ঢাকা ১১:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

চাল ধোয়া কতবার উচিত? বেশি ধুলে যে ক্ষতি হতে পারে

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:১৪:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১২

ভাত রান্নার আগে চাল পরিষ্কার করার সাধারণ পদ্ধতি। অতিরিক্ত পানি ব্যবহার না করে সঠিকভাবে চাল ধোয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।ছবি: সংগৃহীত

চাল ধোয়া কতবার উচিত—এ নিয়ে অনেকের রান্নাঘরেই রয়েছে আলাদা অভ্যাস। কেউ দুবার ধুয়েই রান্না করেন, আবার কেউ পানি একেবারে স্বচ্ছ না হওয়া পর্যন্ত পাঁচ, ছয় কিংবা সাতবারও চাল ধুয়ে নেন। তবে বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, চালের পানি পুরোপুরি স্বচ্ছ না হওয়া পর্যন্ত বারবার ধোয়া জরুরি নয়।

সাধারণভাবে দু-তিনবার ভালোভাবে চাল ধুয়ে নেওয়াই যথেষ্ট হতে পারে। চাল ধোয়ার প্রধান উদ্দেশ্য হলো এর গায়ে থাকা ধুলো-ময়লা এবং অতিরিক্ত স্টার্চের কিছু অংশ দূর করা। তাই পানিতে সামান্য ঘোলাভাব থাকলেই চাল অপরিষ্কার—এমন ধারণা ঠিক নয়। চালের স্বাভাবিক স্টার্চের কারণেও ধোয়ার পানি ঘোলা হতে পারে।

দক্ষিণ এশিয়ার অনেক পরিবারে চাল ধোয়ার সময় বারবার পানি পরিবর্তনের প্রচলন রয়েছে। কিন্তু পাঁচ-সাতবার চাল ধুলে সেটি যে আরও পরিষ্কার বা নিরাপদ হবে, এমন কোনো সাধারণ নিশ্চয়তা নেই। বরং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ধোয়ার ফলে পানিতে দ্রবণীয় কিছু পুষ্টি উপাদান কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বিশেষ করে আয়রন, ফোলেট, থায়ামিন ও নিয়াসিনের মতো কিছু পুষ্টি উপাদান পানির সঙ্গে আংশিকভাবে বেরিয়ে যেতে পারে। তবে এর পরিমাণ সব ধরনের চালে একই নয়। চালের ধরন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রান্নার পদ্ধতির ওপর পুষ্টি কমার মাত্রা নির্ভর করতে পারে। তাই শুধু পানি স্বচ্ছ করার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে চাল ধোয়া ভালো অভ্যাস নয়।

চাল ধোয়া নিয়ে আরেকটি প্রচলিত ধারণা হলো, যত বেশি চাল ধোয়া হবে, তত বেশি আর্সেনিক দূর হবে। বাস্তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়। চালের আর্সেনিকের মাত্রা কমানোর ক্ষেত্রে শুধু ধোয়ার সংখ্যার ওপর নির্ভর না করে রান্নার পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু ক্ষেত্রে বেশি পানিতে চাল রান্না করে অতিরিক্ত পানি ফেলে দেওয়ার পদ্ধতি আর্সেনিক কমাতে সহায়তা করতে পারে।

তাই প্রতিদিনের রান্নায় অপ্রয়োজনীয়ভাবে পাঁচ-সাতবার চাল ধোয়ার প্রয়োজন নেই। ভালোভাবে দু-তিনবার ধুয়ে পরিষ্কার পানি দিয়ে রান্না করাই সাধারণভাবে যথেষ্ট। এতে চাল পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি পানির অপচয় কমানো এবং পানিতে দ্রবণীয় পুষ্টি উপাদান অপ্রয়োজনীয়ভাবে হারানোর ঝুঁকিও কমানো যায়।

চাল ধোয়ার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক রান্নার পদ্ধতি। চালের পানি একেবারে কাচের মতো স্বচ্ছ না হলেও দুশ্চিন্তার কারণ নেই। পরিবারের প্রয়োজন, চালের ধরন এবং রান্নার পদ্ধতি অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে পরিষ্কার করে রান্না করাই ভালো। কোনো নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত কারণে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন হলে পুষ্টিবিদ বা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হারিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রামের শতবর্ষী ‘জগত চন্দ্র মহাজনের পান্থশালা’

