ঢাকা ০৬:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যাংক ক্যাশিয়ার থেকে ‘সিআইডি’র এসিপি প্রদ্যুমন এক অনন্য যাত্রা

  • Mahmudul Hasan
  • Update Time : ১১:১৩:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫২৮

ব্যাংক ক্যাশিয়ার থেকে টিভির কিংবদন্তি

ভারতীয় টেলিভিশনের ইতিহাসে কিছু চরিত্র সময়ের সীমানা পেরিয়ে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছে, আর সেই তালিকায় প্রথম সারিতেই থাকবে সিআইডির এসিপি প্রদ্যুমন। এই চরিত্রে অভিনয় করে শিবাজী সাটম হয়ে উঠেছেন কোটি দর্শকের প্রিয় মুখ। তাঁর দৃঢ় কণ্ঠ, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি আর বিখ্যাত সংলাপ আজও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে। অথচ এই তারকার শুরুটা ছিল একেবারেই ভিন্ন একজন সাধারণ ব্যাংক কর্মী হিসেবে। অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসাই তাঁকে নিয়ে গেছে এমন এক উচ্চতায়, যেখানে তিনি নিজেই হয়ে উঠেছেন একটি প্রতিষ্ঠান।

শিবাজী সাটম এসিপি প্রদ্যুমন চরিত্রে সিআইডি সিরিয়ালের দৃশ্য
ব্যাংক ক্যাশিয়ার থেকে টিভির কিংবদন্তি

 

শিবাজি শতম তাঁর ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন একটি স্থির ও নিরাপদ পেশা দিয়ে। তিনি সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়ায় তে ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করতেন এবং দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছর ব্যাংকিং পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি ইন্সপেকশন অফিসার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তবে অফিসের নিয়মমাফিক জীবনের বাইরেও তাঁর মনে ছিল অন্যরকম এক টান থিয়েটার আর অভিনয়ের প্রতি গভীর আগ্রহ। ধীরে ধীরে সেই আগ্রহই তাঁকে মঞ্চে টেনে আনে, আর সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর অভিনয়জীবনের নতুন অধ্যায়।

আরও পড়ুন  পরীমণির মন্তব্যে ভাইরাল বাগেরহাট কুমিরের ঘটনা | কুকুর নিয়ে ভিডিওতে তোলপাড়

 

অভিনয়ের জগতে প্রবেশটা সহজ ছিল না শিবাজি শতমের জন্য। তবে প্রখ্যাত অভিনেতা নানা পাটেকরের এর উৎসাহে তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। ১৯৮৮ সালে‘পেস্টনজি সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর অভিষেক ঘটে। এরপর একে একে ‘বাস্তব’, ‘চায়না গেট’, ‘যশবন্ত’, ‘ট্যাক্সি নম্বর ৯২১১’, ‘গুলাম-ই-মুস্তাফা’সহ বহু জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেন। যদিও তিনি কখনো মূল নায়ক ছিলেন না, তবুও তাঁর প্রতিটি চরিত্রেই ছিল আলাদা শক্তি ও গভীরতা, যা দর্শকদের নজর কাড়ে বারবার।

আরও পড়ুন  ১৬ বছর বয়সে পালিয়ে বিয়ে—সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো এক নারীর অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের গল্প

 

১৯৯৮ সালের ২১ জানুয়ারি শুরু হওয়া সিআইডি সিরিয়ালই শিবাজি শতমের জীবনের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট। শুরুতে তিনি সিনিয়র ইন্সপেক্টর হিসেবে উপস্থিত হলেও পরে হয়ে ওঠেন এসিপি প্রদ্যুমন। মজার বিষয় হলো, এত দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সিরিজে তাঁর পদোন্নতি প্রায় হয়নি বললেই চলে। কিন্তু পদবি নয়, চরিত্রের গভীরতাই তাঁকে আলাদা করে তোলে। তাঁর সংলাপ, তদন্তের ধরন এবং দলের নেতৃত্ব দেওয়ার ভঙ্গি দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নেয়। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন পুরো শোর প্রাণকেন্দ্র।

 

শিবাজি শতম শুধু অভিনয় করেননি, তিনি যেন এসিপি প্রদ্যুমন চরিত্রটিকেই নিজের মধ্যে ধারণ করেছিলেন। দুই দশকের বেশি সময় ধরে একই চরিত্রে অভিনয় করেও একঘেয়েমি আসেনি বরং সময়ের সঙ্গে চরিত্রটি আরও জনপ্রিয় হয়েছে। দর্শকদের ভালোবাসা এতটাই প্রবল ছিল যে মাঝেমধ্যে শো বন্ধ বা বিরতির পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা যায়নি। তাঁর উপস্থিতি ছাড়া ‘সিআইডি’ কল্পনা করাও কঠিন হয়ে উঠেছিল দর্শকদের কাছে। 

আরও পড়ুন  তাহলে কি শেষ হচ্ছে ‘এটা আমাদেরই গল্প’?

