ব্লেক লাইভলি হলিউডের এমন এক তারকা, যাঁর পরিচিতি শুধু অভিনয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গসিপ গার্লের সেরেনা ভ্যান ডার উডসেন চরিত্র তাঁকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দিলেও পরে সিনেমা, প্রযোজনা, ব্যবসা ও ফ্যাশন—বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। ২৫ আগস্ট জন্মদিনে ৩৯ বছরে পা দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। একই সঙ্গে তাঁর সম্পদের পরিমাণ নিয়েও চলছে আলোচনা। বিভিন্ন প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৩৭০ কোটি টাকার কাছাকাছি। তবে এ ধরনের সম্পদের হিসাব অনুমাননির্ভর, আনুষ্ঠানিকভাবে নিরীক্ষিত নয়।
১৯৮৭ সালের ২৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে জন্ম ব্লেকের। তাঁর জন্মনাম ব্লেক এলেন্ডার ব্রাউন। বাবা আর্নি লাইভলি ছিলেন অভিনেতা ও পরিচালক, আর মা এলেইন লাইভলি কাজ করতেন ট্যালেন্ট স্কাউট হিসেবে। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের পরিবেশে বেড়ে উঠলেও ব্লেক প্রথমে অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেওয়ার বিষয়ে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না। ১০ বছর বয়সে বাবার পরিচালনায় স্যান্ডম্যান ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। এরপর ২০০৫ সালের দ্য সিস্টারহুড অব দ্য ট্রাভেলিং প্যান্টস তাঁকে তরুণ দর্শকদের কাছে পরিচিত করে।
তবে ব্লেক লাইভলির ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে ২০০৭ সালে গসিপ গার্ল সিরিজের মাধ্যমে। ছয় মৌসুমে সেরেনা ভ্যান ডার উডসেন চরিত্রে অভিনয় করে তিনি রাতারাতি আন্তর্জাতিক তারকা হয়ে ওঠেন। সেরেনার ফ্যাশন, জীবনযাপন ও সম্পর্ক তখন তরুণ দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহের বিষয় ছিল। একই সময় ব্লেকের ব্যক্তিগত ফ্যাশন সেন্সও তাঁকে স্টাইল আইকনে পরিণত করে। পরে দ্য টাউন, দ্য এজ অব অ্যাডালিন, দ্য শ্যালোস, আ সিম্পল ফেভার এবং অ্যানাদার সিম্পল ফেভারের মতো কাজে নিজের অভিনয়ের পরিসর আরও বাড়ান তিনি।
ব্যক্তিজীবনেও ব্লেকের জীবন কম আলোচিত নয়। ২০১১ সালে গ্রিন ল্যান্টার্ন ছবিতে রায়ান রেনল্ডসের সঙ্গে অভিনয়ের সময় তাঁদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে বিয়ে করেন তাঁরা। বর্তমানে তাঁদের চার সন্তান। অভিনয়ের পাশাপাশি ব্লেক ব্যবসাতেও যুক্ত হয়েছেন। ২০১৪ সালে প্রিজার্ভ নামে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করলেও সেটি পরের বছর বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০২১ সালে বেটি বাজ নামে নন-অ্যালকোহলিক ড্রিংক মিক্সার ব্র্যান্ড চালু করেন তিনি। এসব উদ্যোগ তাঁর তারকা পরিচয়ের বাইরে ব্যবসায়ী হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা তুলে ধরে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্লেক লাইভলির নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ইট এন্ডস উইথ আস ঘিরে। ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিতে জাস্টিন বালডোনির সঙ্গে অভিনয় করেন তিনি। ছবিটির প্রচারণার সময় দুই পক্ষের মধ্যে সৃজনশীল মতপার্থক্য ও সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে ব্লেক বালডোনির বিরুদ্ধে অস্বস্তিকর ও বৈরী কর্মপরিবেশের অভিযোগ তোলেন। বালডোনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বিরোধকে সৃজনশীল নিয়ন্ত্রণ ও প্রযোজনাসংক্রান্ত মতপার্থক্যের সঙ্গে যুক্ত করেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৬ সালের মে মাসে বিরোধের অবশিষ্ট দাবিগুলো আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি হয়। ফলে অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ নেই।
ব্লেকের ক্যারিয়ারে বিতর্ক অবশ্য এখানেই শেষ নয়। বিয়ের ভেন্যু হিসেবে দক্ষিণ ক্যারোলাইনার একটি সাবেক প্লান্টেশন বেছে নেওয়া নিয়েও সমালোচনা হয়েছিল। ২০২০ সালে ব্লেক ও রায়ান এ সিদ্ধান্তের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বর্ণবাদবিরোধী একটি সংগঠনে ২ লাখ ডলার অনুদান দেন। অন্যদিকে প্রিজার্ভের একটি ফ্যাশন সম্পাদকীয় নিয়েও সমালোচনা হয়েছিল। সব বিতর্কের মধ্যেও ব্লেকের ক্যারিয়ার থেমে থাকেনি। অভিনেত্রী, প্রযোজক, উদ্যোক্তা ও ফ্যাশন আইকন—বিভিন্ন পরিচয়ে তিনি নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। তাই গসিপ গার্লের সেরেনা হিসেবে শুরু হওয়া যাত্রা আজ তাঁকে হলিউডের বহুমাত্রিক তারকায় পরিণত করেছে।























