আজকের ফুটবল বিশ্বে বয়স যে কেবল একটি সংখ্যা, সেটি বারবার প্রমাণ করে চলেছেন লিওনেল মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামার আগে আর্জেন্টাইন মহাতারকার সামনে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাস গড়ার বিরল এক সুযোগ। মাত্র একটি ম্যাচেই তিনি বিশ্বকাপের তিনটি বড় রেকর্ড এককভাবে নিজের করে নিতে পারেন।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। ৩-০ গোলের সেই জয়ে দলের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিয়েছেন মেসি। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সমর্থকদের প্রত্যাশাও অনেক বেড়ে গেছে।
সোমবার ডালাসে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে এই ম্যাচটি শুধুমাত্র তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাস নতুন করে লেখার মঞ্চও হতে যাচ্ছে।
প্রথম যে রেকর্ডটি মেসির নাগালে রয়েছে, সেটি হলো বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসন। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের পর বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬-তে। এর মাধ্যমে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করেছেন।
এখন অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর মাত্র একটি গোল করলেই ১৭ গোল নিয়ে বিশ্বকাপের একক সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যাবেন মেসি। দীর্ঘদিন ধরে ক্লোসার দখলে থাকা এই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়তে পারেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।
শুধু গোলের রেকর্ড নয়, সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডেও ক্লোসাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে তার সামনে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে জয়টি ছিল বিশ্বকাপে মেসির ১৬তম জয়, যা ক্লোসার অর্জনের সমান।
যদি অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনা জয় পায়, তাহলে ১৭টি জয় নিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ফুটবলার হয়ে উঠবেন মেসি। এমন অর্জন তাকে আরও এক ধাপ অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় রেকর্ডগুলোর একটি অপেক্ষা করছে দূরপাল্লার গোলের তালিকায়। বিশ্বকাপ ইতিহাসে ডি-বক্সের বাইরে থেকে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড এতদিন ধরে ধরে রেখেছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রবার্তো রিভেলিনো।
১৯৭০ ও ১৯৭৪ বিশ্বকাপ মিলিয়ে রিভেলিনো পাঁচটি দূরপাল্লার গোল করেছিলেন। আলজেরিয়ার বিপক্ষে বাঁ পায়ের অসাধারণ এক শটে গোল করে সেই রেকর্ডে সমতা এনেছেন মেসি।
রিভেলিনো তার পাঁচটি গোল করেছিলেন চেকোস্লোভাকিয়া, পেরু, উরুগুয়ে, জাইরে ও পূর্ব জার্মানির বিপক্ষে। অন্যদিকে মেসির গোলগুলো এসেছে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপে ছড়িয়ে।
২০১৪ বিশ্বকাপে বসনিয়া, ইরান ও নাইজেরিয়ার বিপক্ষে বক্সের বাইরে থেকে গোল করেছিলেন তিনি। এরপর ২০২২ সালে মেক্সিকো ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একই কীর্তি গড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
সবশেষে ২০২৬ বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আরেকটি দূরপাল্লার গোল করে রিভেলিনোর রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন তিনি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আরেকটি এমন গোল করতে পারলে এককভাবে শীর্ষে উঠে যাবেন মেসি।
রেকর্ড ভাঙা কিংবা নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করা মেসির ক্যারিয়ারের পরিচিত অধ্যায়। তবে একই ম্যাচে বিশ্ব ফুটবলের তিনটি বড় মাইলফলক স্পর্শ করার সুযোগ তার ক্যারিয়ারেও খুব বেশি আসেনি।
এ কারণে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি ঘিরে বাড়তি উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে। সবাই অপেক্ষা করছেন, আরেকবার ইতিহাসের পাতায় সোনালি অক্ষরে লেখা হবে কি না লিওনেল মেসির নাম।
ডালাসের সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয় যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে মেসির ব্যক্তিগত অর্জনের সম্ভাবনাও। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বিশ্বকাপের আরেকটি স্মরণীয় রাতের সাক্ষী হতে পারে ফুটবল বিশ্ব।

























