এম এ মতিন আর নেই। চিটাগাং উইম্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (CWCCI) উপ-মহাব্যবস্থাপক এম. এ. মতিন সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৯ বছর। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে চিটাগাং উইম্যান চেম্বার পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের মাঝেও তাঁর মৃত্যুতে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
এম এ মতিন ২০০৬ সাল থেকে চিটাগাং উইম্যান চেম্বারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রায় দুই দশকের কর্মজীবনে তিনি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণের কারণে সহকর্মীদের কাছেও তিনি ছিলেন পরিচিত ও আস্থাভাজন একজন কর্মকর্তা। সর্বশেষ তিনি CWCCI-এর উপ-মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দীর্ঘ সময় একই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাঁর কর্মজীবনের বড় একটি অংশই এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল।
CWCCI-এর দায়িত্বের পাশাপাশি এম এ মতিন ILO ProGRESS Project-এর CWCCI অংশেও Program Officer হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন, ব্যবসায়িক সহায়তা এবং বিভিন্ন প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়নে তিনি ভূমিকা রাখেন। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে চিটাগাং উইম্যান চেম্বারের বিভিন্ন কার্যক্রমে তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতা কাজে এসেছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পেও তাঁর অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
হঠাৎ তাঁর চলে যাওয়ার খবরে সহকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নেমে আসে শোক। দীর্ঘদিনের কর্মজীবনে একজন দায়িত্বশীল ও সহযোগিতাপরায়ণ কর্মকর্তা হিসেবে যে সম্পর্ক তিনি তৈরি করেছিলেন, তাঁর অনুপস্থিতি প্রতিষ্ঠানটির জন্য নিঃসন্দেহে একটি শূন্যতা তৈরি করেছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করার কারণে সহকর্মীদের অনেকের সঙ্গেই তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তাঁর মৃত্যু তাই পরিবার ছাড়িয়ে কর্মক্ষেত্রেও গভীর প্রভাব ফেলেছে।
মৃত্যুকালে এম এ মতিন স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে গেছেন। তাঁর পরিবারে নেমে এসেছে অপূরণীয় ক্ষতি। প্রিয়জনকে হারানোর এই কঠিন সময়ে পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন চিটাগাং উইম্যান চেম্বারের নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের কথা স্মরণ করে শোক প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। একজন সহকর্মী হিসেবে তাঁর আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার বিষয়টিও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে।
চিটাগাং উইম্যান চেম্বারের প্রেসিডেন্ট আবিদা মোস্তফা প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, পরিচালক ও সদস্যদের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করার জন্য দোয়া করেছেন। প্রায় দুই দশক ধরে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকা এম এ মতিনের কর্মজীবনের স্মৃতি তাঁর সহকর্মীদের মাঝে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে।



























