ঢাকা ১২:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোপন ভিডিও: স্টার সিনেপ্লেক্সে যুবক আটক

গোপন ভিডিও ধারণের অভিযোগে যুবক আটক। | ছবি: সংগৃহীত

গোপন ভিডিও ধারণের অভিযোগে চট্টগ্রামের দুই নম্বর গেইট এলাকার ফিনলে স্কয়ারে অবস্থিত স্টার সিনেপ্লেক্স থেকে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় জিতু পাল (২৩) নামের ওই যুবকের বিরুদ্ধে ওয়াশরুমে এক নারীর ভিডিও ধারণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি গত সাত-আট মাস ধরে ওই সিনেপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে সেখানে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে এক নারী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সিনেমা দেখতে ফিনলে স্কয়ারের স্টার সিনেপ্লেক্সে যান। একপর্যায়ে তিনি ওয়াশরুমে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি সন্দেহজনকভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ভিডিও ধারণের চেষ্টা হচ্ছে বলে দেখতে পান। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই নারী তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করেন এবং জিতু পালকে হাতেনাতে আটক করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে ঘটনাস্থলে থাকা অন্য লোকজনও সেখানে জড়ো হন।

এরপর উপস্থিত ব্যক্তিরা জিতু পালের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করেন বলে জানা গেছে। তাঁদের অভিযোগ, ফোনটিতে ওই নারীর গোপনে ধারণ করা ভিডিও পাওয়া যায়। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে আরও কয়েকজন নারীর ভিডিও ধারণ করা হয়েছে—এমন কিছু ভিডিওও মোবাইলে পাওয়া গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব ভিডিও কীভাবে ধারণ করা হয়েছিল, সেগুলোর সঙ্গে আটক যুবকের সম্পৃক্ততা কতটা এবং সেগুলো আদৌ অপরাধের প্রমাণ কি না—এসব বিষয় এখন পুলিশের তদন্তের আওতায় রয়েছে।

ঘটনার পর আশপাশের লোকজন পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পাঁচলাইশ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জিতু পালকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি যাচাই-বাছাই করছে বলে জানা গেছে। ফোনে থাকা ভিডিওগুলোর উৎস, ধারণের সময় এবং ঘটনার সঙ্গে সেগুলোর সম্পর্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা কী এবং এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি মোবাইল ফোনে পাওয়া তথ্য ও ভিডিওগুলোও পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রমাণ যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এখন পর্যন্ত আটক যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো চূড়ান্ত তথ্য পুলিশ দেয়নি। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানা পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। একই সঙ্গে মোবাইল ফোনে থাকা তথ্য যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বের করার চেষ্টা চলছে। একটি বিনোদনকেন্দ্রের ওয়াশরুমের মতো ব্যক্তিগত জায়গায় এমন অভিযোগ সামনে আসায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত শেষে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপন ভিডিও: স্টার সিনেপ্লেক্সে যুবক আটক

Update Time : ০৯:১৭:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

গোপন ভিডিও ধারণের অভিযোগে চট্টগ্রামের দুই নম্বর গেইট এলাকার ফিনলে স্কয়ারে অবস্থিত স্টার সিনেপ্লেক্স থেকে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় জিতু পাল (২৩) নামের ওই যুবকের বিরুদ্ধে ওয়াশরুমে এক নারীর ভিডিও ধারণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি গত সাত-আট মাস ধরে ওই সিনেপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে সেখানে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে এক নারী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সিনেমা দেখতে ফিনলে স্কয়ারের স্টার সিনেপ্লেক্সে যান। একপর্যায়ে তিনি ওয়াশরুমে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি সন্দেহজনকভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ভিডিও ধারণের চেষ্টা হচ্ছে বলে দেখতে পান। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই নারী তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করেন এবং জিতু পালকে হাতেনাতে আটক করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে ঘটনাস্থলে থাকা অন্য লোকজনও সেখানে জড়ো হন।

আরও পড়ুন  বিরোধী দলের ওপর স্বৈরাচারের ভূত আছর করেছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এরপর উপস্থিত ব্যক্তিরা জিতু পালের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করেন বলে জানা গেছে। তাঁদের অভিযোগ, ফোনটিতে ওই নারীর গোপনে ধারণ করা ভিডিও পাওয়া যায়। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে আরও কয়েকজন নারীর ভিডিও ধারণ করা হয়েছে—এমন কিছু ভিডিওও মোবাইলে পাওয়া গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব ভিডিও কীভাবে ধারণ করা হয়েছিল, সেগুলোর সঙ্গে আটক যুবকের সম্পৃক্ততা কতটা এবং সেগুলো আদৌ অপরাধের প্রমাণ কি না—এসব বিষয় এখন পুলিশের তদন্তের আওতায় রয়েছে।

ঘটনার পর আশপাশের লোকজন পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পাঁচলাইশ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জিতু পালকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি যাচাই-বাছাই করছে বলে জানা গেছে। ফোনে থাকা ভিডিওগুলোর উৎস, ধারণের সময় এবং ঘটনার সঙ্গে সেগুলোর সম্পর্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা কী এবং এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  ছুরিকাঘাতে আহত পুলিশ: চট্টগ্রামে আসামি ধরতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর হামলা

পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি মোবাইল ফোনে পাওয়া তথ্য ও ভিডিওগুলোও পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রমাণ যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এখন পর্যন্ত আটক যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো চূড়ান্ত তথ্য পুলিশ দেয়নি। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  গ্রাম পুলিশের চুল কাটা নিয়ে ফরিদপুরে তোলপাড় ও আইনি ব্যবস্থার নির্দেশ

এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানা পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। একই সঙ্গে মোবাইল ফোনে থাকা তথ্য যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বের করার চেষ্টা চলছে। একটি বিনোদনকেন্দ্রের ওয়াশরুমের মতো ব্যক্তিগত জায়গায় এমন অভিযোগ সামনে আসায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত শেষে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।