ঢাকা ১২:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ায় এমপি আমির হামজার গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:০৩:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১১

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত আমির হামজার গাড়ি। | ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ায় আমির হামজার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে শহরের থানাপাড়া জামে মসজিদের সামনে ছয় রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা কাজ করেন।

জেলা জামায়াতের আমির খন্দকার এ কে এম আলী মহসীন অভিযোগ করেন, গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা আমির হামজার গাড়িতে হামলা করেছেন। তাঁর দাবি, হামলাকারীদের সঙ্গে বিএনপির ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরাও ছিলেন। ইটের আঘাতে গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে যায় বলে তিনি জানান। তবে আমির হামজা আঘাত পাননি এবং তিনি নিজ বাসায় আছেন বলে জানান জামায়াতের এই নেতা।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, আমির হামজার একটি বক্তব্যের প্রতিবাদে গণ অধিকার পরিষদ ছয় রাস্তার মোড়ে সমাবেশ করছিল। সন্ধ্যার দিকে আমির হামজা গাড়িতে করে ওই এলাকা দিয়ে বাসার দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় সমাবেশ থেকে স্লোগান দেওয়া হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরে ইটপাটকেল ছোড়াছুড়িতে গাড়ির কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ঘটনার পর আমির হামজাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে তাঁর সমর্থকেরা হেঁটে বাড়ির দিকে নিয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় পাঁচ মিনিট পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলেই ছিল এবং ভাঙচুরের ঘটনা হঠাৎ ঘটে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এদিকে গণ অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন দাবি করেছেন, তাঁদের কর্মসূচি শেষে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা হামলা চালান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এতে গণ অধিকার পরিষদের বহু নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। সংগঠনটির কুষ্টিয়া জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

ঘটনার পর শহরের হাইস্কুল মার্কেটে গণ অধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে। পরে একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়েও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া সাংবাদিকদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজন চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকার বলেন, তাঁরা কোনো সংঘর্ষ চাননি। তাঁর দাবি, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা গিয়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আমির হামজার সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদেই গণ অধিকার পরিষদ কর্মসূচি পালন করছিল। জামায়াত যে অভিযোগ করছে, তা ভিত্তিহীন এবং বিষয়টি তাঁদের ওপর চাপানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া শহরে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জামায়াতের পক্ষ থেকে মামলা করার কথা জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় এমপি আমির হামজার গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর

Update Time : ১০:০৩:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

কুষ্টিয়ায় আমির হামজার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে শহরের থানাপাড়া জামে মসজিদের সামনে ছয় রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা কাজ করেন।

জেলা জামায়াতের আমির খন্দকার এ কে এম আলী মহসীন অভিযোগ করেন, গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা আমির হামজার গাড়িতে হামলা করেছেন। তাঁর দাবি, হামলাকারীদের সঙ্গে বিএনপির ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরাও ছিলেন। ইটের আঘাতে গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে যায় বলে তিনি জানান। তবে আমির হামজা আঘাত পাননি এবং তিনি নিজ বাসায় আছেন বলে জানান জামায়াতের এই নেতা।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, আমির হামজার একটি বক্তব্যের প্রতিবাদে গণ অধিকার পরিষদ ছয় রাস্তার মোড়ে সমাবেশ করছিল। সন্ধ্যার দিকে আমির হামজা গাড়িতে করে ওই এলাকা দিয়ে বাসার দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় সমাবেশ থেকে স্লোগান দেওয়া হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরে ইটপাটকেল ছোড়াছুড়িতে গাড়ির কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আরও পড়ুন  গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের নেতাদের সাক্ষাৎ

ঘটনার পর আমির হামজাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে তাঁর সমর্থকেরা হেঁটে বাড়ির দিকে নিয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় পাঁচ মিনিট পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলেই ছিল এবং ভাঙচুরের ঘটনা হঠাৎ ঘটে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এদিকে গণ অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন দাবি করেছেন, তাঁদের কর্মসূচি শেষে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা হামলা চালান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এতে গণ অধিকার পরিষদের বহু নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। সংগঠনটির কুষ্টিয়া জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী

ঘটনার পর শহরের হাইস্কুল মার্কেটে গণ অধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে। পরে একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়েও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া সাংবাদিকদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজন চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  জামায়াত বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য রাজপথে থাকবে, হামিদুর রহমান আযাদ

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকার বলেন, তাঁরা কোনো সংঘর্ষ চাননি। তাঁর দাবি, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা গিয়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আমির হামজার সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদেই গণ অধিকার পরিষদ কর্মসূচি পালন করছিল। জামায়াত যে অভিযোগ করছে, তা ভিত্তিহীন এবং বিষয়টি তাঁদের ওপর চাপানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া শহরে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জামায়াতের পক্ষ থেকে মামলা করার কথা জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।