মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও সফর স্থগিত হওয়ায় উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এক আকস্মিক প্রশাসনিক ও সামাজিক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ জন্মভূমিতে যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা হয়। আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্ট দুই দিনের এই বহুল প্রতীক্ষিত সফর ঘিরে পুরো জেলাজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল। স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের আশা ছিল তাদের প্রিয় সন্তানকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজেদের মাঝে বরণ করে নেওয়ার। তবে মঙ্গলবারের হঠাৎ এই সিদ্ধান্তে ঠাকুরগাঁওবাসী কিছুটা হতাশ হলেও পরবর্তী সূচির অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও সফর স্থগিত করার সিদ্ধান্তটি গত সোমবার এক আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও সার্বিক পরিবেশ প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের প্রটোকল শাখা থেকে পাঠানো প্রথম নির্দেশনার ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করছিল। রাষ্ট্রপতির থাকার স্থান, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং যাতায়াতের ব্যবস্থা সহ সকল আনুষঙ্গিক আয়োজন তদারকি করা হচ্ছিল। জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল হকের নেতৃত্বে বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তর দিনরাত কাজ করে সফরটি সফল করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু মঙ্গলবার বিকেলে প্রটোকল শাখার নতুন বার্তায় স্থগিতের খবর পৌঁছালে যাবতীয় কার্যক্রম আপাতত থমকে দাঁড়ায়।
মঙ্গলবার বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রফিকুল হক আনুষ্ঠানিকভাবে সফর বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান যে আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্টের নির্ধারিত সফরটি অনিবার্য কারণে সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে এবং সফর স্থগিত হলেও যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে প্রশাসনিক প্রস্তুতি বজায় রাখার কথা জানিয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্র এবং বার্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও সফর স্থগিত হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদে বাতিল করা হয়নি, বরং সময়ের সমন্বয় করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে এক নতুন সফরসূচি চূড়ান্ত করে জেলা প্রশাসনে পাঠানো হবে। নতুন তারিখ ঘোষিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থগিত থাকা সকল তোড়জোড় পুনরায় পূর্ণ গতিতে শুরু হবে। মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তামূলক এবং পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি অনেক দূর এগিয়ে থাকায় নতুন সূচি অনুযায়ী কাজ শেষ করা তুলনামূলক সহজ ও দ্রুত হবে।
পরিশেষে বলা যায়, মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও সফর স্থগিত হওয়ার ঘোষণা সাময়িকভাবে এক ধরনের নীরবতা তৈরি করলেও স্থানীয়দের উৎসাহে বিন্দুমাত্র চিড় ধরেনি। নতুন সূচি ঘোষণার পর আবার নতুন উদ্যমে প্রস্তুত হবে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজপথ ও জেলা প্রশাসন। উত্তরবঙ্গের আপামর জনগণের এখন একটাই প্রতীক্ষা—দ্রুত নতুন তারিখ ঘোষণা করা হোক এবং রাষ্ট্রপতিকে নিজ জন্মভূমিতে সাড়ম্বরে বরণ করে নেওয়া হোক।


























