ঢাকা ০৮:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

হাম মৃত্যু নিয়ে নতুন উদ্বেগ, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ জনের মৃত্যু

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৭:১৩:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৪

হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগী। ছবি: সংগৃহীত

হাম মৃত্যু নিয়ে দেশে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৯৮ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৩ জনের। বুধবার (২৬ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

হাম মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় শিশুদের প্রাণহানি। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৯ শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৫০ জনে। ফলে সংক্রামক এই রোগের বিস্তার নিয়ে নতুন করে সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

গত কয়েক মাসে দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৩৬ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৬৫১। অর্থাৎ বিপুলসংখ্যক মানুষ হাম বা হামের মতো উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের আওতায় এসেছে।

হাম আক্রান্ত রোগীদের বড় একটি অংশকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব বলছে, এই সময়ে মোট ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৬৫ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। তবে নতুন করে আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া কিংবা শরীরে লালচে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে উপসর্গ দেখা দিলে তাদের অন্যদের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখা এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

হাম মৃত্যু কমাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে সময়মতো শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং টিকাদান। অভিভাবকদের শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে এবং কোনো উপসর্গ দেখা দিলে নিজেরা ওষুধ না দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি, রোগী শনাক্তকরণ এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত আপডেট অনুসরণ করাও জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সিএনজি চালক বিল্লাল হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোজাম্মেল গ্রেফতার

হাম মৃত্যু নিয়ে নতুন উদ্বেগ, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ জনের মৃত্যু

Update Time : ০৭:১৩:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

হাম মৃত্যু নিয়ে দেশে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৯৮ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৩ জনের। বুধবার (২৬ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

হাম মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় শিশুদের প্রাণহানি। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৯ শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৫০ জনে। ফলে সংক্রামক এই রোগের বিস্তার নিয়ে নতুন করে সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতীয় হাইকমিশনারেরসঙ্গে প্রথমবার সৌজন্য সাক্ষাৎ আজ

গত কয়েক মাসে দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৩৬ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৬৫১। অর্থাৎ বিপুলসংখ্যক মানুষ হাম বা হামের মতো উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের আওতায় এসেছে।

হাম আক্রান্ত রোগীদের বড় একটি অংশকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব বলছে, এই সময়ে মোট ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৬৫ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। তবে নতুন করে আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন  সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণ: যুক্তরাষ্ট্রে বিস্ফোরক ডায়রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া কিংবা শরীরে লালচে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে উপসর্গ দেখা দিলে তাদের অন্যদের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখা এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন  ফিলিপাইন ও অস্ট্রেলিয়ায় অত্যন্ত সংক্রামক এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাব

হাম মৃত্যু কমাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে সময়মতো শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং টিকাদান। অভিভাবকদের শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে এবং কোনো উপসর্গ দেখা দিলে নিজেরা ওষুধ না দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি, রোগী শনাক্তকরণ এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত আপডেট অনুসরণ করাও জরুরি।