নেপাল বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে দেশটির মধ্যাঞ্চলে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠেছে। বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২ জনে পৌঁছেছে। একই ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন ৫৭৯ জন পর্যটক। তাঁদের মধ্যে ৪০০ জনের বেশি বিদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে। পাহাড়ি এলাকায় টানা বৃষ্টি ও আকস্মিক পানির প্রবাহে একের পর এক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পর্যটকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নেপাল বন্যা পরিস্থিতিতে নিখোঁজদের সন্ধানে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে দেশটির সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দল। হেলিকপ্টারের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের উদ্ধার সরঞ্জাম ব্যবহার করে দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৫৪ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ১০৫ জন রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এবং যোগাযোগব্যবস্থার কারণে উদ্ধারকাজে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।
বন্যা ও ভূমিধসের আঘাতে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গতদের কাছে দ্রুত খাবার, পানি ও জরুরি সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে উঠেছে। পাহাড়ি ঢল ও মাটিধসের কারণে বেশ কিছু এলাকায় নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ফলে উদ্ধারকর্মীদের সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পক্ষ থেকে দুর্গতদের জন্য ৫ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এই সহায়তা জরুরি উদ্ধার ও মানবিক কার্যক্রমে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকদের সন্ধান এবং দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষের নিরাপদ উদ্ধারে এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে নেপালের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী তিব্বতের গিরং কাউন্টিতেও ভয়াবহ বন্যার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে বন্যায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে ৫৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ফলে সীমান্তের দুই পাশেই তৈরি হয়েছে বড় ধরনের মানবিক সংকট। একই অঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধসের প্রভাব পড়ায় উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকারী দল পাঠানোর পাশাপাশি নিখোঁজদের সন্ধানে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে নেপাল বন্যা এখন দেশটির অন্যতম বড় দুর্যোগ পরিস্থিতিতে পরিণত হয়েছে। প্রাণহানির পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষ ও পর্যটক নিখোঁজ থাকায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা সচল করা এবং দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এখন জরুরি হয়ে উঠেছে। উদ্ধার অভিযান যত এগোবে, ক্ষয়ক্ষতি ও নিখোঁজদের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে নতুন করে বন্যা বা ভূমিধসের আশঙ্কা থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।



























