড্রালের সামনে এসে উপস্থিত হন বর-কনে। তবে তাঁরা ছিলেন নিকোল ও ফাবিও নামের এক দম্পতি, যাঁদের বিয়ের আয়োজন ছিল সেদিনই। নিকোল ক্যাথেড্রালে প্রবেশের সময় রাস্তার দুই পাশে শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন। কনেকে দেখার পরই অপেক্ষমাণ মানুষের ভুল ভাঙে এবং পরিষ্কার হয়ে যায়, রোনালদোর বিয়ের খবরের সঙ্গে এই অনুষ্ঠানের কোনো সম্পর্ক নেই।
পরে বিষয়টি নিশ্চিত করে ফুনশাল ক্যাথেড্রাল কর্তৃপক্ষও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিকোল ও ফাবিওকে অভিনন্দন জানিয়ে দেওয়া এক পোস্টে তারা জানায়, রোনালদোকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনের কারণে বাইরে বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক ও পর্যটক জড়ো হয়েছিলেন। পরিস্থিতি এতটাই অস্বাভাবিক ছিল যে নিকোলের জন্য ক্যাথেড্রালের ভেতরে প্রবেশ করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। ক্যাথেড্রাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি তারা আগে কখনো হয়নি।
রোনালদো ও জর্জিনার বিয়ের গুঞ্জনের পেছনে অবশ্য বেশ জোরালো একটি সূত্র ছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান সম্প্রতি দাবি করে, শনিবার মাদেইরায় রোনালদো ও জর্জিনার বিয়ে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিবেদনে শুধু তারিখ ও স্থান নয়, বিয়ের সময়, ফুনশালের স্যাভয় প্যালেসে অনুষ্ঠান এবং সম্ভাব্য অতিথিদের তালিকা নিয়েও নানা তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল।
এরপর আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমেও একই ধরনের খবর প্রকাশিত হয়। ফলে রোনালদোর ভক্তদের মধ্যে বিয়ের বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য বিয়ের ছবি ও ভিডিও পাওয়ার আশায় মাদেইরার বিভিন্ন স্থানের দিকে নজর রাখছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি এবং ক্যাথেড্রালের সামনে জড়ো হওয়া মানুষকে হতাশ হয়েই ফিরতে হয়েছে।
রোনালদো ও জর্জিনা দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্কে রয়েছেন এবং তাঁদের পরিবারও রয়েছে। তাঁদের বিয়ে নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে এবারও ছড়িয়ে পড়া নির্দিষ্ট তারিখ ও স্থানসংক্রান্ত খবরের সত্যতা মেলেনি। ফলে মাদেইরার ক্যাথেড্রালের সামনে শত শত মানুষের ভিড় শেষ পর্যন্ত হয়ে রইল একটি বিয়ের গুজবকে ঘিরে তৈরি হওয়া অদ্ভুত এক ঘটনার সাক্ষী।
বাস্তবে সেদিন রোনালদো-জর্জিনার বিয়ে হয়নি। বরং তাঁদের বিয়ের গুজবের কারণে অন্য এক দম্পতির বিশেষ দিনটি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে মানুষের ব্যাপক কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। নিকোল ও ফাবিওর বিয়েতে এমন ভিড় তৈরি হওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রোনালদোর জনপ্রিয়তা যে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের একটি গুজবকেও মুহূর্তে বড় ঘটনায় পরিণত করতে পারে, এই ঘটনাই তার নতুন উদাহরণ।



























