ঢাকা ০৪:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ সাইবার আইন

  • Kamrun Nahar Sumi
  • Update Time : ০৪:৪৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন সাইবার আইন কার্যকর হচ্ছে।

অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ সাইবার আইন অনুযায়ী ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে কোনো ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করলে দ্রুত তদন্ত ও বিচার করা হবে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, এই ধরনের অপরাধে ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে।মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ-এর প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত উত্তরে তিনি এ তথ্য জানান। নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী এ বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করলে মন্ত্রী সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইনি ব্যবস্থা তুলে ধরেন।

মন্ত্রী জানান, অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ সাইবার আইন অনুযায়ী কেউ যদি গোপনে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় বা হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি করে, তাহলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এসব অপরাধ সাইবার স্পেসে প্রতারণা হিসেবেও গণ্য হতে পারে। তিনি আরও বলেন, নতুন সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ অনুযায়ী তদন্ত দ্রুত শেষ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ডিজিটাল ফরেনসিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ভিডিওর উৎস ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন  গোপনে তথ্য সংগ্রহ করছে ক্রোম ব্রাউজারের ১০৮ এক্সটেনশন

অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ সাইবার আইন ও শাস্তির বিধান

অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ সাইবার আইন অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। তবে ভুক্তভোগী যদি নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু হয়, তাহলে শাস্তি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হতে পারে। এছাড়া ভিডিও ব্যবহার করে কাউকে ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করলে তা সাইবার স্পেসে প্রতারণা হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

আরও পড়ুন  আজ সকাল থেকে বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা

সরকার জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ সাইবার আইন বাস্তবায়নে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জাতীয় সাইবার সুরক্ষা সংস্থা এবং সাইবার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষতিকর কনটেন্ট শনাক্ত করে দ্রুত অপসারণে কাজ করবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিকর ভিডিও বা কনটেন্ট ব্লক করার ক্ষমতাও রাখবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদেশ থেকে পরিচালিত অপরাধও শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন  অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য দুঃসংবাদ! প্লে স্টোরের ৫০টি অ্যাপে ভয়ংকর ম্যালওয়্যার

সরকার বলছে, অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ সাইবার আইন আরও কার্যকর করতে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ, আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গোপনে ভিডিও ধারণ ও অপব্যবহারজনিত অপরাধ দ্রুত শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ সাইবার আইন

Update Time : ০৪:৪৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ সাইবার আইন অনুযায়ী ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে কোনো ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করলে দ্রুত তদন্ত ও বিচার করা হবে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, এই ধরনের অপরাধে ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে।মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ-এর প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত উত্তরে তিনি এ তথ্য জানান। নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী এ বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করলে মন্ত্রী সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইনি ব্যবস্থা তুলে ধরেন।

মন্ত্রী জানান, অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ সাইবার আইন অনুযায়ী কেউ যদি গোপনে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় বা হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি করে, তাহলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এসব অপরাধ সাইবার স্পেসে প্রতারণা হিসেবেও গণ্য হতে পারে। তিনি আরও বলেন, নতুন সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ অনুযায়ী তদন্ত দ্রুত শেষ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ডিজিটাল ফরেনসিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ভিডিওর উৎস ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন  মেটায় বড় ছাঁটাই: ৮ হাজার কর্মী হারাতে পারেন চাকরি

অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ সাইবার আইন ও শাস্তির বিধান

অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ সাইবার আইন অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। তবে ভুক্তভোগী যদি নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু হয়, তাহলে শাস্তি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হতে পারে। এছাড়া ভিডিও ব্যবহার করে কাউকে ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করলে তা সাইবার স্পেসে প্রতারণা হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

আরও পড়ুন  অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য দুঃসংবাদ! প্লে স্টোরের ৫০টি অ্যাপে ভয়ংকর ম্যালওয়্যার

প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা

সরকার জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ সাইবার আইন বাস্তবায়নে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জাতীয় সাইবার সুরক্ষা সংস্থা এবং সাইবার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষতিকর কনটেন্ট শনাক্ত করে দ্রুত অপসারণে কাজ করবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিকর ভিডিও বা কনটেন্ট ব্লক করার ক্ষমতাও রাখবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদেশ থেকে পরিচালিত অপরাধও শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন  এআই’র ‘বিপজ্জনক শক্তি’ বুঝতে পারছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কোনদিকে যাচ্ছে বিশ্ব

সরকার বলছে, অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ সাইবার আইন আরও কার্যকর করতে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ, আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গোপনে ভিডিও ধারণ ও অপব্যবহারজনিত অপরাধ দ্রুত শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।