কৃতি শ্যাননকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে একটি রাখিবন্ধনের বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে। একটি গয়নার ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনে রাখি উৎসব উদ্যাপনের সময় কৃতির পোশাক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। এবার সেই বিতর্কে সরাসরি মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন অভিনেত্রী ও বিজেপির সংসদ সদস্য কঙ্গনা রনৌত। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে কৃতির পোশাক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর মন্তব্যের পর বিষয়টি আরও বেশি আলোচনায় এসেছে।
রাখিবন্ধন উপলক্ষে তৈরি ওই বিজ্ঞাপনে কৃতি শ্যাননকে ইন্দো-ওয়েস্টার্ন পোশাকে দেখা গেছে। বিজ্ঞাপনের গল্পে ভাইয়ের হাতে রাখি বাঁধতে দেখা যায় অভিনেত্রীকে। তবে তাঁর পোশাকের কিছু অংশ অনাবৃত থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি অংশ আপত্তি জানিয়েছে। বিজ্ঞাপন প্রকাশের পর থেকেই কৃতিকে নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য ও ট্রল ছড়িয়ে পড়ে। কেউ পোশাকটিকে অনুষ্ঠানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলেছেন, আবার কেউ ব্যক্তিগত পছন্দের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
এর মধ্যেই কঙ্গনা রনৌত নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে বিষয়টি নিয়ে মতামত দেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, নারীদের সামনে যখন শাড়ি, লেহেঙ্গা, সালোয়ার-কামিজ, জিনস কিংবা অন্যান্য পোশাকের মতো অসংখ্য বিকল্প রয়েছে, তখন ভাইকে রাখি বাঁধার মতো পারিবারিক অনুষ্ঠানে এমন পোশাক বেছে নেওয়ার প্রয়োজন কেন হলো। কঙ্গনা তাঁর বক্তব্যে বিকিনি ও অন্তর্বাসের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। একই সঙ্গে বিজ্ঞাপনটি ইচ্ছাকৃতভাবে অদ্ভুতভাবে তৈরি করা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
কঙ্গনার এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র হয়েছে। একদল ব্যবহারকারী তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করে কৃতির বিজ্ঞাপনের সমালোচনা করছেন। অন্যদিকে আরেকটি অংশ মনে করছে, পোশাকের ভিত্তিতে একজন নারীকে বিচার করা উচিত নয় এবং বিজ্ঞাপনটি একটি সৃজনশীল উপস্থাপনা হিসেবেই দেখা দরকার। ফলে কৃতি শ্যাননের বিজ্ঞাপন এখন শুধু একটি ব্র্যান্ড প্রচারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ব্যক্তিগত পছন্দ, পোশাক ও সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে নতুন বিতর্কের জায়গা তৈরি করেছে।
এদিকে কঙ্গনা রনৌত নিজেও সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক মন্তব্যের কারণে আলোচনায় রয়েছেন। জেন-জি প্রজন্ম নিয়ে তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করেছিলেন অভিনেতা সোনু সুদ, বাবা রামদেবসহ কয়েকজন। পরে তাঁদের সমালোচনার জবাবও দেন কঙ্গনা। আশুতোষ রানা, সোনু সুদ, তাপসী পান্নু ও বাবা রামদেবের মতো ব্যক্তিদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, তাঁর সমালোচকদের কেউই তাঁর সাফল্যের এক শতাংশও অর্জন করেননি। তাই তাঁদের কাছ থেকে কোনো ধরনের উপদেশ গ্রহণে তিনি আগ্রহী নন বলে মন্তব্য করেন।
সব মিলিয়ে কৃতি শ্যাননের রাখিবন্ধনের বিজ্ঞাপনকে ঘিরে তৈরি বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে কঙ্গনার মন্তব্যের পর। তবে বিজ্ঞাপনটি নিয়ে সমালোচনা যেমন রয়েছে, তেমনি কৃতির পোশাক ও ব্যক্তিগত পছন্দের পক্ষে অবস্থান নেওয়া মানুষের সংখ্যাও কম নয়। ফলে শেষ পর্যন্ত বিতর্কটি শুধু একটি বিজ্ঞাপনের পোশাক নিয়ে নয়, বরং উৎসবের উপযোগী পোশাক, নারীর স্বাধীনতা এবং বিজ্ঞাপনের সৃজনশীল উপস্থাপন—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে বড় আলোচনায় পরিণত হয়েছে।