চাল ধোয়া কতবার উচিত? বেশি ধুলে যে ক্ষতি হতে পারে

Update Time : ০৯:১৪:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

চাল ধোয়া কতবার উচিত—এ নিয়ে অনেকের রান্নাঘরেই রয়েছে আলাদা অভ্যাস। কেউ দুবার ধুয়েই রান্না করেন, আবার কেউ পানি একেবারে স্বচ্ছ না হওয়া পর্যন্ত পাঁচ, ছয় কিংবা সাতবারও চাল ধুয়ে নেন। তবে বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, চালের পানি পুরোপুরি স্বচ্ছ না হওয়া পর্যন্ত বারবার ধোয়া জরুরি নয়।

সাধারণভাবে দু-তিনবার ভালোভাবে চাল ধুয়ে নেওয়াই যথেষ্ট হতে পারে। চাল ধোয়ার প্রধান উদ্দেশ্য হলো এর গায়ে থাকা ধুলো-ময়লা এবং অতিরিক্ত স্টার্চের কিছু অংশ দূর করা। তাই পানিতে সামান্য ঘোলাভাব থাকলেই চাল অপরিষ্কার—এমন ধারণা ঠিক নয়। চালের স্বাভাবিক স্টার্চের কারণেও ধোয়ার পানি ঘোলা হতে পারে।

আরও পড়ুন  দাম্পত্য কলহ: শান্তির কার্যকর ইসলামী নির্দেশনা

দক্ষিণ এশিয়ার অনেক পরিবারে চাল ধোয়ার সময় বারবার পানি পরিবর্তনের প্রচলন রয়েছে। কিন্তু পাঁচ-সাতবার চাল ধুলে সেটি যে আরও পরিষ্কার বা নিরাপদ হবে, এমন কোনো সাধারণ নিশ্চয়তা নেই। বরং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ধোয়ার ফলে পানিতে দ্রবণীয় কিছু পুষ্টি উপাদান কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বিশেষ করে আয়রন, ফোলেট, থায়ামিন ও নিয়াসিনের মতো কিছু পুষ্টি উপাদান পানির সঙ্গে আংশিকভাবে বেরিয়ে যেতে পারে। তবে এর পরিমাণ সব ধরনের চালে একই নয়। চালের ধরন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রান্নার পদ্ধতির ওপর পুষ্টি কমার মাত্রা নির্ভর করতে পারে। তাই শুধু পানি স্বচ্ছ করার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে চাল ধোয়া ভালো অভ্যাস নয়।

আরও পড়ুন  যোগদানের ৬ দিন পর বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন প্রত্যাহার

চাল ধোয়া নিয়ে আরেকটি প্রচলিত ধারণা হলো, যত বেশি চাল ধোয়া হবে, তত বেশি আর্সেনিক দূর হবে। বাস্তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়। চালের আর্সেনিকের মাত্রা কমানোর ক্ষেত্রে শুধু ধোয়ার সংখ্যার ওপর নির্ভর না করে রান্নার পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু ক্ষেত্রে বেশি পানিতে চাল রান্না করে অতিরিক্ত পানি ফেলে দেওয়ার পদ্ধতি আর্সেনিক কমাতে সহায়তা করতে পারে।

তাই প্রতিদিনের রান্নায় অপ্রয়োজনীয়ভাবে পাঁচ-সাতবার চাল ধোয়ার প্রয়োজন নেই। ভালোভাবে দু-তিনবার ধুয়ে পরিষ্কার পানি দিয়ে রান্না করাই সাধারণভাবে যথেষ্ট। এতে চাল পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি পানির অপচয় কমানো এবং পানিতে দ্রবণীয় পুষ্টি উপাদান অপ্রয়োজনীয়ভাবে হারানোর ঝুঁকিও কমানো যায়।

আরও পড়ুন  সারাদিন এসিতে থাকেন? চুলের এই ক্ষতি জানলে অবাক হবেন

চাল ধোয়ার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক রান্নার পদ্ধতি। চালের পানি একেবারে কাচের মতো স্বচ্ছ না হলেও দুশ্চিন্তার কারণ নেই। পরিবারের প্রয়োজন, চালের ধরন এবং রান্নার পদ্ধতি অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে পরিষ্কার করে রান্না করাই ভালো। কোনো নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত কারণে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন হলে পুষ্টিবিদ বা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।