ঘুমের মধ্যে লালা পড়া অনেক বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রেই একটি পরিচিত দৃশ্য হলেও এটি সবসময় সাধারণ বিষয় নয়। হঠাৎ বা নিয়মিত মুখ থেকে অতিরিক্ত থুথু বা লালা ঝরার পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে একাধিক শারীরিক জটিলতা। সাধারণ অ্যালার্জি থেকে শুরু করে নাকের ব্লকেজ কিংবা পেটের তীব্র অ্যাসিডিটির কারণে রাতে এই সমস্যা বাড়তে পারে। তাই প্রতি রাতে বালিশ ভিজে যাওয়ার ঘটনাকে সামান্য অবহেলা না করে এর মূল উৎস খুঁজে বের করা অত্যন্ত জরুরি।
শ্বাসনালী ও নাকের বিভিন্ন ইনফেকশন বা সাইনাসের প্রদাহ থাকলে মানুষ ঘুমের সময় মুখ খুলে শ্বাস নিতে বাধ্য হয়। নাক দিয়ে স্বাভাবিক বাতাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে মুখের পেশি শিথিল হয়ে যায়, যা লালা বাইরে গড়িয়ে পড়ার পথ তৈরি করে। এছাড়া দাঁত ও মাড়ির যেকোনো ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের ফলে মুখে অতিরিক্ত লালাগ্রন্থি সক্রিয় হয়ে ওঠে।
হজমজনিত গোলযোগ ও অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিকের কারণে পাকস্থলীর এসিড ওপরে উঠে এলে মুখ প্রাকৃতিকভাবেই বাড়তি লালা তৈরি করে। পাশাপাশি স্ট্রোক বা স্নায়বিক কোনো জটিলতা থাকলে মুখের স্নায়ু ও পেশির ওপর মানুষের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই কমে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, শিশুদের ক্ষেত্রে সেরিব্রাল পালসি এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রেন সংক্রান্ত অসুখে এই লক্ষণটি বেশি দেখা যায়। চিকিৎসা গবেষণার আন্তর্জাতিক তথ্যের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর নির্দেশিকা দেখা যেতে পারে।
রাতে শোবার আগে নিজের কিছু সাধারণ অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলে এই অস্বস্তিকর লালা পড়ার প্রবণতা অনেকটাই কমানো সম্ভব। রাতের খাবারের তালিকায় অতিরিক্ত মসলাযুক্ত ও চর্বি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা স্বাস্থ্যসম্মত পরিপাকের জন্য অনেক উপকারী। ঘুমানোর ঠিক পূর্বে ভালোভাবে দাঁত ব্রাশ করে মুখ পরিষ্কার রাখা নিশ্চিত করলে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ কম হয় এবং লালা ক্ষরণ স্বাভাবিক থাকে।
ঘুমানোর সঠিক ভঙ্গিমা অনুসরণ করাও লালা ঝরা কমানোর অন্যতম কার্যকর একটি কৌশল হতে পারে। চিত হয়ে না শুয়ে একপাশে ফিরে ঘুমানো এবং মাথার নিচে সামান্য উঁচু বালিশ ব্যবহার করলে মুখের ভেতর লালা জমে থাকে না। তবে ঘরোয়া উপায়ে কেবল সাময়িক স্বস্তি মিললেও সমস্যাটির দীর্ঘস্থায়ী নিরাময় নিশ্চিত করতে সঠিক মূল কারণটি চিহ্নিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
দিনশেষে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত লালা ক্ষরণের সমস্যা দেখা দিলে কোনোভাবেই দেরি না করে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে মূল ব্যাধি শনাক্ত করা সম্ভব হলে দ্রুত সুস্থতা লাভ করা যায়। নিয়ম মেনে জীবনযাপন এবং সঠিক চিকিৎসায় ঘুমের মধ্যে লালা পড়া পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।