 

২০২৪ সালে নতুনভাবে ফিরে আসে সিআইডি ২, যা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয় নতুন আগ্রহ। তবে কাস্ট পরিবর্তন এবং এসিপি প্রদ্যুমন চরিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা গুঞ্জনও শোনা যায়। কখনো বলা হয় চরিত্রটি শেষ হয়ে যাচ্ছে, আবার কখনো ফিরে আসার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এই অনিশ্চয়তাই যেন দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেয়। কারণ, এসিপি প্রদ্যুমন শুধু একটি চরিত্র নয় তিনি দর্শকদের স্মৃতির অংশ হয়ে গেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যাংক ক্যাশিয়ার থেকে ‘সিআইডি’র এসিপি প্রদ্যুমন এক অনন্য যাত্রা

Update Time : ১১:১৩:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ভারতীয় টেলিভিশনের ইতিহাসে কিছু চরিত্র সময়ের সীমানা পেরিয়ে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছে, আর সেই তালিকায় প্রথম সারিতেই থাকবে সিআইডির এসিপি প্রদ্যুমন। এই চরিত্রে অভিনয় করে শিবাজী সাটম হয়ে উঠেছেন কোটি দর্শকের প্রিয় মুখ। তাঁর দৃঢ় কণ্ঠ, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি আর বিখ্যাত সংলাপ আজও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে। অথচ এই তারকার শুরুটা ছিল একেবারেই ভিন্ন একজন সাধারণ ব্যাংক কর্মী হিসেবে। অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসাই তাঁকে নিয়ে গেছে এমন এক উচ্চতায়, যেখানে তিনি নিজেই হয়ে উঠেছেন একটি প্রতিষ্ঠান।

শিবাজী সাটম এসিপি প্রদ্যুমন চরিত্রে সিআইডি সিরিয়ালের দৃশ্য
ব্যাংক ক্যাশিয়ার থেকে টিভির কিংবদন্তি

 

শিবাজি শতম তাঁর ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন একটি স্থির ও নিরাপদ পেশা দিয়ে। তিনি সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়ায় তে ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করতেন এবং দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছর ব্যাংকিং পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি ইন্সপেকশন অফিসার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তবে অফিসের নিয়মমাফিক জীবনের বাইরেও তাঁর মনে ছিল অন্যরকম এক টান থিয়েটার আর অভিনয়ের প্রতি গভীর আগ্রহ। ধীরে ধীরে সেই আগ্রহই তাঁকে মঞ্চে টেনে আনে, আর সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর অভিনয়জীবনের নতুন অধ্যায়।

আরও পড়ুন  মুক্তির আগেই বড় ধাক্কা—ফাঁস হলো ‘জন নায়গন’ বিপাকে থালাপতি বিজয়

 

অভিনয়ের জগতে প্রবেশটা সহজ ছিল না শিবাজি শতমের জন্য। তবে প্রখ্যাত অভিনেতা নানা পাটেকরের এর উৎসাহে তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। ১৯৮৮ সালে‘পেস্টনজি সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর অভিষেক ঘটে। এরপর একে একে ‘বাস্তব’, ‘চায়না গেট’, ‘যশবন্ত’, ‘ট্যাক্সি নম্বর ৯২১১’, ‘গুলাম-ই-মুস্তাফা’সহ বহু জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেন। যদিও তিনি কখনো মূল নায়ক ছিলেন না, তবুও তাঁর প্রতিটি চরিত্রেই ছিল আলাদা শক্তি ও গভীরতা, যা দর্শকদের নজর কাড়ে বারবার।

আরও পড়ুন  তাহলে কি শেষ হচ্ছে ‘এটা আমাদেরই গল্প’?

 

১৯৯৮ সালের ২১ জানুয়ারি শুরু হওয়া সিআইডি সিরিয়ালই শিবাজি শতমের জীবনের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট। শুরুতে তিনি সিনিয়র ইন্সপেক্টর হিসেবে উপস্থিত হলেও পরে হয়ে ওঠেন এসিপি প্রদ্যুমন। মজার বিষয় হলো, এত দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সিরিজে তাঁর পদোন্নতি প্রায় হয়নি বললেই চলে। কিন্তু পদবি নয়, চরিত্রের গভীরতাই তাঁকে আলাদা করে তোলে। তাঁর সংলাপ, তদন্তের ধরন এবং দলের নেতৃত্ব দেওয়ার ভঙ্গি দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নেয়। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন পুরো শোর প্রাণকেন্দ্র।

 

শিবাজি শতম শুধু অভিনয় করেননি, তিনি যেন এসিপি প্রদ্যুমন চরিত্রটিকেই নিজের মধ্যে ধারণ করেছিলেন। দুই দশকের বেশি সময় ধরে একই চরিত্রে অভিনয় করেও একঘেয়েমি আসেনি বরং সময়ের সঙ্গে চরিত্রটি আরও জনপ্রিয় হয়েছে। দর্শকদের ভালোবাসা এতটাই প্রবল ছিল যে মাঝেমধ্যে শো বন্ধ বা বিরতির পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা যায়নি। তাঁর উপস্থিতি ছাড়া ‘সিআইডি’ কল্পনা করাও কঠিন হয়ে উঠেছিল দর্শকদের কাছে। 

আরও পড়ুন  পরীমণির মন্তব্যে ভাইরাল বাগেরহাট কুমিরের ঘটনা | কুকুর নিয়ে ভিডিওতে তোলপাড়

 

২০২৪ সালে নতুনভাবে ফিরে আসে সিআইডি ২, যা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয় নতুন আগ্রহ। তবে কাস্ট পরিবর্তন এবং এসিপি প্রদ্যুমন চরিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা গুঞ্জনও শোনা যায়। কখনো বলা হয় চরিত্রটি শেষ হয়ে যাচ্ছে, আবার কখনো ফিরে আসার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এই অনিশ্চয়তাই যেন দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেয়। কারণ, এসিপি প্রদ্যুমন শুধু একটি চরিত্র নয় তিনি দর্শকদের স্মৃতির অংশ হয়ে গেছেন।