ঢাকা ১১:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ভাটারা সড়ক দুর্ঘটনা: ৩২ বছরের সাজ্জাদের মর্মান্তিক মৃত্যু Logo মেকআপ করা কি সত্যিই ত্বকের জন্য ক্ষতিকর জানুন আসল তথ্য Logo বার সাবান নাকি বডি ওয়াশ ত্বকের জন্য কোনটি ভালো Logo দ্য অডিসি: দুর্দান্ত আয়ে ভাঙল R-rated সিনেমার রেকর্ড Logo ফেরদৌস স্টিলে ১০ শ্রমিকের মৃত্যু কারণ অনুসন্ধানে মিলল বিষাক্ত গ্যাস Logo অর্পিতার রেস্তোরাঁয় চমকপ্রদ দাম, মাছ ১০ হাজার থেকে পানীয় লাখে Logo জঙ্গল দক্ষিণ পাহাড়তলী, বড় উদ্যোগে রুখবে পাহাড় দখল Logo সালমান শাহকে ঘিরে ভক্তদের আবেগের গল্প নিয়ে নির্মিত ‘লাভ ৯৬’ Logo ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে চট্টগ্রামের ২৮ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছয়টি বন্ধ Logo অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামছে বাংলাদেশ!

অর্পিতার রেস্তোরাঁয় চমকপ্রদ দাম, মাছ ১০ হাজার থেকে পানীয় লাখে

মুম্বাইয়ের পশ্চিম খারে অর্পিতার বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ ‘মার্সি’। | ছবি: সংগৃহীত

অর্পিতার রেস্তোরাঁ ‘মার্সি’ এখন মুম্বাইয়ের পশ্চিম খারের অন্যতম আলোচিত বিলাসবহুল খাবারের ঠিকানা। বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের বোন অর্পিতা খান ২০২৫ সালের শুরুর দিকে এই রেস্তোরাঁ চালু করেন। অভিনয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকলেও তারকাখ্যাতির কারণে অর্পিতাকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ বরাবরই বেশি। সেই আগ্রহের সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে তার রেস্তোরাঁর আকাশছোঁয়া মেনু। এখানে সাধারণ খাবারের পাশাপাশি এমন কিছু পদ ও পানীয় রয়েছে, যার দাম শুনলে অনেকেরই চোখ কপালে উঠতে পারে। মাছের একটি পদ কিনতেই যেখানে খরচ হতে পারে প্রায় ১০ হাজার টাকা, সেখানে সবচেয়ে দামি পানীয়ের দাম পৌঁছেছে লাখের ঘরে।

অর্পিতার রেস্তোরাঁ ‘মার্সি’তে খাবারের তালিকায় রয়েছে ভারতীয়, এশীয় ও ইউরোপীয় নানা ধরনের পদ। রেস্তোরাঁটি চালুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই ভোজনরসিকদের নজরে আসে। তবে এখানে খেতে গেলে শুধু খাবারের স্বাদ নয়, মেনুতে থাকা দামের দিকেও নজর দিতে হয়। কারণ, বেশ কিছু খাবারের মূল্য সাধারণ রেস্তোরাঁর তুলনায় অনেক বেশি। এর মধ্যে অন্যতম ‘সল্ট ক্রাস্টেড রেড স্ন্যাপার’। বিশেষভাবে প্রস্তুত করা এই মাছের পদের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার টাকা। অর্থাৎ একবার এই পদ অর্ডার করতেই একজনের একটি উল্লেখযোগ্য অঙ্কের টাকা খরচ হয়ে যেতে পারে। একই দামের আরেকটি আকর্ষণীয় পদ হলো ‘ট্রাফল পাস্তা ফ্রম হুইল’।

সামুদ্রিক খাবারের তালিকাতেও রয়েছে বেশ কিছু দামি পদ। এর মধ্যে ‘তেরিয়াকি স্যামন’-এর দাম প্রায় চার হাজার টাকা। বিশেষ উপকরণ ও পরিবেশনের কারণে বিলাসবহুল রেস্তোরাঁয় এ ধরনের খাবারের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। তবে ‘মার্সি’র আকর্ষণ শুধু খাবারেই সীমাবদ্ধ নয়। রেস্তোরাঁটির পানীয়ের তালিকাতেও রয়েছে এমন কিছু নাম, যেগুলোর দাম সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে এর শ্যাম্পেন ও রেড ওয়াইনের দাম। সবচেয়ে দামি শ্যাম্পেনের একটি বোতলের দাম প্রায় দুই লাখ টাকা। অর্থাৎ একটি বোতল পানীয়ের পেছনে যে অর্থ খরচ হয়, তা দিয়ে অনেকের মাসের পর মাসের সংসার খরচ চালানো সম্ভব।

