নেপাল বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৫টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত বাগমতী প্রদেশ পুলিশের হেটৌডা কার্যালয় থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ এই আকস্মিক বন্যায় আরও ৯৩ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে দুর্গত এলাকা ও নদীর তীরে আটকে পড়া ৯৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে।
নেপাল বন্যার মূল ধাক্কা শুরু হয় দেশটির উত্তরাঞ্চলের রাসুয়া সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে। ভোতে কোশি নদীতে হঠাৎ করে পানির প্রবল স্রোত তৈরি হয়ে তা দ্রুত ভাটির দিকে নেমে আসে। এতে রাসুয়া ছাড়াও নুয়াকোট, ধাদিং ও চিতওয়ান জেলার বিভিন্ন নদীতীরবর্তী এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে স্থানীয় প্রশাসন ভোতে কোশির পানি বাড়ার কারণে ত্রিশূলী নদীর নিম্নাঞ্চলেও সতর্কতা জারি করেছিল।
প্রবল স্রোতের কারণে নদীর আশপাশের বসতি, সড়ক, বাজার ও বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতির মুখে পড়েছে। রাসুয়া জেলার টিমুরে ও স্যাব্রুবেশীসহ কয়েকটি এলাকায় বন্যার পানিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রশাসন নদীতে থাকা মানুষ, জেলে এবং নদীর তীরে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় downstream এলাকাগুলোতেও সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
নেপাল বন্যায় উদ্ধার তৎপরতায় নেপাল সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী ও নেপাল পুলিশকে মাঠে নামানো হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজ অনেক জায়গায় কঠিন হয়ে পড়েছে। তারপরও আটকে পড়া মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া, আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং নিখোঁজদের সন্ধানে একাধিক দল কাজ করছে। প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও নিজেদের মতো করে উদ্ধার ও সহায়তার কাজে যুক্ত হয়েছেন।
বন্যার কারণ নিয়েও বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। প্রাথমিকভাবে তিব্বত অংশে ভূমিধস বা বরফ-পাথরের ধসের কারণে নদীপথে বাধা তৈরি হয়ে পরে আকস্মিকভাবে পানি নেমে আসার সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে। তবে এর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানায়নি কর্তৃপক্ষ। রয়টার্সের প্রতিবেদনে সম্ভাব্য ভূমিকম্প-প্ররোচিত বরফ-পাথরের ধসের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে উজানে কোনো বাধা থাকলে নতুন করে পানির ঢল নামার ঝুঁকি রয়েছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
নেপাল বন্যার সর্বশেষ পরিস্থিতিতে এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে উদ্ধার, চিকিৎসা ও ত্রাণ কার্যক্রমে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে নেওয়া হচ্ছে। নদীর তীরবর্তী মানুষকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির আরও পরিবর্তন হলে হতাহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বদলাতে পারে। তাই স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ। সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ ও নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের আপডেট অনুসরণ করা জরুরি।




























