ঢাকা ০৮:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ পরশ ও তার স্ত্রী নাহিদ সুলতানার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৭:২৩:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৪

শেখ পরশের, স্ত্রী নাহিদ সুলতানার বিদেশযাত্রায় আদালতের আদেশ| ছবি: সংগৃহীত

শেখ পরশের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। মানিলন্ডারিং ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ এবং তার স্ত্রী নাহিদ সুলতানার বিদেশ গমনে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। আদালতের এ সিদ্ধান্তের ফলে অনুসন্ধান চলাকালে তারা দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গন ও আইন-আদালত সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

দুদকের পক্ষ থেকে শেখ পরশ ও তার স্ত্রীর বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়। সংস্থাটির উপপরিচালক এ কে এম মাহবুবর রহমান এ আবেদন করেন। আবেদনে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এসব লেনদেনের সঙ্গে মানিলন্ডারিং এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়।

দুদকের আবেদনে আরও বলা হয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান এখনো চলমান। অনুসন্ধানের সময় বিভিন্ন তথ্য ও নথি সংগ্রহ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে গোপন সূত্রে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার কথা আদালতকে জানিয়েছে দুদক। সংস্থাটির আশঙ্কা, তারা দেশের বাইরে চলে গেলে অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং অন্যান্য কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই অনুসন্ধানের স্বার্থে বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আদালতের আদেশের পর শেখ পরশ ও নাহিদ সুলতানার বিদেশযাত্রার বিষয়ে নতুন আইনি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা সাধারণত কোনো অভিযোগের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়; বরং চলমান অনুসন্ধান বা তদন্তের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য আদালতের একটি আইনি ব্যবস্থা হিসেবে নেওয়া হতে পারে। এ কারণে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম, অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য এবং ভবিষ্যতে দুদকের পক্ষ থেকে নেওয়া পদক্ষেপের ওপর বিষয়টির পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করবে।

মানিলন্ডারিং মামলার অনুসন্ধানে ব্যাংক লেনদেন, সম্পদের উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হতে পারে। শেখ পরশের ক্ষেত্রে তার নিজের এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে বলে দুদকের আবেদনে জানানো হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতের চূড়ান্ত রায়ে নির্ধারিত হয়নি। অনুসন্ধান শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

শেখ পরশ ও নাহিদ সুলতানার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞার এই আদেশকে চলমান অনুসন্ধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিদেশ যাওয়ার সুযোগ সীমিত থাকবে। এখন দুদকের অনুসন্ধানে কী তথ্য উঠে আসে এবং অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর থাকবে। একই সঙ্গে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ পরশ ও তার স্ত্রী নাহিদ সুলতানার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত

Update Time : ০৭:২৩:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

শেখ পরশের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। মানিলন্ডারিং ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ এবং তার স্ত্রী নাহিদ সুলতানার বিদেশ গমনে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। আদালতের এ সিদ্ধান্তের ফলে অনুসন্ধান চলাকালে তারা দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গন ও আইন-আদালত সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

দুদকের পক্ষ থেকে শেখ পরশ ও তার স্ত্রীর বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়। সংস্থাটির উপপরিচালক এ কে এম মাহবুবর রহমান এ আবেদন করেন। আবেদনে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এসব লেনদেনের সঙ্গে মানিলন্ডারিং এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়।

আরও পড়ুন  পকেট খরচ বাঁচিয়ে ৩০০ অসহায় মানুষকে খাওয়ালেন তরুণেরা

দুদকের আবেদনে আরও বলা হয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান এখনো চলমান। অনুসন্ধানের সময় বিভিন্ন তথ্য ও নথি সংগ্রহ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে গোপন সূত্রে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার কথা আদালতকে জানিয়েছে দুদক। সংস্থাটির আশঙ্কা, তারা দেশের বাইরে চলে গেলে অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং অন্যান্য কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই অনুসন্ধানের স্বার্থে বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন  দুবাইয়ে গ্রেপ্তার বেনজীরকে শিগগির দেশে আনা হবে

আদালতের আদেশের পর শেখ পরশ ও নাহিদ সুলতানার বিদেশযাত্রার বিষয়ে নতুন আইনি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা সাধারণত কোনো অভিযোগের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়; বরং চলমান অনুসন্ধান বা তদন্তের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য আদালতের একটি আইনি ব্যবস্থা হিসেবে নেওয়া হতে পারে। এ কারণে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম, অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য এবং ভবিষ্যতে দুদকের পক্ষ থেকে নেওয়া পদক্ষেপের ওপর বিষয়টির পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করবে।

মানিলন্ডারিং মামলার অনুসন্ধানে ব্যাংক লেনদেন, সম্পদের উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হতে পারে। শেখ পরশের ক্ষেত্রে তার নিজের এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে বলে দুদকের আবেদনে জানানো হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতের চূড়ান্ত রায়ে নির্ধারিত হয়নি। অনুসন্ধান শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

আরও পড়ুন  মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বৃদ্ধি করেছে সরকার।

শেখ পরশ ও নাহিদ সুলতানার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞার এই আদেশকে চলমান অনুসন্ধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিদেশ যাওয়ার সুযোগ সীমিত থাকবে। এখন দুদকের অনুসন্ধানে কী তথ্য উঠে আসে এবং অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর থাকবে। একই সঙ্গে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।