রেস্তোরাঁটির পানীয় তালিকায় রেড ওয়াইনও রয়েছে বেশ চড়া দামে। একটি বোতলের মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বলে জানা গেছে। খাবারের সঙ্গে এমন বিলাসবহুল পানীয় পরিবেশনের কারণে ‘মার্সি’ সাধারণ রেস্তোরাঁর চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা দিতে চায়। এখানে মূল আকর্ষণ শুধু পেট ভরানো নয়; বরং পরিবেশ, খাবারের উপস্থাপন, বিশেষ উপকরণ এবং অভিজাত ডাইনিং অভিজ্ঞতার সমন্বয়। ফলে মুম্বাইয়ে যারা বিলাসবহুল খাবারের অভিজ্ঞতা নিতে চান, তাদের জন্য জায়গাটি দ্রুত পরিচিত হয়ে উঠেছে। দাম যতই বেশি হোক, বিশেষ অভিজ্ঞতার জন্য নির্দিষ্ট শ্রেণির ভোজনরসিকদের কাছে এ ধরনের রেস্তোরাঁর আলাদা আবেদন থাকে।

অর্পিতা খান নিজে অভিনয়জগতের মানুষ নন। তবে তার পারিবারিক পরিচয়ের কারণে ছোটবেলা থেকেই তিনি বলিউডের আলোচনায় রয়েছেন। তিনি সালমান খানের বোন এবং অভিনেতা আয়ুষ শর্মার স্ত্রী। ২০১৪ সালে আয়ুষের সঙ্গে বিয়ের পর থেকে দুজনকে প্রায়ই বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক আয়োজনে একসঙ্গে দেখা যায়। আয়ুষ শর্মা অভিনয় করেছেন একাধিক সিনেমায় এবং সালমান খানের সঙ্গে ‘অন্তিম: দ্য ফাইনাল ট্রুথ’ ছবিতেও অভিনয় করেছেন। অর্পিতা ও আয়ুষের দুই সন্তান—আহিল ও আয়াত। অভিনয়ে না থেকেও ব্যবসার মাধ্যমে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করার চেষ্টা করছেন অর্পিতা।

তার রেস্তোরাঁ ব্যবসায় প্রবেশও সেই প্রচেষ্টারই একটি অংশ। ‘মার্সি’কে ঘিরে অল্প সময়ের মধ্যেই যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তার পেছনে যেমন অর্পিতার পরিচিতি কাজ করেছে, তেমনি কাজ করছে রেস্তোরাঁটির অভিজাত পরিবেশ ও ব্যতিক্রমী মেনু। বিশেষ করে ১০ হাজার টাকার মাছ কিংবা দুই লাখ টাকার শ্যাম্পেনের মতো দাম মানুষের কৌতূহল বাড়িয়ে দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তারকাদের ব্যবসা নিয়ে আলোচনা নতুন কিছু নয়। তবে খাবারের চেয়ে কোনো কোনো পানীয়ের দাম যখন লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়, তখন সেটি স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। সব মিলিয়ে অর্পিতার ‘মার্সি’ শুধু একটি রেস্তোরাঁ নয়, বরং মুম্বাইয়ের বিলাসবহুল ডাইনিং সংস্কৃতির একটি আলোচিত নাম হয়ে উঠছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাটারা সড়ক দুর্ঘটনা: ৩২ বছরের সাজ্জাদের মর্মান্তিক মৃত্যু

অর্পিতার রেস্তোরাঁয় চমকপ্রদ দাম, মাছ ১০ হাজার থেকে পানীয় লাখে

Update Time : ০৯:৫৬:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

অর্পিতার রেস্তোরাঁ ‘মার্সি’ এখন মুম্বাইয়ের পশ্চিম খারের অন্যতম আলোচিত বিলাসবহুল খাবারের ঠিকানা। বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের বোন অর্পিতা খান ২০২৫ সালের শুরুর দিকে এই রেস্তোরাঁ চালু করেন। অভিনয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকলেও তারকাখ্যাতির কারণে অর্পিতাকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ বরাবরই বেশি। সেই আগ্রহের সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে তার রেস্তোরাঁর আকাশছোঁয়া মেনু। এখানে সাধারণ খাবারের পাশাপাশি এমন কিছু পদ ও পানীয় রয়েছে, যার দাম শুনলে অনেকেরই চোখ কপালে উঠতে পারে। মাছের একটি পদ কিনতেই যেখানে খরচ হতে পারে প্রায় ১০ হাজার টাকা, সেখানে সবচেয়ে দামি পানীয়ের দাম পৌঁছেছে লাখের ঘরে।

অর্পিতার রেস্তোরাঁ ‘মার্সি’তে খাবারের তালিকায় রয়েছে ভারতীয়, এশীয় ও ইউরোপীয় নানা ধরনের পদ। রেস্তোরাঁটি চালুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই ভোজনরসিকদের নজরে আসে। তবে এখানে খেতে গেলে শুধু খাবারের স্বাদ নয়, মেনুতে থাকা দামের দিকেও নজর দিতে হয়। কারণ, বেশ কিছু খাবারের মূল্য সাধারণ রেস্তোরাঁর তুলনায় অনেক বেশি। এর মধ্যে অন্যতম ‘সল্ট ক্রাস্টেড রেড স্ন্যাপার’। বিশেষভাবে প্রস্তুত করা এই মাছের পদের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার টাকা। অর্থাৎ একবার এই পদ অর্ডার করতেই একজনের একটি উল্লেখযোগ্য অঙ্কের টাকা খরচ হয়ে যেতে পারে। একই দামের আরেকটি আকর্ষণীয় পদ হলো ‘ট্রাফল পাস্তা ফ্রম হুইল’।

আরও পড়ুন  পূর্ণিমার শৈশবের ছবি: আবেগঘন পোস্টে মুগ্ধ ভক্তরা

সামুদ্রিক খাবারের তালিকাতেও রয়েছে বেশ কিছু দামি পদ। এর মধ্যে ‘তেরিয়াকি স্যামন’-এর দাম প্রায় চার হাজার টাকা। বিশেষ উপকরণ ও পরিবেশনের কারণে বিলাসবহুল রেস্তোরাঁয় এ ধরনের খাবারের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। তবে ‘মার্সি’র আকর্ষণ শুধু খাবারেই সীমাবদ্ধ নয়। রেস্তোরাঁটির পানীয়ের তালিকাতেও রয়েছে এমন কিছু নাম, যেগুলোর দাম সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে এর শ্যাম্পেন ও রেড ওয়াইনের দাম। সবচেয়ে দামি শ্যাম্পেনের একটি বোতলের দাম প্রায় দুই লাখ টাকা। অর্থাৎ একটি বোতল পানীয়ের পেছনে যে অর্থ খরচ হয়, তা দিয়ে অনেকের মাসের পর মাসের সংসার খরচ চালানো সম্ভব।

আরও পড়ুন  সালমানের মাতৃভূমি বড় সংকটে, সেন্সরে মিলছে না ছাড়পত্র

রেস্তোরাঁটির পানীয় তালিকায় রেড ওয়াইনও রয়েছে বেশ চড়া দামে। একটি বোতলের মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বলে জানা গেছে। খাবারের সঙ্গে এমন বিলাসবহুল পানীয় পরিবেশনের কারণে ‘মার্সি’ সাধারণ রেস্তোরাঁর চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা দিতে চায়। এখানে মূল আকর্ষণ শুধু পেট ভরানো নয়; বরং পরিবেশ, খাবারের উপস্থাপন, বিশেষ উপকরণ এবং অভিজাত ডাইনিং অভিজ্ঞতার সমন্বয়। ফলে মুম্বাইয়ে যারা বিলাসবহুল খাবারের অভিজ্ঞতা নিতে চান, তাদের জন্য জায়গাটি দ্রুত পরিচিত হয়ে উঠেছে। দাম যতই বেশি হোক, বিশেষ অভিজ্ঞতার জন্য নির্দিষ্ট শ্রেণির ভোজনরসিকদের কাছে এ ধরনের রেস্তোরাঁর আলাদা আবেদন থাকে।

অর্পিতা খান নিজে অভিনয়জগতের মানুষ নন। তবে তার পারিবারিক পরিচয়ের কারণে ছোটবেলা থেকেই তিনি বলিউডের আলোচনায় রয়েছেন। তিনি সালমান খানের বোন এবং অভিনেতা আয়ুষ শর্মার স্ত্রী। ২০১৪ সালে আয়ুষের সঙ্গে বিয়ের পর থেকে দুজনকে প্রায়ই বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক আয়োজনে একসঙ্গে দেখা যায়। আয়ুষ শর্মা অভিনয় করেছেন একাধিক সিনেমায় এবং সালমান খানের সঙ্গে ‘অন্তিম: দ্য ফাইনাল ট্রুথ’ ছবিতেও অভিনয় করেছেন। অর্পিতা ও আয়ুষের দুই সন্তান—আহিল ও আয়াত। অভিনয়ে না থেকেও ব্যবসার মাধ্যমে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করার চেষ্টা করছেন অর্পিতা।

আরও পড়ুন  ‘তোমাকে সব সময় ভালোবাসি’—জন্মদিনে স্বামীর বার্তায় যা লিখলেন পূর্ণিমা

তার রেস্তোরাঁ ব্যবসায় প্রবেশও সেই প্রচেষ্টারই একটি অংশ। ‘মার্সি’কে ঘিরে অল্প সময়ের মধ্যেই যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তার পেছনে যেমন অর্পিতার পরিচিতি কাজ করেছে, তেমনি কাজ করছে রেস্তোরাঁটির অভিজাত পরিবেশ ও ব্যতিক্রমী মেনু। বিশেষ করে ১০ হাজার টাকার মাছ কিংবা দুই লাখ টাকার শ্যাম্পেনের মতো দাম মানুষের কৌতূহল বাড়িয়ে দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তারকাদের ব্যবসা নিয়ে আলোচনা নতুন কিছু নয়। তবে খাবারের চেয়ে কোনো কোনো পানীয়ের দাম যখন লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়, তখন সেটি স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। সব মিলিয়ে অর্পিতার ‘মার্সি’ শুধু একটি রেস্তোরাঁ নয়, বরং মুম্বাইয়ের বিলাসবহুল ডাইনিং সংস্কৃতির একটি আলোচিত নাম হয়ে উঠছে।